ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo স্বল্প বেতনে এলজিইডি গাড়িচালকের সম্পদের অট্টালিকা Logo পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে পরিচালক মীর সাজেদুর রহমানকে ঘিরে প্রশাসনিক অনিয়মের বিতর্ক Logo সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকার সেচ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও বহাল পিডি নুরুল ইসলাম Logo দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’ প্রকাশনা নিয়ে আইনি জটিলতা: হাইকোর্টের রুল: মালিকানা ও সম্পাদনায় বিতর্ক Logo প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আউটসোর্সিং নিয়োগ ঘিরে ২৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের পরিকল্পনা! Logo মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড় Logo ডিএনসিসির প্রকৌশলী আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়ম ও ঠিকাদার হয়রানির অভিযোগ Logo অভিযোগের পাহাড় পেরিয়েও বহাল তবিয়তে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি Logo সওজে পরিচালক ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজাদ সিন্ডিকেটের দূর্নীতির সাম্রাজ্য Logo ঠিকাদারের মুখোশে ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকা লুটের অভিযোগ

বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি ও অনিয়মে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫ ৭৬২ বার পড়া হয়েছে

খুলনা, বটিয়াঘাটা –
বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও অনিয়ম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। জমির দলিল নিবন্ধন, খতিয়ান যাচাই, নামজারি কিংবা সাধারণ কাগজপত্রের নকল সংগ্রহ— সব ক্ষেত্রেই ঘুষ ছাড়া কাজ আদায় করা যেন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

সেবা নিতে আসা একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেছেন, অফিসে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই দালাল চক্র ঘিরে ধরে। এদের মাধ্যম ছাড়া দলিল কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না। সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

একজন ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন বলেন, অফিসের প্রতিটি কর্মকর্তাই দুর্নীতিগ্রস্ত টাকা ছাড়া কেউ কথা বলে না। পাবলিস্টের স্যারের নাম ভাঙ্গিয়ে সবাই গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। তিনি আরও বলেন, “একটা সাধারণ জমি হস্তান্তরের কাজের জন্য আমাকে প্রায় এক সপ্তাহ ঘুরতে হয়েছে। অফিসের লোকজন সরাসরি কিছু বলে না, কিন্তু বুঝিয়ে দেয় – টাকা না দিলে ফাইল এগোবে না। শেষমেশ একজন দালালের মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা দিয়ে কাজটি করাতে হয়েছে।”

অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রারের আশপাশে ঘুরে বেড়ানো কিছু নির্দিষ্ট মুখই মূলত দালাল চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা অফিসের ভেতরকার কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবৈধ সুবিধা আদায়ে সহায়তা করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্নীতির কারণে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানা অজুহাতে দিনের পর দিন ঘুরিয়ে রাখা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) একজন বলেন, “সবকিছু নিয়ম মেনেই চলছে। দালালদের বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে স্থানীয়রা বলছেন, এই ‘অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা’ কথাটি বহু বছর ধরে শুনে আসছি, দেশের দুঃশাসন ও মাফিয়া স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের বদল হলেও বদল হয়নি এই অফিসের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা। কেউ কেউ বদল হলেও যে আসে তিনি একই নিয়মে দুর্নীতির মহড়া চালিয়ে যান। মূলত এই অবস্থা বাস্তবে কোন পরিবর্তন হয়নি।

সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের স্বার্থে বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি ও দালাল চক্র নির্মূলে শিগগিরই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এই বিষয়ে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করছেন জনগণ।

Loading

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি ও অনিয়মে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় : ০১:৩১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫

খুলনা, বটিয়াঘাটা –
বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও অনিয়ম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। জমির দলিল নিবন্ধন, খতিয়ান যাচাই, নামজারি কিংবা সাধারণ কাগজপত্রের নকল সংগ্রহ— সব ক্ষেত্রেই ঘুষ ছাড়া কাজ আদায় করা যেন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

সেবা নিতে আসা একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেছেন, অফিসে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই দালাল চক্র ঘিরে ধরে। এদের মাধ্যম ছাড়া দলিল কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না। সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

একজন ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন বলেন, অফিসের প্রতিটি কর্মকর্তাই দুর্নীতিগ্রস্ত টাকা ছাড়া কেউ কথা বলে না। পাবলিস্টের স্যারের নাম ভাঙ্গিয়ে সবাই গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। তিনি আরও বলেন, “একটা সাধারণ জমি হস্তান্তরের কাজের জন্য আমাকে প্রায় এক সপ্তাহ ঘুরতে হয়েছে। অফিসের লোকজন সরাসরি কিছু বলে না, কিন্তু বুঝিয়ে দেয় – টাকা না দিলে ফাইল এগোবে না। শেষমেশ একজন দালালের মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা দিয়ে কাজটি করাতে হয়েছে।”

অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রারের আশপাশে ঘুরে বেড়ানো কিছু নির্দিষ্ট মুখই মূলত দালাল চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা অফিসের ভেতরকার কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবৈধ সুবিধা আদায়ে সহায়তা করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্নীতির কারণে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানা অজুহাতে দিনের পর দিন ঘুরিয়ে রাখা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) একজন বলেন, “সবকিছু নিয়ম মেনেই চলছে। দালালদের বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে স্থানীয়রা বলছেন, এই ‘অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা’ কথাটি বহু বছর ধরে শুনে আসছি, দেশের দুঃশাসন ও মাফিয়া স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের বদল হলেও বদল হয়নি এই অফিসের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা। কেউ কেউ বদল হলেও যে আসে তিনি একই নিয়মে দুর্নীতির মহড়া চালিয়ে যান। মূলত এই অবস্থা বাস্তবে কোন পরিবর্তন হয়নি।

সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের স্বার্থে বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি ও দালাল চক্র নির্মূলে শিগগিরই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এই বিষয়ে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করছেন জনগণ।

Loading