ঢাকা ০২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিআরটিসিতে দুর্নীতির বরপুত্র চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা Logo শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় Logo বরিশালে গণপূর্তে ঘুষ–চেক কেলেঙ্কারি! Logo ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস্ ক্রাইম রিপোর্টাস সোসাইটির কম্বল ও খাবার বিতরন Logo বাংলাদেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন Logo নাগরিক শোকসভা কাল: সঙ্গে আনতে হবে আমন্ত্রণপত্র Logo উত্তরায় হোটেলে চাঁদা চাওয়ায় সাংবাদিককে গণধোলাই Logo ৩০ লক্ষ টাকায় বনানী ক্লাবের সদস্য হওয়া দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কমিশনার জাকিরের পুনর্বাসন Logo চমেকে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করল দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন Logo তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পাদক-সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

সরিষা মৌসুমে সিরাজগঞ্জে মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫০ টন

প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ
  • আপডেট সময় : ০৩:২৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২২ ৩৫৩ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জের চলনবিলসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার মাঠে মাঠে এখন শোভা পাচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। আর এই সরিষার মাঠের পাশে শত শত মৌ বাক্স বসিয়ে মৌমাছি দিয়ে সংগ্রহ করা হচ্ছে মধু। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ভালো হওয়ায় সরিষার আবাদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মধুর উৎপাদন নিয়ে খুশি খামার মালিকরা। তবে উৎপাদিত মধুর সঠিক বাজারমূল্য না পাওয়ায় লোকসানের কথা জানিয়েছে তারা। লোকসানে কাটাতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি ব্যবসায়ীদের।

উত্তরবঙ্গের সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর এই তিন জেলাজুড়ে বিস্তৃত চলনবিল। বর্ষাকালে এই চলনবিলের চারপাশ পানিতে টইটুম্বুর থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে চলনবিল যেন এক টুকরো হলুদের স্বর্গরাজ্য। চলবিল ছাড়াও জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও এবার সরিষার আবাদ বেড়েছে। আর তাই এখন এলাকাজুড়ে যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ।

এই হলুদরাঙা সরিষার মাঠে মৌমাছি দিয়েই মধু আহরণে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে মৌ চাষিরা। ক্ষেতের পাশে বিশেষভাবে তৈরি শত শত মৌ বাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছে তারা। বিশেষভাবে তৈরি প্রতিটি মৌ বাক্সে ৭ থেকে ৮টি মৌচাক বা কলোনি থাকে। সারাদিন মৌমাছিগুলো সরিষা ফুল থেকে একটু একটু করে মধু সংগ্রহ করে এসব মৌচাকে জমায়। আর মৌয়ালরা ৭ দিন পর পর ধোঁয়ার মাধ্যমে চাক থেকে মৌমাছি সরিয়ে মৌচাকগুলো একটি মেশিনে দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মধু উত্তোলন করে। পড়ে উৎপাদিত মধু বিভিন্ন পাত্রে ভরে পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়।

মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহের ফলে প্রতিটি ফুলে পরাগায়ণ হয়, এতে সরিষার ফলনও বেশি পাওয়া যায় বলে জানায় কৃষকরা।

আদর্শ মৌ খামারের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় মধুর উৎপাদন বেশ ভালো হচ্ছে। তবে সিন্ডিকেটের কারণে মধুর সঠিক দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। মধুর সঠিক দাম নিশ্চিতে সরকারিভাবে বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিও করেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মৌ চাষিদের সুবিধার্থে জেলার উল্লাপাড়া উপজেলায় একটি মধু প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি বছর জেলায় সরিয়ার আবাদ হয়েছে প্রায় ৬৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে, যেখান থেকে মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫০ টন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

সরিষা মৌসুমে সিরাজগঞ্জে মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫০ টন

আপডেট সময় : ০৩:২৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২২

সিরাজগঞ্জের চলনবিলসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার মাঠে মাঠে এখন শোভা পাচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। আর এই সরিষার মাঠের পাশে শত শত মৌ বাক্স বসিয়ে মৌমাছি দিয়ে সংগ্রহ করা হচ্ছে মধু। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ভালো হওয়ায় সরিষার আবাদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মধুর উৎপাদন নিয়ে খুশি খামার মালিকরা। তবে উৎপাদিত মধুর সঠিক বাজারমূল্য না পাওয়ায় লোকসানের কথা জানিয়েছে তারা। লোকসানে কাটাতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি ব্যবসায়ীদের।

উত্তরবঙ্গের সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর এই তিন জেলাজুড়ে বিস্তৃত চলনবিল। বর্ষাকালে এই চলনবিলের চারপাশ পানিতে টইটুম্বুর থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে চলনবিল যেন এক টুকরো হলুদের স্বর্গরাজ্য। চলবিল ছাড়াও জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও এবার সরিষার আবাদ বেড়েছে। আর তাই এখন এলাকাজুড়ে যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ।

এই হলুদরাঙা সরিষার মাঠে মৌমাছি দিয়েই মধু আহরণে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে মৌ চাষিরা। ক্ষেতের পাশে বিশেষভাবে তৈরি শত শত মৌ বাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছে তারা। বিশেষভাবে তৈরি প্রতিটি মৌ বাক্সে ৭ থেকে ৮টি মৌচাক বা কলোনি থাকে। সারাদিন মৌমাছিগুলো সরিষা ফুল থেকে একটু একটু করে মধু সংগ্রহ করে এসব মৌচাকে জমায়। আর মৌয়ালরা ৭ দিন পর পর ধোঁয়ার মাধ্যমে চাক থেকে মৌমাছি সরিয়ে মৌচাকগুলো একটি মেশিনে দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মধু উত্তোলন করে। পড়ে উৎপাদিত মধু বিভিন্ন পাত্রে ভরে পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়।

মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহের ফলে প্রতিটি ফুলে পরাগায়ণ হয়, এতে সরিষার ফলনও বেশি পাওয়া যায় বলে জানায় কৃষকরা।

আদর্শ মৌ খামারের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় মধুর উৎপাদন বেশ ভালো হচ্ছে। তবে সিন্ডিকেটের কারণে মধুর সঠিক দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। মধুর সঠিক দাম নিশ্চিতে সরকারিভাবে বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিও করেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মৌ চাষিদের সুবিধার্থে জেলার উল্লাপাড়া উপজেলায় একটি মধু প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি বছর জেলায় সরিয়ার আবাদ হয়েছে প্রায় ৬৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে, যেখান থেকে মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫০ টন।