ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

ভালো নেই কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের নার্সরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২০ ৩১০ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদ; 
ভালো নেই কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের নার্সরা। উত্তরার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে যে নার্সরা জীবনবাজি রেখে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের দিনরাত সেবা দিচ্ছেন তাদের ভাগে মিলছে না প্রয়োজনীয় খাবারটুকু। অথচ কথা ছিল, নার্সরা টানা সাত দিন দায়িত্ব পালনের পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। কিন্তু নার্স সংকটের কারণে সে সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) জুটলেও ‘এন-৯৫’ মাস্কের নামে যে মাস্ক দেওয়া হয়েছে তা পরে ডিউটি করতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান নার্সরা।

হাসপাতালটিতে ভর্তি রোগীর চেয়ে নার্সের সংখ্যা কম হওয়ায় প্রতিদিন নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পরও অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অথচ বাড়তি এই শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমের পর তাদের জন্য সুষম খাবার মিলছে না। তারা জানান, স্থানীয় একটি হোটেলের রান্না করা নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে তাদের এবং ১২ এপ্রিল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই জীবনবাজি রাখা সেবাদানকারীদের না খেয়ে থাকতে হয়। জানা যায়, বাজেট না থাকার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

এই নার্সরা করোনা আক্রান্ত রোগীদের ডিউটি করে তারা স্বাভাবিক সময়ের মতো পরিবারে ফিরতে পারছেন না। তাদের থাকতে হচ্ছে উত্তরার একটি আবাসিক হোটেলে। সার্বিক পরিস্থিতিতে কর্তব্যরত ৮৭ জন নার্সের অনেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এত দিন মুখ না খুললেও হঠাত্ করে বাজেট নেই—দোহাই দিয়ে খাবার বন্ধ করে দেওয়ার পর সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের কান্নারত ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ পায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন নার্স বলেন, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপালের তৃতীয় তলা থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত বর্তমানে মোট ১৩০ জন করোনা রোগী ভর্তি আছেন। এ হাসপাতালটিতে স্থায়ী ও ডেপুটেশন মিলিয়ে বর্তমানে নার্সের সংখ্যা ৮৭ জন। তাদের মধ্যে ৩০ জন নার্স ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) দায়িত্বে আছেন। বাকি ৫৭ জনের মধ্যে ৭-৮ জন মাতৃত্বকালীন ছুটি, গর্ভবতী ও সিনিয়র নার্স থাকায় প্রকৃতপক্ষে কমবেশি ৪৫ জন নার্সকে ওয়ার্ডে রোগী সামলানোসহ দাপ্তরিক বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। নার্সের সংখ্যা কম হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ও রোগীদের সংস্পর্শে বেশি বেশি আসতে হচ্ছে।

তারা বলেন, আইসিইউ ছাড়াই ওয়ার্ড ও অন্যান্য ওয়ার্কিং স্টেশন সামলাতে প্রতি শিফটে কমপক্ষে ৩৫ জন নার্স অর্থাত্ তিন শিফটে শতাধিক নার্স নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ভালো নেই কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের নার্সরা

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২০

সকালের সংবাদ; 
ভালো নেই কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের নার্সরা। উত্তরার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে যে নার্সরা জীবনবাজি রেখে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের দিনরাত সেবা দিচ্ছেন তাদের ভাগে মিলছে না প্রয়োজনীয় খাবারটুকু। অথচ কথা ছিল, নার্সরা টানা সাত দিন দায়িত্ব পালনের পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। কিন্তু নার্স সংকটের কারণে সে সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) জুটলেও ‘এন-৯৫’ মাস্কের নামে যে মাস্ক দেওয়া হয়েছে তা পরে ডিউটি করতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান নার্সরা।

হাসপাতালটিতে ভর্তি রোগীর চেয়ে নার্সের সংখ্যা কম হওয়ায় প্রতিদিন নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পরও অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অথচ বাড়তি এই শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমের পর তাদের জন্য সুষম খাবার মিলছে না। তারা জানান, স্থানীয় একটি হোটেলের রান্না করা নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে তাদের এবং ১২ এপ্রিল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই জীবনবাজি রাখা সেবাদানকারীদের না খেয়ে থাকতে হয়। জানা যায়, বাজেট না থাকার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

এই নার্সরা করোনা আক্রান্ত রোগীদের ডিউটি করে তারা স্বাভাবিক সময়ের মতো পরিবারে ফিরতে পারছেন না। তাদের থাকতে হচ্ছে উত্তরার একটি আবাসিক হোটেলে। সার্বিক পরিস্থিতিতে কর্তব্যরত ৮৭ জন নার্সের অনেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এত দিন মুখ না খুললেও হঠাত্ করে বাজেট নেই—দোহাই দিয়ে খাবার বন্ধ করে দেওয়ার পর সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের কান্নারত ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ পায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন নার্স বলেন, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপালের তৃতীয় তলা থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত বর্তমানে মোট ১৩০ জন করোনা রোগী ভর্তি আছেন। এ হাসপাতালটিতে স্থায়ী ও ডেপুটেশন মিলিয়ে বর্তমানে নার্সের সংখ্যা ৮৭ জন। তাদের মধ্যে ৩০ জন নার্স ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) দায়িত্বে আছেন। বাকি ৫৭ জনের মধ্যে ৭-৮ জন মাতৃত্বকালীন ছুটি, গর্ভবতী ও সিনিয়র নার্স থাকায় প্রকৃতপক্ষে কমবেশি ৪৫ জন নার্সকে ওয়ার্ডে রোগী সামলানোসহ দাপ্তরিক বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। নার্সের সংখ্যা কম হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ও রোগীদের সংস্পর্শে বেশি বেশি আসতে হচ্ছে।

তারা বলেন, আইসিইউ ছাড়াই ওয়ার্ড ও অন্যান্য ওয়ার্কিং স্টেশন সামলাতে প্রতি শিফটে কমপক্ষে ৩৫ জন নার্স অর্থাত্ তিন শিফটে শতাধিক নার্স নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।