ঢাকা ০৯:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ




মাদারীপুরে খুনের ঘটনার জেরে বাড়িঘরে লুটপাট, আগুন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০১৯ ১২ বার পড়া হয়েছে

মাদারীপুর প্রতিনিধি;
মাদারীপুরে গত এক মাসে খুন হয়েছে ৪ জন। এসব খুনের ঘটনার জেরে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি, কুলপদ্বি ও ব্রামন্দী এলাকায় কমপক্ষে ২০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এতে করে প্রায় ২০টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে বলে অভিযোগ আছে।

স্থানীয় ও ভূক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার শিমুলতলা এলাকার মোয়াজ্জেম মোল্লা নামে এক ব্যক্তির খুনের ঘটনার জের ধরে ঝাউদী, কুলপদ্বি ও ব্রামন্দী এলাকার প্রায় ২০টি পরিবারের বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও আগুনের জন্য নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। সেই সাথে ব্রামন্দী এলাকা পুরুষশুন্য হয়ে পড়েছে। প্রতিপক্ষ এই সুযোগে নিরীহ লোকজনের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগে করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের ব্রামন্দী গ্রামের সিকিম আলি চৌকিদারের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মাথা গোজার ঠাই নেই। আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে পুরো পরিবার। ঘরের টিভি ফ্রিজ, আলমারি, নগদ টাকা, গরু, ছাগলসহ সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া ঘরের সামনে বিলাপ করছে করছে ক্ষতিগ্রস্থ আছিয়া বেগম।

তিনি বলেন, আমরা মাইর কাইজ্জার (মারামারি) মধ্যে নাই। এরপরও আমাদের বাড়ি ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আগে হারুন মোল্লার সাথে একটু শত্রুতা ছিলো। সেই শত্রুতার কারণে আমাদের ঘরে আগুন দিছে। আমরা জড়িত না, তাই আমাদের কেউ মামলা আসামিও না। আগে আমাদের অনেক কিছু ছিলো এখন অন্যের ঘরে রাতে থাকতে হয়। আমরা এর বিচার চাই।

একই চিত্র কুলপদ্বি ও ঝাউদি, ব্রামন্দীর বিভিন্ন স্থানে। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এই সব এলাকায় কমপক্ষে ২০টি বাড়িতে লুটপাট ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

মাদারীপুর সদর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান বলেন, আমার চেষ্টা করছি দুই পক্ষকেই শান্ত রাখার। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আগুন দেওয়ার ঘটনায় মুল আসামি হারুন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




মাদারীপুরে খুনের ঘটনার জেরে বাড়িঘরে লুটপাট, আগুন

আপডেট সময় : ১১:১২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০১৯

মাদারীপুর প্রতিনিধি;
মাদারীপুরে গত এক মাসে খুন হয়েছে ৪ জন। এসব খুনের ঘটনার জেরে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি, কুলপদ্বি ও ব্রামন্দী এলাকায় কমপক্ষে ২০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এতে করে প্রায় ২০টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে বলে অভিযোগ আছে।

স্থানীয় ও ভূক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার শিমুলতলা এলাকার মোয়াজ্জেম মোল্লা নামে এক ব্যক্তির খুনের ঘটনার জের ধরে ঝাউদী, কুলপদ্বি ও ব্রামন্দী এলাকার প্রায় ২০টি পরিবারের বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও আগুনের জন্য নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। সেই সাথে ব্রামন্দী এলাকা পুরুষশুন্য হয়ে পড়েছে। প্রতিপক্ষ এই সুযোগে নিরীহ লোকজনের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগে করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের ব্রামন্দী গ্রামের সিকিম আলি চৌকিদারের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মাথা গোজার ঠাই নেই। আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে পুরো পরিবার। ঘরের টিভি ফ্রিজ, আলমারি, নগদ টাকা, গরু, ছাগলসহ সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া ঘরের সামনে বিলাপ করছে করছে ক্ষতিগ্রস্থ আছিয়া বেগম।

তিনি বলেন, আমরা মাইর কাইজ্জার (মারামারি) মধ্যে নাই। এরপরও আমাদের বাড়ি ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আগে হারুন মোল্লার সাথে একটু শত্রুতা ছিলো। সেই শত্রুতার কারণে আমাদের ঘরে আগুন দিছে। আমরা জড়িত না, তাই আমাদের কেউ মামলা আসামিও না। আগে আমাদের অনেক কিছু ছিলো এখন অন্যের ঘরে রাতে থাকতে হয়। আমরা এর বিচার চাই।

একই চিত্র কুলপদ্বি ও ঝাউদি, ব্রামন্দীর বিভিন্ন স্থানে। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এই সব এলাকায় কমপক্ষে ২০টি বাড়িতে লুটপাট ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

মাদারীপুর সদর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান বলেন, আমার চেষ্টা করছি দুই পক্ষকেই শান্ত রাখার। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আগুন দেওয়ার ঘটনায় মুল আসামি হারুন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।