ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

‘বই পড়া মানুষ সমাজকে আলোকিত করতে পারে’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৮ ৩৫৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক; বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, বই পড়লে যোগ্যতা অর্জন করা যায়। যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে সমাজ রাষ্ট্রসহ সব জায়গায় আলোকিত মানুষ হওয়া সম্ভব। বই পড়া মানুষ তাদের প্রসারিত দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করতে পারে। নানা ক্ষেত্রে অবদান রাখার মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারে দেশের উন্নয়নে। পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়তে হবে। এতেই নিজেকে বিকশিত করা সম্ভব।

শুক্রবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কলেজ কর্মসূচির ৩৪তম ব্যাচের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কর্মসূচির প্রথম ব্যাচের সদস্য ডা. আবদুন নূর তুষার। তিনি উপস্থিত সকলকে কেন্দ্রে আসার গল্প শুনিয়ে বই পড়ার উপকারিতা তুলে ধরেন। এখন থেকে আগামী এক বছর প্রতি শুক্রবার ঢাকার বাংলামোটরে অবস্থিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অঙ্গন থাকবে পাঠকের উল্লাস আর তর্কে মুখরিত।

গত ৩৩ বছর ধরে ঢাকা মহানগরের সেরা কলেজগুলোর হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী এই কর্মসূচির সদস্য হয়ে দেশ-বিদেশের সেরা ক্ল্যাসিক বইগুলো পাঠের আনন্দ লাভ করেছে।

আয়োজকরা জানালেন, আলোকিত মানুষের স্বপ্নদ্রষ্টা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদসহ আরো ১০ জন বিশিষ্ট শিক্ষক এ বছর বই আলোচনায় যুক্ত হবেন। ঢাকার প্রায় ৪০টি কলেজ থেকে ছাত্রছাত্রীরা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্য হয়েছে। শুধু কি বইপড়া? কলেজ কর্মসূচিকে ঘিরে থাকে কত আয়োজন।

ভালো ভালো সিনেমা দেখা, দলবেঁধে ঘুরতে যাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনসহ অনেক কিছু। সুযোগ পেলেই বিভিন্ন ব্যাচের সদস্যরা প্রতিনিয়ত কেন্দ্রে আসে, মিলিত হয় প্রাণের আড্ডায়। একদিন নিজে সদস্য হয়ে একজন তার হৃদয়কে যেমন আলোকিত করেছেন, এখন হাত ধরে নিয়ে আসেন তার পরবর্তী প্রজন্মকে। কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মো. মাসুদ সদস্যদের স্বাগত জানান।

যারা এবার একাদশ শ্রেণিতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন কলেজে পড়ছে, তারা চাইলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একজন হয়ে উঠতে পারবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত সদস্য নেয়া হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীরা পাবে তাদের মন ও বয়সের উপযোগী সুখপাঠ্য এবং উন্নত মানসম্পন্ন মোট ১২টি বই। তাই এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সদস্যরা সুযোগ পাবে বাংলা এবং বিশ্বসাহিত্যের সবচেয়ে সুন্দর ও উপভোগ্য কিছু বই পড়ার।

সদস্য হওয়ার নিয়ম খুব সোজা, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সদস্য হতে পারবে। সদস্য ফি মাত্র ২০ টাকা। সঙ্গে জামানত হিসেবে দিতে হবে ৮০ টাকা, যা ফেরতযোগ্য। একটি স্ট্যাম্প আর পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।

বই পড়া শেষ হলে থাকবে ছোট্ট একটি মূল্যায়ন পরীক্ষা। এ পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হবে কে কয়টি বই পড়েছে। যে যত বেশি বই পড়বে, সে পাবে তত বেশি পুরস্কার। পরীক্ষায় প্রতিটি বই থেকে দুটি করে মোট ২৪টি সহজ প্রশ্ন করা হবে। যারা ২৪টি প্রশ্নেরই সঠিক উত্তর দিতে পারবে তারা সব কয়টি বই পড়েছে বলে ধরা হবে। তারা পাবে সেরা পাঠক পুরস্কার। যারা ১০টি বই পড়বে তারা পাবে অভিনন্দন পুরস্কার, আটটি বই পড়লে শুভেচ্ছা পুরস্কার এবং কমপক্ষে ছয়টি বই পড়লে পাওয়া যাবে স্বাগত পুরস্কার।

যোগাযোগের ঠিকানা : ১৭ ময়মনসিংহ রোড, বাংলামোটর, ঢাকা। ফোন : ৯৬১১২২৮-৯, মোবাইল : ০১৭৬১৪৯৬৪৯৭।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

‘বই পড়া মানুষ সমাজকে আলোকিত করতে পারে’

আপডেট সময় : ০৪:০২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক; বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, বই পড়লে যোগ্যতা অর্জন করা যায়। যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে সমাজ রাষ্ট্রসহ সব জায়গায় আলোকিত মানুষ হওয়া সম্ভব। বই পড়া মানুষ তাদের প্রসারিত দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করতে পারে। নানা ক্ষেত্রে অবদান রাখার মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারে দেশের উন্নয়নে। পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়তে হবে। এতেই নিজেকে বিকশিত করা সম্ভব।

শুক্রবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কলেজ কর্মসূচির ৩৪তম ব্যাচের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কর্মসূচির প্রথম ব্যাচের সদস্য ডা. আবদুন নূর তুষার। তিনি উপস্থিত সকলকে কেন্দ্রে আসার গল্প শুনিয়ে বই পড়ার উপকারিতা তুলে ধরেন। এখন থেকে আগামী এক বছর প্রতি শুক্রবার ঢাকার বাংলামোটরে অবস্থিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অঙ্গন থাকবে পাঠকের উল্লাস আর তর্কে মুখরিত।

গত ৩৩ বছর ধরে ঢাকা মহানগরের সেরা কলেজগুলোর হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী এই কর্মসূচির সদস্য হয়ে দেশ-বিদেশের সেরা ক্ল্যাসিক বইগুলো পাঠের আনন্দ লাভ করেছে।

আয়োজকরা জানালেন, আলোকিত মানুষের স্বপ্নদ্রষ্টা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদসহ আরো ১০ জন বিশিষ্ট শিক্ষক এ বছর বই আলোচনায় যুক্ত হবেন। ঢাকার প্রায় ৪০টি কলেজ থেকে ছাত্রছাত্রীরা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্য হয়েছে। শুধু কি বইপড়া? কলেজ কর্মসূচিকে ঘিরে থাকে কত আয়োজন।

ভালো ভালো সিনেমা দেখা, দলবেঁধে ঘুরতে যাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনসহ অনেক কিছু। সুযোগ পেলেই বিভিন্ন ব্যাচের সদস্যরা প্রতিনিয়ত কেন্দ্রে আসে, মিলিত হয় প্রাণের আড্ডায়। একদিন নিজে সদস্য হয়ে একজন তার হৃদয়কে যেমন আলোকিত করেছেন, এখন হাত ধরে নিয়ে আসেন তার পরবর্তী প্রজন্মকে। কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মো. মাসুদ সদস্যদের স্বাগত জানান।

যারা এবার একাদশ শ্রেণিতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন কলেজে পড়ছে, তারা চাইলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একজন হয়ে উঠতে পারবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত সদস্য নেয়া হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীরা পাবে তাদের মন ও বয়সের উপযোগী সুখপাঠ্য এবং উন্নত মানসম্পন্ন মোট ১২টি বই। তাই এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সদস্যরা সুযোগ পাবে বাংলা এবং বিশ্বসাহিত্যের সবচেয়ে সুন্দর ও উপভোগ্য কিছু বই পড়ার।

সদস্য হওয়ার নিয়ম খুব সোজা, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সদস্য হতে পারবে। সদস্য ফি মাত্র ২০ টাকা। সঙ্গে জামানত হিসেবে দিতে হবে ৮০ টাকা, যা ফেরতযোগ্য। একটি স্ট্যাম্প আর পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।

বই পড়া শেষ হলে থাকবে ছোট্ট একটি মূল্যায়ন পরীক্ষা। এ পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হবে কে কয়টি বই পড়েছে। যে যত বেশি বই পড়বে, সে পাবে তত বেশি পুরস্কার। পরীক্ষায় প্রতিটি বই থেকে দুটি করে মোট ২৪টি সহজ প্রশ্ন করা হবে। যারা ২৪টি প্রশ্নেরই সঠিক উত্তর দিতে পারবে তারা সব কয়টি বই পড়েছে বলে ধরা হবে। তারা পাবে সেরা পাঠক পুরস্কার। যারা ১০টি বই পড়বে তারা পাবে অভিনন্দন পুরস্কার, আটটি বই পড়লে শুভেচ্ছা পুরস্কার এবং কমপক্ষে ছয়টি বই পড়লে পাওয়া যাবে স্বাগত পুরস্কার।

যোগাযোগের ঠিকানা : ১৭ ময়মনসিংহ রোড, বাংলামোটর, ঢাকা। ফোন : ৯৬১১২২৮-৯, মোবাইল : ০১৭৬১৪৯৬৪৯৭।