ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে করোনার চিকিৎসায় বাংলাদেশি দুই চিকিৎসকের বিরাট সাফল্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ ২৩৮ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক; 

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুই বাংলাদেশি। দেশটির ফেডারেল ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এফডডিএর ছাড়পত্র ছিল না তারপরেও এমন ওষুধ প্রয়োগ করে সফলতা পেয়েছেন তারা। যদিও এ ওষুধ প্রয়োগের আগে স্বজনের লিখিত অনুমতি নেয়া হয়েছে বলে জানান করোনা ভাইরাস নিরাময়ে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী বাংলাদেশি ওই চিকিৎসক।

সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী চিকিৎসকরা হলেন ডা. মোহাম্মদ আলম এবং ডা. রায়হান সাদি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে ওঠার আশা সঞ্চার করা এই দুই চিকিৎসক যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ার আলোচনায় উঠে এসেছেন। নিউইয়র্ক সিটি সংলগ্ন লং আইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে সংক্রমিত রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহম্মদ আলম করোনা রোগে আক্রান্ত ৮১ জন প্রবীণ চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করে আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন। ডা. মোহম্মদ আলমের অধীনে থাকা লং আয়ারল্যান্ডের তিনটি নার্সিং হোমের ৪৭ রোগীর চিকিৎসায় এই ওষুধ প্রয়োগ করেছিলেন।

যার মধ্যে ৩৮ জনই সুস্থ হয়েছেন। মারা গেছেন ২ জন। গত ৪ এপ্রিল বিকেলে নিউইয়র্ক পোস্টে ‘লং আইল্যান্ড ডক্টর ট্রাইজ নিউ টুইস্ট অন হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ফর অ্যাল্ডার্লি কোভিড-19 প্যাশেন্টস’ (Long Island doctor tries new twist on hydroxychloroquine for elderly COVID-19 patients) শিরোনামে এক প্রতিবেদনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করার পর চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রিধারী ডা. আলম বলেন, বহুল পরিচিত ম্যালেরিয়া প্রতিরোধক হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং জীবাণুনাশক এজিথ্রোমাইসিন একই সাথে তিনি রোগীর ওপর প্রয়োগ করতে চাননি। তাহলে ওই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ধারণ করতে পারে বয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে। কারণ করোনায় আক্রান্ত রোগীর অধিকাংশ হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ আরও জটিল রোগে আক্রান্ত থাকতে পারেন।

এসব রোগীদের জীবন বিপন্ন করতে চাইনি উল্লেখ করে ডা. আলম বলেন, আমরা আগেই এফডিএ থেকে জেনেছি এজিথ্রোমাইসিন প্রয়োগের ফলে রোগীর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। নার্সিংহোমের এসব রোগীদের বেশিরভাগই হাইপারটেনশন করোনা আর্টারি ডিজিস হৃদযন্ত্র অচল হয়ে পড়ার মত জটিল রোগে আক্রান্ত। এসব কারণেই তারা নার্সিংহোমে অবস্থান করছেন সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের নজরে থাকতে। রোগীর বয়স ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আলোচনা সাপেক্ষে এজিথ্রোমাইসিনের পরিবর্তে বহু পুরনো একটি এন্টিবায়োটিক যেটি হৃদযন্ত্র বিকল করার জন্য চিহ্নিত নয় এমন একটি ওষুধ প্রয়োগ করেন তিনি।

ডা. আলম বলেন, ডক্সিসাইক্লিন ও এজিথ্রোমাইসিনের মতো অ্যান্টি ইনফ্লয়ামেটারি এবং এর নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সংশয়ের অবকাশ নেই। এই অবস্থায় আমি সিদ্ধান্ত নেই কেনো এটির প্রয়োগ করবো না। নার্সিংহোমের সীমিত সম্পদ নিয়েই মরণাপন্ন রোগীর জন্য কিছু করার পদক্ষেপ নিই। রোগীর ৪৫ জন ছিলেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। তারা উচ্চমাত্রায় জ্বরের পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট অনুভব করছিলেন। সঙ্গে কফ কাশির যন্ত্রণা ছিল। তাদের ক্ষেত্রে ওষুধগুলো নিজ সিদ্ধান্তে প্রয়োগের আগে রোগীর স্বজনের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিই। কারণ এসব ওষুধ প্রয়োগের জন্য এখন পর্যন্ত ফেডারেল ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এফডডিএ’র কোনো ছাড়পত্র মেলেনি। আমার রোগীর সিংহভাগ সেরে উঠেছেন। ৪৭ জনের ৩৮ জন মুক্ত। ৭ জনকে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমার কাছে প্রশান্তির বিষয় হলো হাসপাতালের অনেক বেড বাঁচিয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

যুক্তরাষ্ট্রে করোনার চিকিৎসায় বাংলাদেশি দুই চিকিৎসকের বিরাট সাফল্য

আপডেট সময় : ১১:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক; 

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুই বাংলাদেশি। দেশটির ফেডারেল ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এফডডিএর ছাড়পত্র ছিল না তারপরেও এমন ওষুধ প্রয়োগ করে সফলতা পেয়েছেন তারা। যদিও এ ওষুধ প্রয়োগের আগে স্বজনের লিখিত অনুমতি নেয়া হয়েছে বলে জানান করোনা ভাইরাস নিরাময়ে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী বাংলাদেশি ওই চিকিৎসক।

সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী চিকিৎসকরা হলেন ডা. মোহাম্মদ আলম এবং ডা. রায়হান সাদি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে ওঠার আশা সঞ্চার করা এই দুই চিকিৎসক যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ার আলোচনায় উঠে এসেছেন। নিউইয়র্ক সিটি সংলগ্ন লং আইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে সংক্রমিত রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহম্মদ আলম করোনা রোগে আক্রান্ত ৮১ জন প্রবীণ চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করে আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন। ডা. মোহম্মদ আলমের অধীনে থাকা লং আয়ারল্যান্ডের তিনটি নার্সিং হোমের ৪৭ রোগীর চিকিৎসায় এই ওষুধ প্রয়োগ করেছিলেন।

যার মধ্যে ৩৮ জনই সুস্থ হয়েছেন। মারা গেছেন ২ জন। গত ৪ এপ্রিল বিকেলে নিউইয়র্ক পোস্টে ‘লং আইল্যান্ড ডক্টর ট্রাইজ নিউ টুইস্ট অন হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ফর অ্যাল্ডার্লি কোভিড-19 প্যাশেন্টস’ (Long Island doctor tries new twist on hydroxychloroquine for elderly COVID-19 patients) শিরোনামে এক প্রতিবেদনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করার পর চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রিধারী ডা. আলম বলেন, বহুল পরিচিত ম্যালেরিয়া প্রতিরোধক হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং জীবাণুনাশক এজিথ্রোমাইসিন একই সাথে তিনি রোগীর ওপর প্রয়োগ করতে চাননি। তাহলে ওই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ধারণ করতে পারে বয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে। কারণ করোনায় আক্রান্ত রোগীর অধিকাংশ হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ আরও জটিল রোগে আক্রান্ত থাকতে পারেন।

এসব রোগীদের জীবন বিপন্ন করতে চাইনি উল্লেখ করে ডা. আলম বলেন, আমরা আগেই এফডিএ থেকে জেনেছি এজিথ্রোমাইসিন প্রয়োগের ফলে রোগীর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। নার্সিংহোমের এসব রোগীদের বেশিরভাগই হাইপারটেনশন করোনা আর্টারি ডিজিস হৃদযন্ত্র অচল হয়ে পড়ার মত জটিল রোগে আক্রান্ত। এসব কারণেই তারা নার্সিংহোমে অবস্থান করছেন সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের নজরে থাকতে। রোগীর বয়স ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আলোচনা সাপেক্ষে এজিথ্রোমাইসিনের পরিবর্তে বহু পুরনো একটি এন্টিবায়োটিক যেটি হৃদযন্ত্র বিকল করার জন্য চিহ্নিত নয় এমন একটি ওষুধ প্রয়োগ করেন তিনি।

ডা. আলম বলেন, ডক্সিসাইক্লিন ও এজিথ্রোমাইসিনের মতো অ্যান্টি ইনফ্লয়ামেটারি এবং এর নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সংশয়ের অবকাশ নেই। এই অবস্থায় আমি সিদ্ধান্ত নেই কেনো এটির প্রয়োগ করবো না। নার্সিংহোমের সীমিত সম্পদ নিয়েই মরণাপন্ন রোগীর জন্য কিছু করার পদক্ষেপ নিই। রোগীর ৪৫ জন ছিলেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। তারা উচ্চমাত্রায় জ্বরের পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট অনুভব করছিলেন। সঙ্গে কফ কাশির যন্ত্রণা ছিল। তাদের ক্ষেত্রে ওষুধগুলো নিজ সিদ্ধান্তে প্রয়োগের আগে রোগীর স্বজনের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিই। কারণ এসব ওষুধ প্রয়োগের জন্য এখন পর্যন্ত ফেডারেল ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এফডডিএ’র কোনো ছাড়পত্র মেলেনি। আমার রোগীর সিংহভাগ সেরে উঠেছেন। ৪৭ জনের ৩৮ জন মুক্ত। ৭ জনকে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমার কাছে প্রশান্তির বিষয় হলো হাসপাতালের অনেক বেড বাঁচিয়েছি।