ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মূল্যবোধভিত্তিক পেশাদারিত্বই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্তম্ভ: আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ডাক্তারের কাছে রোগী নয়, রোগীর কাছে ডাক্তার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০ ২০৩ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুর প্রতিনিধি; 

‘ডাক্তারের কাছে রোগী নয় রোগীর কাছে ডাক্তার’ এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে নড়িয়া ও সখিপুরের করোনা দুর্যোগে ঘরবন্দি মানুষের চিকিৎসার জন্য ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাকেন্দ্রে চালু করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম ভ্রাম্যমাণ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প দুটির উদ্বোধন করেন।
একটি টিম নড়িয়ায় ও অপরটি সখিপুর এলাকায় করোনা দুর্যোগে ঘরবন্দি মানুষকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসাসেবাসহ ওষুধ প্রদান করবেন। প্রতিটি টিমে দুইজন চিকিৎসক ও দুইজন নার্স সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। নিন্মোক্ত মোবাইলে ফোন দিলেই রোগীর কাছে পৌঁছে যাবে ডাক্তার ও ওষুধ।
মোবাইল নাম্বারগুলো হলো : ০১৭৮৮৭৩৬১৫১, ০১৭১৮৩৪৫৭৮৮ ও ০১৯১৭৭৭৭২৬৪।
ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা উদ্বোধনের সময় মন্ত্রী জেলার চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য ২০০০ মাস্ক, ২০০০ হ্যান্ড গ্লোভস ও ২০০ পিস পিপিই সিভিল সার্জন ডা. এস এম আব্দুল্লাহ আল মুরাদের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নড়িয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম বাবু রাড়ী, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
এর পরে মন্ত্রী নড়িয়া ও সখিপুর এলাকায় সরকারি সহায়তার বাইরে তার নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ১ হাজার কর্মহীন দুস্থ পরিবার ও এবং লকডাউনে থাকা ৩৪ পরিবারকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ২ কেজি ডালসহ খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন।
এছাড়াও তিনি ত্রাণ সহায়তার আওতায় সখিপুর এলাকার ১০০ পরিবারকে ২ বান্ডেল করে ঢেউটিন ও নগদ ৬ হাজার করে টাকা বিতরণ করেন।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে নড়িয়া-সখিপুরসহ জেলাবাসীর কাছে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য ব্যক্তিগত ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করে দেশকে নিরাপদ রাখার আহ্বান জানান।
এসময় মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বের এই সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশের অবস্থাও মহামারী রূপ নিয়েছে, সাধারণ রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসতে ভয় পাচ্ছে, অনেকে আতঙ্কে আছেন। তাই এখন আর ভয় আতঙ্ক নিয়ে কোনও রোগীকে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না, কল করলে ডাক্তারাই রোগীদের বাড়িতে চলে যাবেন চিকিৎসা দিতে। সাধারণ মানুষ ও রোগীদের কথা চিন্তা করে আমি এই ভ্রাম্যমাণ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এর ব্যবস্থা করেছি। যাতে করে আর কাউকে এই সংকটময় মুহূর্তে ঘর থেকে বের হতে না হয় এবং ঘরে বসে যেন সঠিক চিকিৎসা পায়। এর পর থেকে আশা করি আর কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। এই ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা দিবে, সেই সাথে দেয়া হবে ফ্রি ওষুধ। যতদিন দেশ থেকে করোনা না যাবে ততদিন চিকিৎসা সেবা 6দিয়ে যাবে এই মেডিকেল টিম।
তিনি আরও বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক ও শেখ হাসিনার কর্মী। আমরা বুঝি সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট, তাইতো এই দুঃসময়ে সাধারণ মানুষের যাতে কোনও কষ্ট না হয় এজন্য এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আমাদের খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এই করোনা মোকাবিলায় এবং করোনা দুর্যোগে ঘরবন্দি কর্মহীন অসহায় মানুষগুলো জন্য।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সাধারণ মানুষের অন্ন বস্ত্র বাসস্থান ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা হাসপাতাল সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ও চিকিৎসা সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ডাক্তারের কাছে রোগী নয়, রোগীর কাছে ডাক্তার

আপডেট সময় : ১০:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০

শরীয়তপুর প্রতিনিধি; 

‘ডাক্তারের কাছে রোগী নয় রোগীর কাছে ডাক্তার’ এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে নড়িয়া ও সখিপুরের করোনা দুর্যোগে ঘরবন্দি মানুষের চিকিৎসার জন্য ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাকেন্দ্রে চালু করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম ভ্রাম্যমাণ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প দুটির উদ্বোধন করেন।
একটি টিম নড়িয়ায় ও অপরটি সখিপুর এলাকায় করোনা দুর্যোগে ঘরবন্দি মানুষকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসাসেবাসহ ওষুধ প্রদান করবেন। প্রতিটি টিমে দুইজন চিকিৎসক ও দুইজন নার্স সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। নিন্মোক্ত মোবাইলে ফোন দিলেই রোগীর কাছে পৌঁছে যাবে ডাক্তার ও ওষুধ।
মোবাইল নাম্বারগুলো হলো : ০১৭৮৮৭৩৬১৫১, ০১৭১৮৩৪৫৭৮৮ ও ০১৯১৭৭৭৭২৬৪।
ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা উদ্বোধনের সময় মন্ত্রী জেলার চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য ২০০০ মাস্ক, ২০০০ হ্যান্ড গ্লোভস ও ২০০ পিস পিপিই সিভিল সার্জন ডা. এস এম আব্দুল্লাহ আল মুরাদের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নড়িয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম বাবু রাড়ী, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
এর পরে মন্ত্রী নড়িয়া ও সখিপুর এলাকায় সরকারি সহায়তার বাইরে তার নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ১ হাজার কর্মহীন দুস্থ পরিবার ও এবং লকডাউনে থাকা ৩৪ পরিবারকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ২ কেজি ডালসহ খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন।
এছাড়াও তিনি ত্রাণ সহায়তার আওতায় সখিপুর এলাকার ১০০ পরিবারকে ২ বান্ডেল করে ঢেউটিন ও নগদ ৬ হাজার করে টাকা বিতরণ করেন।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে নড়িয়া-সখিপুরসহ জেলাবাসীর কাছে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য ব্যক্তিগত ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করে দেশকে নিরাপদ রাখার আহ্বান জানান।
এসময় মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বের এই সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশের অবস্থাও মহামারী রূপ নিয়েছে, সাধারণ রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসতে ভয় পাচ্ছে, অনেকে আতঙ্কে আছেন। তাই এখন আর ভয় আতঙ্ক নিয়ে কোনও রোগীকে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না, কল করলে ডাক্তারাই রোগীদের বাড়িতে চলে যাবেন চিকিৎসা দিতে। সাধারণ মানুষ ও রোগীদের কথা চিন্তা করে আমি এই ভ্রাম্যমাণ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এর ব্যবস্থা করেছি। যাতে করে আর কাউকে এই সংকটময় মুহূর্তে ঘর থেকে বের হতে না হয় এবং ঘরে বসে যেন সঠিক চিকিৎসা পায়। এর পর থেকে আশা করি আর কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। এই ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা দিবে, সেই সাথে দেয়া হবে ফ্রি ওষুধ। যতদিন দেশ থেকে করোনা না যাবে ততদিন চিকিৎসা সেবা 6দিয়ে যাবে এই মেডিকেল টিম।
তিনি আরও বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক ও শেখ হাসিনার কর্মী। আমরা বুঝি সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট, তাইতো এই দুঃসময়ে সাধারণ মানুষের যাতে কোনও কষ্ট না হয় এজন্য এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আমাদের খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এই করোনা মোকাবিলায় এবং করোনা দুর্যোগে ঘরবন্দি কর্মহীন অসহায় মানুষগুলো জন্য।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সাধারণ মানুষের অন্ন বস্ত্র বাসস্থান ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা হাসপাতাল সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ও চিকিৎসা সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।