ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

ইয়াবা সহ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্মসম্পাদক সোহাগ গ্রেফতার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী ২০২১ ৪২৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ছাত্রদলের সাবেক যুগ্মসম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগকে ৩০ পিস ইয়াবা সহ গ্রেফতার করেছে আবগারী,শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগ। গত সোমবার রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে সহযোগী মিথুন সহ গ্রেফতার হন তিনি। গ্রেফতারের পর তাকে রাজধানীর বনানী থানায় হস্তান্তর করা হয়। সোহাগ ও তার সহযোগী মিথুনকে ইয়াবা সেবনের সময় হাতে-নাতে ইয়াবা সহ ধরা হয় বলে প্রাথমিক তথ্যবিবরণী বা এফআইআরে উল্লেখ করে বনানী থানার পুলিশ। সোহাগ ও মিথনুকে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে উভয় আসামীকে বিচারিক আদালত জামিন নামন্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পুলিশ তার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে যে,-সোহাগ,মিথুন সহ একটা সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন যাবত ইয়াবা ও ফেনসিডিল ব্যবসার সাথে জড়িত। পুলিশ ও আবগারী গোয়েন্দা বিভাগ দীর্ঘদিন যাবত তাদের আটকের চেষ্টা করে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সোমবার দিবাগত রাতে তাদের গ্রেফতার করতে পারে আবগারী গোয়েন্দা বিভাগ।

ছাত্রদল সূত্রসহ নানাভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,সোহাগ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। এর আগে ২০১৭ সালে সোহাগ ফেনসিডিল খেয়ে মাতাল অবস্থায় ফেনসিডিল সহ পুলিশের হাতে ধরা পরে প্রায় ৪ মাস কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পায়। বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়,মাস তিনেক আগে হোটেলে নারী সহ ধরা পরলে প্রায় দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে সে যাত্রায় গ্রেফতার হতে রক্ষা পান তিনি। আকরামুল হাসান টাকা লেনদেন করে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে আনেন। ছাত্রদলে থাকাকালীন সময়ে বিকাশ সোহাগ নামে সে পরিচিত ছিলো বলে জানা যায়। তৎকালীন ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আকরামের অনৈতিক টাকা লেনদেনে করতো সোহাগ। জহুরুল হক হলে থাকাকালীন সময়ে মোবাইল চুরির করে হাতে-নাতে ধরা পরে ছাত্রদের হাতে বেদম পিটুণী খাওয়ার রেকর্ড আছে তার। এছাড়া ছাত্রদল নেত্রী সোনিয়া আহমেদের সাথে লিভ টুগেদারের করতো তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে। সোনিয়া নিজেই তাদের বিশেষ অন্তরঙ্গ ছবি ফেসবুকে প্রচার করে তাদের সম্পর্কের দাবী করে। তাদের দুজনার ছবি মুঠোফোনে তখন ভাইরাল হয়ে যায়।

অনুসন্ধানে জানা একের পর এক অপকর্মের অভিযোগ সাবেক এই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের সাবেক একজন সহসাধারণ সম্পাদক বলেন- ক্যাশ ও বিকাশের মাধ্যম আকরাম-সোহাগের কমিটি বানিজ্যের বিচার দল করলে এমন ইয়াবা ও নারী কেলেংকারীর ঘটনা ঘটতো না। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এমন অপকর্ম কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত। সোহাগের আইনজীবী স্বেচ্ছাসেবক দলের আইন সম্পাদক ইলতুতমীশ সওদাগরের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সোহাগের গ্রেফতার নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীরা নানাভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ইয়াবা সহ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্মসম্পাদক সোহাগ গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ছাত্রদলের সাবেক যুগ্মসম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগকে ৩০ পিস ইয়াবা সহ গ্রেফতার করেছে আবগারী,শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগ। গত সোমবার রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে সহযোগী মিথুন সহ গ্রেফতার হন তিনি। গ্রেফতারের পর তাকে রাজধানীর বনানী থানায় হস্তান্তর করা হয়। সোহাগ ও তার সহযোগী মিথুনকে ইয়াবা সেবনের সময় হাতে-নাতে ইয়াবা সহ ধরা হয় বলে প্রাথমিক তথ্যবিবরণী বা এফআইআরে উল্লেখ করে বনানী থানার পুলিশ। সোহাগ ও মিথনুকে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে উভয় আসামীকে বিচারিক আদালত জামিন নামন্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পুলিশ তার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে যে,-সোহাগ,মিথুন সহ একটা সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন যাবত ইয়াবা ও ফেনসিডিল ব্যবসার সাথে জড়িত। পুলিশ ও আবগারী গোয়েন্দা বিভাগ দীর্ঘদিন যাবত তাদের আটকের চেষ্টা করে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সোমবার দিবাগত রাতে তাদের গ্রেফতার করতে পারে আবগারী গোয়েন্দা বিভাগ।

ছাত্রদল সূত্রসহ নানাভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,সোহাগ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। এর আগে ২০১৭ সালে সোহাগ ফেনসিডিল খেয়ে মাতাল অবস্থায় ফেনসিডিল সহ পুলিশের হাতে ধরা পরে প্রায় ৪ মাস কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পায়। বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়,মাস তিনেক আগে হোটেলে নারী সহ ধরা পরলে প্রায় দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে সে যাত্রায় গ্রেফতার হতে রক্ষা পান তিনি। আকরামুল হাসান টাকা লেনদেন করে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে আনেন। ছাত্রদলে থাকাকালীন সময়ে বিকাশ সোহাগ নামে সে পরিচিত ছিলো বলে জানা যায়। তৎকালীন ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আকরামের অনৈতিক টাকা লেনদেনে করতো সোহাগ। জহুরুল হক হলে থাকাকালীন সময়ে মোবাইল চুরির করে হাতে-নাতে ধরা পরে ছাত্রদের হাতে বেদম পিটুণী খাওয়ার রেকর্ড আছে তার। এছাড়া ছাত্রদল নেত্রী সোনিয়া আহমেদের সাথে লিভ টুগেদারের করতো তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে। সোনিয়া নিজেই তাদের বিশেষ অন্তরঙ্গ ছবি ফেসবুকে প্রচার করে তাদের সম্পর্কের দাবী করে। তাদের দুজনার ছবি মুঠোফোনে তখন ভাইরাল হয়ে যায়।

অনুসন্ধানে জানা একের পর এক অপকর্মের অভিযোগ সাবেক এই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের সাবেক একজন সহসাধারণ সম্পাদক বলেন- ক্যাশ ও বিকাশের মাধ্যম আকরাম-সোহাগের কমিটি বানিজ্যের বিচার দল করলে এমন ইয়াবা ও নারী কেলেংকারীর ঘটনা ঘটতো না। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এমন অপকর্ম কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত। সোহাগের আইনজীবী স্বেচ্ছাসেবক দলের আইন সম্পাদক ইলতুতমীশ সওদাগরের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সোহাগের গ্রেফতার নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীরা নানাভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।