৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও বাড়ি ভাঙচুরের বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা ভুক্তভোগী পরিবারের
- আপডেট সময় : ১১:৫৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর পল্লবীর বাইগারটেক এলাকায় পৈতৃক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল, ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং বুলডোজার দিয়ে বসতবাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। রবিবার আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহায়তা কামনা করেছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী।
৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও তাণ্ডব
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জানান, মো. লিয়াকত আলী (প্রিন্সিপাল), মাহবুব আলম শেখ, মো. মানিক ও মো. তুহিনসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর তাঁর বসতজমির বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল রাতে প্রায় ২০০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী বুলডোজার নিয়ে তাঁর পৈতৃক ও ক্রয়কৃত বাড়িতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা বসতবাড়ি ভেঙে প্রায় ১০টি ট্রাকে করে ইট, লোহা, টিন এবং অটো রিকশার ব্যাটারিসহ ভুক্তভোগী ও ভাড়াটিয়াদের আনুমানিক ২ কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর লিয়াকত আলী ও তাঁর ছেলে গোলাম কাওছারের নেতৃত্বে একটি চক্র তাঁর দোকানে ভাঙচুর চালায় এবং ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে।
পুলিশি অবহেলা ও আইনি জটিলতা
ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা এবং পল্লবী থানায় জানানো সত্ত্বেও পুলিশ থেকে আশানুরূপ সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
পরবর্তীতে তিনি দেওয়ানি আদালতে মামলা (নং ৮০/২৬) দায়ের করলে আদালত বিতর্কিত সম্পত্তিতে স্থগিতাদেশ জারি করেন। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় পিটিশন মোকদ্দমা (নং ২০৫/২৬) দায়ের করা হলে আদালত নালিশি সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পল্লবী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। বর্তমানে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের (ডিসি) হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ থাকলেও রাতের আঁধারে জমি দখলের চক্রান্ত ও হুমকি অব্যাহত রয়েছে।
৬ দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন:
১. সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদা দাবির নিরপেক্ষ তদন্ত।
২. আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিতর্কিত সম্পত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।
৩. ৩০ এপ্রিলের বাড়ি ভাঙচুর ও ৯ সেপ্টেম্বরের দোকান ভাঙচুরের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার।
৪. দায়িত্বে অবহেলাকারী সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫. ভুক্তভোগী পরিবার ও ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৬. রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে অপরাধের সত্যতা যাচাইপূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক সংঘাত চাই না। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে পরিবার ও সম্পত্তি রক্ষার অধিকার আমার আছে। আমি আইনের শাসন এবং প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার চাই।”


























