ঢাকা ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মূল্যবোধভিত্তিক পেশাদারিত্বই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্তম্ভ: আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

বাবার কবরের ওপর টয়লেট নির্মাণ করল ছেলে!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯ ২১০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক; 
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তারের কবরের ওপর টয়লেট নির্মাণ করেছেন তারই ছেলে কাস্টমস কর্মকর্তা আবদুর রউফ খান। উপজেলার বারুনিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে গতকাল রোববার বিকেলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা কবরের প্রাচীরের ওপর টয়লেটের জন্য নির্মাণ করা প্রাচীর ভেঙে দিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার ২০১৭ সালে মারা যান। এরপর তার ১২ শতক জমি দুই ছেলে ও দুই মেয়ে ভাগ করে নেন।

বড় ছেলে আসাদ খান মুনির জানান, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ম মাফিক ভাগাভাগি হলেও নিজের অংশ নিয়ে তার ছোট ভাই কাস্টমস ইন্সপেক্টর আবদুর রউফ শুরু থেকেই সংক্ষুব্ধ ছিল। এর জেরে সম্প্রতি সে বাবার কবরের প্রাচীরের ওপর থেকে প্রাচীর তুলে টয়লেট নির্মাণের কাজ শুরু করে। বিষয়টি জানার পর পরিবারের সবাই বাধা দিলেও রউফ শোনেনি।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী জানান, মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তারের কবরের ওপর টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে- তার পরিবারের সদস্যরা এই তথ্য জানালে রোববার স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি কবরের ওপর তোলা টয়লেটের প্রাচীর ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। সন্ধ্যায় স্থানীয়রা প্রাচীরটি ভেঙে ফেলেছেন।

এ বিষয়ে বগুড়ায় কর্মরত কাস্টমস ইন্সপেক্টর আবদুর রউফ খান জানান, জমি-জমা ভাগাভাগির সময় কবরের জায়গাটা তার ভাগে পড়ে। সমস্যা যা হয়েছিল তা স্থানীয় মুরব্বি ও মুক্তিযোদ্ধারা রোববার সন্ধ্যায় সমাধান করে দিয়েছেন। তার বাবার কবর আগের মতোই আছে।

শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. ফুয়ারা খাতুন জানান, একজন মুক্তিযোদ্ধা তাকে এ বিষয়ে ফোনে জানিয়েছিলেন। পরে তিনি কবরের ওপর নির্মাণাধীন স্থাপনা ভেঙে দেয়ার নির্দেশ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

বাবার কবরের ওপর টয়লেট নির্মাণ করল ছেলে!

আপডেট সময় : ০৭:২১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক; 
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তারের কবরের ওপর টয়লেট নির্মাণ করেছেন তারই ছেলে কাস্টমস কর্মকর্তা আবদুর রউফ খান। উপজেলার বারুনিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে গতকাল রোববার বিকেলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা কবরের প্রাচীরের ওপর টয়লেটের জন্য নির্মাণ করা প্রাচীর ভেঙে দিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার ২০১৭ সালে মারা যান। এরপর তার ১২ শতক জমি দুই ছেলে ও দুই মেয়ে ভাগ করে নেন।

বড় ছেলে আসাদ খান মুনির জানান, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ম মাফিক ভাগাভাগি হলেও নিজের অংশ নিয়ে তার ছোট ভাই কাস্টমস ইন্সপেক্টর আবদুর রউফ শুরু থেকেই সংক্ষুব্ধ ছিল। এর জেরে সম্প্রতি সে বাবার কবরের প্রাচীরের ওপর থেকে প্রাচীর তুলে টয়লেট নির্মাণের কাজ শুরু করে। বিষয়টি জানার পর পরিবারের সবাই বাধা দিলেও রউফ শোনেনি।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী জানান, মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তারের কবরের ওপর টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে- তার পরিবারের সদস্যরা এই তথ্য জানালে রোববার স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি কবরের ওপর তোলা টয়লেটের প্রাচীর ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। সন্ধ্যায় স্থানীয়রা প্রাচীরটি ভেঙে ফেলেছেন।

এ বিষয়ে বগুড়ায় কর্মরত কাস্টমস ইন্সপেক্টর আবদুর রউফ খান জানান, জমি-জমা ভাগাভাগির সময় কবরের জায়গাটা তার ভাগে পড়ে। সমস্যা যা হয়েছিল তা স্থানীয় মুরব্বি ও মুক্তিযোদ্ধারা রোববার সন্ধ্যায় সমাধান করে দিয়েছেন। তার বাবার কবর আগের মতোই আছে।

শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. ফুয়ারা খাতুন জানান, একজন মুক্তিযোদ্ধা তাকে এ বিষয়ে ফোনে জানিয়েছিলেন। পরে তিনি কবরের ওপর নির্মাণাধীন স্থাপনা ভেঙে দেয়ার নির্দেশ দেন।