ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে সম্মত চীন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অগাস্ট ২০২১ ২৯৮ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক;

তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে চায় চীন
সশস্ত্র বিদ্রোহীগোষ্ঠী তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার পর চীন বলেছে, তারা তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও গভীর করতে প্রস্তুত। সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তালেবানের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্কের বিষয়ে এই মন্তব্য করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেছেন, স্বাধীনভাবে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণে আফগান জনগণের অধিকারকে সম্মান জানায় চীন। তারা আফগানিস্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে ইচ্ছুক।

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের সময় থেকেই বেইজিং তালেবানদের সাথে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। যা দেশজুড়ে কট্টরপন্থী এই বিদ্রোহীগোষ্ঠীর অগ্রযাত্রা উৎসাহিত করেছে।

দেশজুড়ে একের পর এক প্রাদেশিক শহর দখলের পর রোববার রাজধানী কাবুলে প্রবেশ করেছে তালেবান। তালেবানের আগ্রাসী অভিযানের মুখে দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যসহ দেশ ছেড়ে তাজিকিস্তানে গেছেন। সেখান থেকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গনি বলেছেন, রক্তপাত এড়াতে তিনি দেশ ছেড়েছেন।

চীনের সঙ্গে আফগানিস্তানের ৭৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করে আসছে যে, জিনজিয়াংয়ের সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে আফগানিস্তান।

কিন্তু গত ২৮ জুলাই চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর তিয়ানজিনে তালেবানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ইসলামপন্থি এই গোষ্ঠী শক্তিশালী হিসেবে হাজির হওয়ায় ওয়াং ই বলেছেন, আফগানিস্তান একটি মধ্যপন্থি ইসলামি নীতি গ্রহণ করবে বলে তিনি আশা করেন।

সেই সময় তালেবানের প্রতিনিধিরা চীনকে আশ্বস্ত করে জানায়, আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। জবাবে, যুদ্ধ-পরবর্তী আফগানিস্তান পুনর্গঠনে অর্থনৈতিক সহায়তা এবং বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় চীন।

সোমবার চীন বলেছে, তারা আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্ক গভীর করার সুযোগকে স্বাগত জানায়; যে দেশটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শক্তিধর দেশগুলোর কাছে তার ভূ-কৌশলগত গুরুত্বের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেছেন, তালেবানরা বারবার চীনের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেছে। আফগানিস্তানের পুনর্গঠন এবং উন্নয়নে চীনের অংশগ্রহণের অপেক্ষায় আছে তালেবান।

তিনি বলেন, আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। চীন আফগান জনগণের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকারকে সম্মান করে এবং আফগানিস্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ইচ্ছুক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে সম্মত চীন

আপডেট সময় : ০৪:২০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অগাস্ট ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক;

তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে চায় চীন
সশস্ত্র বিদ্রোহীগোষ্ঠী তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার পর চীন বলেছে, তারা তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও গভীর করতে প্রস্তুত। সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তালেবানের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্কের বিষয়ে এই মন্তব্য করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেছেন, স্বাধীনভাবে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণে আফগান জনগণের অধিকারকে সম্মান জানায় চীন। তারা আফগানিস্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে ইচ্ছুক।

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের সময় থেকেই বেইজিং তালেবানদের সাথে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। যা দেশজুড়ে কট্টরপন্থী এই বিদ্রোহীগোষ্ঠীর অগ্রযাত্রা উৎসাহিত করেছে।

দেশজুড়ে একের পর এক প্রাদেশিক শহর দখলের পর রোববার রাজধানী কাবুলে প্রবেশ করেছে তালেবান। তালেবানের আগ্রাসী অভিযানের মুখে দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যসহ দেশ ছেড়ে তাজিকিস্তানে গেছেন। সেখান থেকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গনি বলেছেন, রক্তপাত এড়াতে তিনি দেশ ছেড়েছেন।

চীনের সঙ্গে আফগানিস্তানের ৭৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করে আসছে যে, জিনজিয়াংয়ের সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে আফগানিস্তান।

কিন্তু গত ২৮ জুলাই চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর তিয়ানজিনে তালেবানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ইসলামপন্থি এই গোষ্ঠী শক্তিশালী হিসেবে হাজির হওয়ায় ওয়াং ই বলেছেন, আফগানিস্তান একটি মধ্যপন্থি ইসলামি নীতি গ্রহণ করবে বলে তিনি আশা করেন।

সেই সময় তালেবানের প্রতিনিধিরা চীনকে আশ্বস্ত করে জানায়, আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। জবাবে, যুদ্ধ-পরবর্তী আফগানিস্তান পুনর্গঠনে অর্থনৈতিক সহায়তা এবং বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় চীন।

সোমবার চীন বলেছে, তারা আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্ক গভীর করার সুযোগকে স্বাগত জানায়; যে দেশটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শক্তিধর দেশগুলোর কাছে তার ভূ-কৌশলগত গুরুত্বের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেছেন, তালেবানরা বারবার চীনের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেছে। আফগানিস্তানের পুনর্গঠন এবং উন্নয়নে চীনের অংশগ্রহণের অপেক্ষায় আছে তালেবান।

তিনি বলেন, আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। চীন আফগান জনগণের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকারকে সম্মান করে এবং আফগানিস্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ইচ্ছুক।