ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মূল্যবোধভিত্তিক পেশাদারিত্বই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্তম্ভ: আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

মসজিদ খুলে দেয়ার ঘোষণা থেকে সরে এলেন গাজীপুরের মেয়র

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০ ১৭২ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর প্রতিনিধি, 

নগরবাসীকে সরকারি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মেনেই সীমিত পরিসরে মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তিনি নগরীর মসজিদগুলো মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে মেয়র জাহাঙ্গীর নগরীর বোর্ড বাজারে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান।
মেয়র জাহাঙ্গীর ভিডিও বার্তায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকে এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নীতি মেনে যে লকডাউন দিয়েছে তা শতভাগ মেনে চলছি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মসজিদে সীমিত আকারে লোক নিয়ে নামাজ আদায় করার জন্য। আমরা যেন তা শতভাগ মেনে চলি। গাজীপুরে কোন জায়গায় কি অবস্থায় করোনাভাইরাসের পজিটিভ আছে এখনও আমরা সেটি শতভাগ নিশ্চিত নই। সেই হিসেবে আমরা প্রত্যেক এলাকায় যাচাই-বাছাই ও খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি এখানে ভাসমান অনেক লোক আছে এবং বিভিন্ন গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বাইরে থেকে এসে এখানে কাজ করছে। আমরা সুনিশ্চিত হতে পারছি না আমাদের মহল্লা ভিত্তিক, ওয়ার্ড ও থানা ভিত্তিক কোথায় এ ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা কত।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, সরকার, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে যেভাবে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আমরা যেন সেভাবে মসজিদ ভিত্তিক ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সেটা মেনে চলি। প্রয়োজনে আপাতত আমরা ঘরেই নামাজ আদায় করি। করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা আতঙ্কিত আছি। আমাদের সন্তানরা, আমাদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন আমাদের নগরের প্রত্যেক নাগরিকদের জীবনের কথা চিন্তা করে আমি সবাইকে অনুরোধ করবো যেটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেটা যেন আমরা শতভাগ মেনে চলি।

তিনি বলেন, মহানগরীর প্রত্যেক নাগরিককে অনুরোধ করবো ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেটা অনুসরণ করে মসজিদে আপনারা সীমিত আকারে মুসল্লি নিয়ে নামাজ আদায় করবেন। করোনাভাইরাস থেকে আমরা যেন মুক্ত হতে পারি সবাই যেন সবাইকে সহযোগিতা করি।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গাজীপুর মহানগরীতে মাত্র কয়েকটি এলাকায় করোনাভাইরাস রয়েছে। বাকিগুলো পাশের উপজেলাগুলোতে অবস্থান করছে। যেহেতু গাজীপুরের গার্মেন্টসগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে, তাই এ রমজান মাসে এখন আর মসজিদে অল্পসংখ্যক মুসল্লির জন্য সীমাবদ্ধ রাখার কোনও প্রয়োজন নেই। শুক্রবারের জুমার নামাজ ও রমজানের তারাবীহর নামাজে মুসল্লিগণ অংশ নিতে পারবেন। এতে সিটি করপোরেশনের কোনও বাধা থাকবে না।’

মেয়রের এ বক্তব্যের পর সমালোচনা শুরু হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের দিক থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পরই গাজীপুরের অবস্থান। আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে গতকাল ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেয়া তথ্যে বলা হয়েছে, গাজীপুরে ৩১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে ৬ এপ্রিল দেশের সব মসজিদে বাইরে থেকে মুসল্লি ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সরকার জানায়, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ মসজিদের খাদেমরা মিলে পাঁচজনের জামাত হবে। এ ছাড়া রোজায় তারাবীহর জামাতে ১২ জন একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

মসজিদ খুলে দেয়ার ঘোষণা থেকে সরে এলেন গাজীপুরের মেয়র

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০

গাজীপুর প্রতিনিধি, 

নগরবাসীকে সরকারি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মেনেই সীমিত পরিসরে মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তিনি নগরীর মসজিদগুলো মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে মেয়র জাহাঙ্গীর নগরীর বোর্ড বাজারে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান।
মেয়র জাহাঙ্গীর ভিডিও বার্তায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকে এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নীতি মেনে যে লকডাউন দিয়েছে তা শতভাগ মেনে চলছি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মসজিদে সীমিত আকারে লোক নিয়ে নামাজ আদায় করার জন্য। আমরা যেন তা শতভাগ মেনে চলি। গাজীপুরে কোন জায়গায় কি অবস্থায় করোনাভাইরাসের পজিটিভ আছে এখনও আমরা সেটি শতভাগ নিশ্চিত নই। সেই হিসেবে আমরা প্রত্যেক এলাকায় যাচাই-বাছাই ও খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি এখানে ভাসমান অনেক লোক আছে এবং বিভিন্ন গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বাইরে থেকে এসে এখানে কাজ করছে। আমরা সুনিশ্চিত হতে পারছি না আমাদের মহল্লা ভিত্তিক, ওয়ার্ড ও থানা ভিত্তিক কোথায় এ ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা কত।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, সরকার, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে যেভাবে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আমরা যেন সেভাবে মসজিদ ভিত্তিক ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সেটা মেনে চলি। প্রয়োজনে আপাতত আমরা ঘরেই নামাজ আদায় করি। করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা আতঙ্কিত আছি। আমাদের সন্তানরা, আমাদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন আমাদের নগরের প্রত্যেক নাগরিকদের জীবনের কথা চিন্তা করে আমি সবাইকে অনুরোধ করবো যেটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেটা যেন আমরা শতভাগ মেনে চলি।

তিনি বলেন, মহানগরীর প্রত্যেক নাগরিককে অনুরোধ করবো ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেটা অনুসরণ করে মসজিদে আপনারা সীমিত আকারে মুসল্লি নিয়ে নামাজ আদায় করবেন। করোনাভাইরাস থেকে আমরা যেন মুক্ত হতে পারি সবাই যেন সবাইকে সহযোগিতা করি।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গাজীপুর মহানগরীতে মাত্র কয়েকটি এলাকায় করোনাভাইরাস রয়েছে। বাকিগুলো পাশের উপজেলাগুলোতে অবস্থান করছে। যেহেতু গাজীপুরের গার্মেন্টসগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে, তাই এ রমজান মাসে এখন আর মসজিদে অল্পসংখ্যক মুসল্লির জন্য সীমাবদ্ধ রাখার কোনও প্রয়োজন নেই। শুক্রবারের জুমার নামাজ ও রমজানের তারাবীহর নামাজে মুসল্লিগণ অংশ নিতে পারবেন। এতে সিটি করপোরেশনের কোনও বাধা থাকবে না।’

মেয়রের এ বক্তব্যের পর সমালোচনা শুরু হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের দিক থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পরই গাজীপুরের অবস্থান। আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে গতকাল ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেয়া তথ্যে বলা হয়েছে, গাজীপুরে ৩১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে ৬ এপ্রিল দেশের সব মসজিদে বাইরে থেকে মুসল্লি ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সরকার জানায়, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ মসজিদের খাদেমরা মিলে পাঁচজনের জামাত হবে। এ ছাড়া রোজায় তারাবীহর জামাতে ১২ জন একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।