ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাসের সমস্যা ভেবে হার্ট অ্যাটাকের ৪টি নীরব সংকেত অবহেলা করলেই বিপদ Logo এবার জুলাই হত্যা মামলায় কারাগারে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি Logo বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরের মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন রাষ্ট্রপতি Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন : মীর শাহে আলম Logo নিজের নামে টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে যা বললেন মেসি! Logo আফগানিস্তানের ১০ স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা পাকিস্তানের Logo রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী Logo ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুর রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে সস্ত্রীক প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

দুর্নীতির বরপুত্র গণপূর্তের প্রকৌশলী তামজিদ: ভুয়া বিলে সম্পদের পাহাড়’ সঙ্গে গৃহকর্মী ধর্ষণের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর কেটেছে মাত্র ১৩ বছর। আর এই অল্প সময়েই ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল-মেকানিক্যাল (ই-এম) বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেন। জালিয়াতি, টেন্ডার বাণিজ্য ও ভুয়া বিলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগও।

​যেভাবে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালে চাকরিতে প্রবেশের পর থেকেই তামজিদ হোসেন নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের ‘পার্সেন্টেজ’ নেওয়াই ছিল তার অবৈধ আয়ের মূল উৎস। এর বাইরেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার চাঁদাবাজির সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে।

​অঢেল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ

দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত জাদুর কাঠিতে নামে-বেনামে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

​ধানমন্ডি ২৭/১-এ (রবীন্দ্র সরোবর ৮ নম্বর ব্রিজের ঢালে) প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩৫০০ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।

মোহাম্মদপুর পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটির (২৭/১, টেক রোড ৭) শ্বশুর মো. জাহিদ মিয়ার সঙ্গে যৌথ মালিকানায় গড়া প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের ৭ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন।

​রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নিজ ও বেনামে কেনা প্রায় ৩০ একর জমি।

​ধর্ষণের অভিযোগ ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মারাত্মক নৈতিক স্খলনের তথ্যও মিলেছে। নিজ গৃহকর্মী সুফিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ভয়াবহ এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং আইনি ঝামেলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে তিনি প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

​সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা

প্রকৌশলী তামজিদের এসব লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বাকী বিল্লাহ নামের এক ব্যক্তি।

​দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও নৈতিক স্খলনের মতো এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

দুর্নীতির বরপুত্র গণপূর্তের প্রকৌশলী তামজিদ: ভুয়া বিলে সম্পদের পাহাড়’ সঙ্গে গৃহকর্মী ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর কেটেছে মাত্র ১৩ বছর। আর এই অল্প সময়েই ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল-মেকানিক্যাল (ই-এম) বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেন। জালিয়াতি, টেন্ডার বাণিজ্য ও ভুয়া বিলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগও।

​যেভাবে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালে চাকরিতে প্রবেশের পর থেকেই তামজিদ হোসেন নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের ‘পার্সেন্টেজ’ নেওয়াই ছিল তার অবৈধ আয়ের মূল উৎস। এর বাইরেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার চাঁদাবাজির সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে।

​অঢেল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ

দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত জাদুর কাঠিতে নামে-বেনামে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

​ধানমন্ডি ২৭/১-এ (রবীন্দ্র সরোবর ৮ নম্বর ব্রিজের ঢালে) প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩৫০০ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।

মোহাম্মদপুর পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটির (২৭/১, টেক রোড ৭) শ্বশুর মো. জাহিদ মিয়ার সঙ্গে যৌথ মালিকানায় গড়া প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের ৭ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন।

​রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নিজ ও বেনামে কেনা প্রায় ৩০ একর জমি।

​ধর্ষণের অভিযোগ ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মারাত্মক নৈতিক স্খলনের তথ্যও মিলেছে। নিজ গৃহকর্মী সুফিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ভয়াবহ এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং আইনি ঝামেলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে তিনি প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

​সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা

প্রকৌশলী তামজিদের এসব লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বাকী বিল্লাহ নামের এক ব্যক্তি।

​দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও নৈতিক স্খলনের মতো এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।