• ১৩ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৩৮ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

সকালের সংবাদ ডেস্ক;
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯, ২৩:০৯ অপরাহ্ণ
কেন্দুয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৩৮ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

কেন্দুয়া ও নেত্রকোনা প্রতিনিধি;
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ এবং এর উত্তর পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানায় দায়ের করা মামলায় অবশেষে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলা দায়েরের ছয় মাস পর তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো.রফিকুল ইসলাম মামলার এজাহারনামীয় ৩৭ জন আসামিসহ প্রশ্নপত্র ফাঁসচক্রের ৩৮ সদস্যকে অভিযুক্ত করে বুধবার এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযুক্তদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের স্বজনেরা রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা চলাকালে গত ২৮ জুন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ এবং এর উত্তর পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করার সময় কেন্দুয়া পৌরসভার টেঙ্গুরি-ছয়আনী এলাকার বাসিন্দা শিল্পপতি মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া শামীমের বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রশ্নপত্র ফাঁসচক্রের ৩২ সদস্যকে আটক করে। ওই সময় তাঁদের কাছ থেকে কয়েকটি মুঠোফোন, ল্যাপটপ ও প্রিন্টারসহ ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

ঘটনার দিন আটক ৩২ জনের মধ্যে অন্তত ১২জন নারী ছিলেন। আর ওই নারীদের মধ্যে ৯ জন ছিলেন বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এর মধ্যে একজন ছিলেন প্রধান শিক্ষক। পরে ওই ৯ নারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অন্যদিকে আটক পুরুষদের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন দুজন। এদের মধ্যে ঘটনার অন্যতম হোতা উপজেলার বলাইশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান ছোটনসহ তাঁর আত্মীয় পুরাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সাকিকেও পরে সাময়িক বরখাস্ত হয়। এ ছাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন দুজন। আর বাকীরা ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ কলেজের শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের স্বজন।

পরে এ ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় একটি মামলাটি দায়ের করা হয়। কেন্দুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ ও পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন-১৯৮০-এর দুটি পৃথক ধারায় মামলাটি করেন। ওই মামলায় প্রশ্নপত্র চক্রের অন্যতম হোতা বলাইশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (পরে সাময়িক বরখাস্ত) আবদুল মান্নান ওরফে ছোটনকে প্রধান করে ৩৭ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারনামীয় আসামির তালিকায় ঘটনারদিন আটক ৩২ জন ছাড়াও চক্রের অপর সদস্য নেত্রকোনা সরকারি কলেজের শিক্ষক মোমেন, নেত্রকোনা সদরের উন্মেষ হাই স্কুলের রিপন ও কৃষ্ণগোবিন্দ হাই স্কুলের ঝন্টুও রয়েছেন। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা পরবর্তীতে জেল খেটে এবং বাকীরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ অবস্থায় পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর এ মামলার এজাহারনামীয় সকল আসামিসহ ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ এবং এর উত্তর পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। এতে মামলার এজাহারনামীয় ৩৭ আসামিসহ উপজেলার নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন অফিস সহায়ককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামানও চাঞ্চল্যকর এ মামলায় এজাহারনামীয় ৩৭ আসামিসহ ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিলের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৮
  • ১১:৫৮
  • ৪:৩২
  • ৬:৩৫
  • ৭:৫৭
  • ৫:১৮