ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মূল্যবোধভিত্তিক পেশাদারিত্বই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্তম্ভ: আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

রংপুরে প্রস্তুত এরশাদের কবর ও জানাজার মাঠ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ ১৮৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর; 
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ আজ মঙ্গলবার রংপুরে আনা হবে। বেলা ১১টায় এরশাদের মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার রংপুর সেনানিবাসের হ্যালিপ্যাডে অবতরণ করার কথা রয়েছে। সেখান থেকে তার মরদেহ নেয়া হবে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তার কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং তাকে শেষ দর্শন করবেন। বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

জানাজায় ইমামতি করবেন রংপুর করিমিয়া নুরুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুহম্মদ ইদ্রিস আলী। তাকে সমাহিত করতে পল্লীনিবাসের লিচু বাগানে প্রস্তুত করা হয়েছে কবর। তবে দলের পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজা শেষে এরশাদের মরদেহ ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির দফতর সম্পাদক জাহিদ হোসেন লুসিড জানান, জানাজায় ও দাফন কার্যে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন বলেন, জানাজা শেষে স্যারের (এরশাদ) মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পল্লীনিবাসে। সেখানে লিচুতলায় তাকে দাফন করা হবে। এজন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির বলেন, এরশাদ স্যারের পল্লীনিবাসের ভেতরে গড়া পিতা মকবুল হোসেন মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতলের লিচু বাগানের উত্তরপূর্ব পাশে সমাধির স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার বিকেল ৩টায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কবর খনন শুরু করা হয় । নগরীর দর্শনা মোড় এলাকার জাতীয় পার্টি কর্মী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, আশরাফ আলী ও রোকনুদ্দিন এবং বালাপাড়া এলাকার জাকির হোসেন ও সবুজ আহমেদ কবরটি পুরোপুরি প্রস্তুত করেন। এখন কবরটি প্রস্তুত রয়েছে।

রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাফিউল ইসলাম শাফী বলেন, পল্লীনিবাসের লিচু বাগানটি এরশাদ স্যারের আগ্রহে তৈরি হয়েছে। তিনি নিজেই গাছ লাগিয়েছেন। রংপুর আসলেই ভোরে তিনি গাছে পানি দিতেন। পরিচর্যা করতেন। সেখানেই তিনি সমাহিত হবেন। কবর খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, এরশাদ স্যার পল্লীনিবাস থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিলেন। একটি নতুন বাড়িও নির্মাণ করছিলেন। কিন্তু সেই বাড়িতে উঠতে পারেননি। তাকে পল্লীনিবাসে সমাহিত করে আমরা একটি স্মৃতি কমপ্লেক্স তৈরি করবো। সেখানে এরশাদের জীবন দর্শন নিয়ে একটি মিউজিয়াম করা হবে। মসজিদ-মাদরাসা কমপ্লেক্স থাকবে। তার সমাধিকে ঘিরে তার জীবন ও কর্মের চেতনার বাতি আমরা দেশে-বিদেশে জ্বালিয়ে দিতে চাই। তার অবর্তমানে তার ভাই জিএম কাদেরের নির্দেশনার আলোকে আমরা জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য সকল প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি।

এদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ রংপুর। মসজিদ, বাসায় ও অফিসে অফিসে চলছে কোরআনখানি। নগরীর মোড়ে মোড়ে মাইকে প্রচার হচ্ছে কোরআন তেলাওয়াত। নেতাকর্মীরা কালো ব্যাচ ধারণ করেছেন।
এছাড়াও এরশাদের স্মরণে রংপুরের সকল ব্যবসায়ী সংগঠন আজ বেলা ২টা পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, এরশাদ স্যার আমাদের জন্য অনেক করেছেন। আজ তিনি নেই। তার সম্মানে আমরা মঙ্গলবার আধাবেলা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওষুধ-খাবার ছাড়া সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত রোববার (১৪ জুলাই) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন। রোববার বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় এবং বাদ আসর বায়তুল মোকাররম মসজিদে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

রংপুরে প্রস্তুত এরশাদের কবর ও জানাজার মাঠ

আপডেট সময় : ১০:৫৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর; 
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ আজ মঙ্গলবার রংপুরে আনা হবে। বেলা ১১টায় এরশাদের মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার রংপুর সেনানিবাসের হ্যালিপ্যাডে অবতরণ করার কথা রয়েছে। সেখান থেকে তার মরদেহ নেয়া হবে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তার কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং তাকে শেষ দর্শন করবেন। বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

জানাজায় ইমামতি করবেন রংপুর করিমিয়া নুরুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুহম্মদ ইদ্রিস আলী। তাকে সমাহিত করতে পল্লীনিবাসের লিচু বাগানে প্রস্তুত করা হয়েছে কবর। তবে দলের পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজা শেষে এরশাদের মরদেহ ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির দফতর সম্পাদক জাহিদ হোসেন লুসিড জানান, জানাজায় ও দাফন কার্যে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন বলেন, জানাজা শেষে স্যারের (এরশাদ) মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পল্লীনিবাসে। সেখানে লিচুতলায় তাকে দাফন করা হবে। এজন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির বলেন, এরশাদ স্যারের পল্লীনিবাসের ভেতরে গড়া পিতা মকবুল হোসেন মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতলের লিচু বাগানের উত্তরপূর্ব পাশে সমাধির স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার বিকেল ৩টায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কবর খনন শুরু করা হয় । নগরীর দর্শনা মোড় এলাকার জাতীয় পার্টি কর্মী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, আশরাফ আলী ও রোকনুদ্দিন এবং বালাপাড়া এলাকার জাকির হোসেন ও সবুজ আহমেদ কবরটি পুরোপুরি প্রস্তুত করেন। এখন কবরটি প্রস্তুত রয়েছে।

রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাফিউল ইসলাম শাফী বলেন, পল্লীনিবাসের লিচু বাগানটি এরশাদ স্যারের আগ্রহে তৈরি হয়েছে। তিনি নিজেই গাছ লাগিয়েছেন। রংপুর আসলেই ভোরে তিনি গাছে পানি দিতেন। পরিচর্যা করতেন। সেখানেই তিনি সমাহিত হবেন। কবর খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, এরশাদ স্যার পল্লীনিবাস থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিলেন। একটি নতুন বাড়িও নির্মাণ করছিলেন। কিন্তু সেই বাড়িতে উঠতে পারেননি। তাকে পল্লীনিবাসে সমাহিত করে আমরা একটি স্মৃতি কমপ্লেক্স তৈরি করবো। সেখানে এরশাদের জীবন দর্শন নিয়ে একটি মিউজিয়াম করা হবে। মসজিদ-মাদরাসা কমপ্লেক্স থাকবে। তার সমাধিকে ঘিরে তার জীবন ও কর্মের চেতনার বাতি আমরা দেশে-বিদেশে জ্বালিয়ে দিতে চাই। তার অবর্তমানে তার ভাই জিএম কাদেরের নির্দেশনার আলোকে আমরা জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য সকল প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি।

এদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ রংপুর। মসজিদ, বাসায় ও অফিসে অফিসে চলছে কোরআনখানি। নগরীর মোড়ে মোড়ে মাইকে প্রচার হচ্ছে কোরআন তেলাওয়াত। নেতাকর্মীরা কালো ব্যাচ ধারণ করেছেন।
এছাড়াও এরশাদের স্মরণে রংপুরের সকল ব্যবসায়ী সংগঠন আজ বেলা ২টা পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, এরশাদ স্যার আমাদের জন্য অনেক করেছেন। আজ তিনি নেই। তার সম্মানে আমরা মঙ্গলবার আধাবেলা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওষুধ-খাবার ছাড়া সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত রোববার (১৪ জুলাই) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন। রোববার বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় এবং বাদ আসর বায়তুল মোকাররম মসজিদে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।