ঢাকা ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

মুজিববর্ষে সরকারি ঘর চায় ভূমিহীন মাখন রবিদাস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২১ ২১৫ বার পড়া হয়েছে

মো. হুমায়ুন কবির,গৌরীপুর ময়মনসিংহ:
জন্মসূত্রে মাখনের বাবার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের লক্ষীগঞ্জ বাজারের পাশে বাড়ি ছিল তার বাবার। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর কোন সম্পত্তি না থাকায় সেখান থেকে অনেক দিন আগে ছুটে এসে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নে নিজ মাওহা নদীর পাড়ে মোস্তুফা ফকিরের জায়গায় আশ্রয় নেন।

মাখন চন্দ্র রবিদাস এখান থেকে বড় হয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় স্থায়ীভাবে ঘর বেধে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস শুরু করেন। এমনকি নিজ মাওহা গ্রামে ভোটার হয়েছেন মাখনের বাবার নাম নগেন্দ্র চন্দ্র রবিদাস। হঠাৎ কিছু দিন পরে সেই জায়গা ছাড়তে হয় মাখনের।

উপায় না পেয়ে ছুটে যান আরেক গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি মাওহা নয়ানগর গ্রামের কামাল উদ্দিন মাস্টারের কাছে। আকুতি জানান আমাকে যদি একটি ঘর বাধার জায়গা যদি আপনারা দিতেন তাহলে আমি একটা ঘর বাইন্ধা থাকতাম। এমনকি আপনাদের খেয়া ঘাঠে নৌকা চালাইতাম।

মাখনের আকুতি শুনে জায়গা দিতে রাজি হয়ে নিজের বাড়ির পিছনে জিটাই নদীর পাড়ে নির্জন জঙ্গলের ভিতরে মাখনকে ঘর নির্মানের জায়গা দিল কামাল উদ্দিন। যে জায়গায় কোন মানুষ বসবাস করার কথা নয়। জঙ্গল পরিস্কার করে গ্রামের লোকজনের আর্থিক সহযোগিতায় ঘর নির্মাণ করে সেই জায়গায় পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায় এক বেলা খাইলে অন্য বেলায় খাবার জোগাইতে পারেনা, থাকার যে ঘরটি রয়েছে চারপাশে টিন। প্লাস্টিকের বস্তা ও খড় দিয়ে ঘরের চারদিক গিরে রেখে কোন রকম দিনযাপন করছেন তিনি।

মাখনের স্ত্রী অনিমা রবিদাস জানান আমার স্বামী খেয়া ঘাঠের মাঝি, বর্ষা এলে নৌকা দিয়ে মানুষ পারাপার করে আর জুতা সেলাই করে সংসার চালায়। আজ পর্যন্ত আমাদের ভাগ্য জুটেনি সরকারি সুযোগ সুবিধা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গেলেও কাজে আসেনা। এহন হুনতাছি শেখ হাসিনা সরকারে নাহি ভূমিহীনদের ঘর দিতাছে। আমরা যদি একটা ঘর পাইতাম, তাহলে আজীবন শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করতাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

মুজিববর্ষে সরকারি ঘর চায় ভূমিহীন মাখন রবিদাস

আপডেট সময় : ০২:৩০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২১

মো. হুমায়ুন কবির,গৌরীপুর ময়মনসিংহ:
জন্মসূত্রে মাখনের বাবার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের লক্ষীগঞ্জ বাজারের পাশে বাড়ি ছিল তার বাবার। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর কোন সম্পত্তি না থাকায় সেখান থেকে অনেক দিন আগে ছুটে এসে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নে নিজ মাওহা নদীর পাড়ে মোস্তুফা ফকিরের জায়গায় আশ্রয় নেন।

মাখন চন্দ্র রবিদাস এখান থেকে বড় হয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় স্থায়ীভাবে ঘর বেধে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস শুরু করেন। এমনকি নিজ মাওহা গ্রামে ভোটার হয়েছেন মাখনের বাবার নাম নগেন্দ্র চন্দ্র রবিদাস। হঠাৎ কিছু দিন পরে সেই জায়গা ছাড়তে হয় মাখনের।

উপায় না পেয়ে ছুটে যান আরেক গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি মাওহা নয়ানগর গ্রামের কামাল উদ্দিন মাস্টারের কাছে। আকুতি জানান আমাকে যদি একটি ঘর বাধার জায়গা যদি আপনারা দিতেন তাহলে আমি একটা ঘর বাইন্ধা থাকতাম। এমনকি আপনাদের খেয়া ঘাঠে নৌকা চালাইতাম।

মাখনের আকুতি শুনে জায়গা দিতে রাজি হয়ে নিজের বাড়ির পিছনে জিটাই নদীর পাড়ে নির্জন জঙ্গলের ভিতরে মাখনকে ঘর নির্মানের জায়গা দিল কামাল উদ্দিন। যে জায়গায় কোন মানুষ বসবাস করার কথা নয়। জঙ্গল পরিস্কার করে গ্রামের লোকজনের আর্থিক সহযোগিতায় ঘর নির্মাণ করে সেই জায়গায় পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায় এক বেলা খাইলে অন্য বেলায় খাবার জোগাইতে পারেনা, থাকার যে ঘরটি রয়েছে চারপাশে টিন। প্লাস্টিকের বস্তা ও খড় দিয়ে ঘরের চারদিক গিরে রেখে কোন রকম দিনযাপন করছেন তিনি।

মাখনের স্ত্রী অনিমা রবিদাস জানান আমার স্বামী খেয়া ঘাঠের মাঝি, বর্ষা এলে নৌকা দিয়ে মানুষ পারাপার করে আর জুতা সেলাই করে সংসার চালায়। আজ পর্যন্ত আমাদের ভাগ্য জুটেনি সরকারি সুযোগ সুবিধা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গেলেও কাজে আসেনা। এহন হুনতাছি শেখ হাসিনা সরকারে নাহি ভূমিহীনদের ঘর দিতাছে। আমরা যদি একটা ঘর পাইতাম, তাহলে আজীবন শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করতাম।