ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লঞ্চ থেকে মেঘনায় লাফ দেওয়া যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার, প্রশংসায় নৌ পুলিশের তৎপরতা Logo স্থানীয় কৃষকদের থেকে ভাড়ায় জমি নিয়ে সাইন বোর্ড: প্লট বানিজ্যের নামে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী কর্তৃপক্ষ’র প্রতারণা Logo “নৌ-খাতের সিমুলেটর বাণিজ্যের লুটেরা সিন্ডিকেট সাব্বির মাদানি” Logo গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ত্রাসের রাজত্ব! নকল নবীশ মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি ও দূর্নীতির অভিযোগ Logo ‘শিশু হাসপাতালে উপ-পরিচালক নেছার উদ্দীন সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও লুটপাট’ Logo গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও টেন্ডার কারসাজি Logo মাঠের ত্যাগী না অভিজ্ঞ নেতা: রাজধানীর বিএনপিতে কোন পথে যাচ্ছে নেতৃত্ব? Logo অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে ডিসিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ দেয়নি: রাষ্ট্রপতি Logo পথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি Logo সাভার পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আমজাদ মোল্লার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

‘করোনা উপসর্গ’ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির ৭ মিনিটেই নারীর মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২০ ১৮০ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি; 
ডায়বেটিস ও হাঁপানি প্রকোপ এবং ‘করোনার উপসর্গ’ নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তির ৭ মিনিটের মাথায় মারা গেছেন মোমেনা বেগম (৪৫) নামে এক নারী। তিনি রামু উপজেলার গর্জনিয়ার নুরুল হকের স্ত্রী।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহীন আবদুর রহমান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার আগে মোমেনা বেগমকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। তার হাঁপানির প্রকোপ বেড়ে শ্বাসকষ্ট ছিল। অক্সিজেনের মাত্রা ছিল মাত্র ৮০ শতাংশ। প্রচন্ড বেড়ে গিয়েছিল ডায়বেটিসও। জরুরি বিভাগের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তাকে আইসোলেশন বিভাগে ভর্তি দেয়া হয়। সেখানে নেয়া মিনিট সাতেকের ভেতর তিনি মারা যান।

পরিবারের বরাত দিয়ে আরএমও আরও বলেন, অসুস্থ মোমেনা প্রথমে গ্রাম্য এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেন। এরপরও কোনো কূল না পেয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য সহকারীর কাছে যান। তিনি সদও হাসপাতালে পাঠান।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. মো. শাহজাহান নাজির জানান, মারা যাওয়া রোগীর হার্ট, ডায়বেটিস ও অ্যাজমার সমস্যা ছিল। তার ডায়বেটিসের মাত্রা ছিল ৫০০ মিলিগ্রাম। তবুও করোনাময় সময়ে যেহেতু মারা গেছেন তাই করোনা টেস্টেও জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মো. মহি উদ্দিন জানান, ভর্তিও ৭ মিনিটের মধ্যে মারা যাওয়া নারী মোমেনার নিয়মিত সমস্যা গুলোর মাঝে করোনার লক্ষণ রয়েছে কিনা তা পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শনিবার পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে জানা যাবে তিনি করোনার উপসর্গ বহন করছিলেন কি না।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবটিকে ঢাকাস্থ রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্টান (আইইডিসিআর) করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য নির্ধারণ করেছে। গত পহেলা এপ্রিল থেকে ল্যাবটি চালু হয়েছে। এরপর প্রথম ৬ দিনে ২৪ জন, ৭ এপ্রিল ২৫, ৮ এপ্রিল ২৪ জন, ৯ এপ্রিল ২৭ জন, ১০ এপ্রিল ৩৭ জন, ১১ এপ্রিল ৯ জন, ১২ এপ্রিল ৩২ জন, ১৩ এপ্রিল ২৪ জন, ১৪ এপ্রিল ৩১ জন, ১৫ এপ্রিল ১৭ জন ও ১৬ এপ্রিল ৪১ জন এবং শুক্রবার ৩৯ জন সন্দেহভাজন রোগীর পরীক্ষা করা হয়েছে এই ল্যাবে। সব মিলিয়ে পরীক্ষা হওয়া রোগী সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩৩০ জন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

‘করোনা উপসর্গ’ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির ৭ মিনিটেই নারীর মৃত্যু

আপডেট সময় : ১০:২৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২০

জেলা প্রতিনিধি; 
ডায়বেটিস ও হাঁপানি প্রকোপ এবং ‘করোনার উপসর্গ’ নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তির ৭ মিনিটের মাথায় মারা গেছেন মোমেনা বেগম (৪৫) নামে এক নারী। তিনি রামু উপজেলার গর্জনিয়ার নুরুল হকের স্ত্রী।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহীন আবদুর রহমান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার আগে মোমেনা বেগমকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। তার হাঁপানির প্রকোপ বেড়ে শ্বাসকষ্ট ছিল। অক্সিজেনের মাত্রা ছিল মাত্র ৮০ শতাংশ। প্রচন্ড বেড়ে গিয়েছিল ডায়বেটিসও। জরুরি বিভাগের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তাকে আইসোলেশন বিভাগে ভর্তি দেয়া হয়। সেখানে নেয়া মিনিট সাতেকের ভেতর তিনি মারা যান।

পরিবারের বরাত দিয়ে আরএমও আরও বলেন, অসুস্থ মোমেনা প্রথমে গ্রাম্য এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেন। এরপরও কোনো কূল না পেয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য সহকারীর কাছে যান। তিনি সদও হাসপাতালে পাঠান।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. মো. শাহজাহান নাজির জানান, মারা যাওয়া রোগীর হার্ট, ডায়বেটিস ও অ্যাজমার সমস্যা ছিল। তার ডায়বেটিসের মাত্রা ছিল ৫০০ মিলিগ্রাম। তবুও করোনাময় সময়ে যেহেতু মারা গেছেন তাই করোনা টেস্টেও জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মো. মহি উদ্দিন জানান, ভর্তিও ৭ মিনিটের মধ্যে মারা যাওয়া নারী মোমেনার নিয়মিত সমস্যা গুলোর মাঝে করোনার লক্ষণ রয়েছে কিনা তা পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শনিবার পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে জানা যাবে তিনি করোনার উপসর্গ বহন করছিলেন কি না।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবটিকে ঢাকাস্থ রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্টান (আইইডিসিআর) করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য নির্ধারণ করেছে। গত পহেলা এপ্রিল থেকে ল্যাবটি চালু হয়েছে। এরপর প্রথম ৬ দিনে ২৪ জন, ৭ এপ্রিল ২৫, ৮ এপ্রিল ২৪ জন, ৯ এপ্রিল ২৭ জন, ১০ এপ্রিল ৩৭ জন, ১১ এপ্রিল ৯ জন, ১২ এপ্রিল ৩২ জন, ১৩ এপ্রিল ২৪ জন, ১৪ এপ্রিল ৩১ জন, ১৫ এপ্রিল ১৭ জন ও ১৬ এপ্রিল ৪১ জন এবং শুক্রবার ৩৯ জন সন্দেহভাজন রোগীর পরীক্ষা করা হয়েছে এই ল্যাবে। সব মিলিয়ে পরীক্ষা হওয়া রোগী সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩৩০ জন।