ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মূল্যবোধভিত্তিক পেশাদারিত্বই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্তম্ভ: আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

‘গাঁজা খেয়ে খেয়ে আমি ফকির হয়ে গেছি’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ ২০৫ বার পড়া হয়েছে

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি; 
‘টানা ২০ বছর ধরে গাঁজা খেয়ে আসছি। গাঁজার নেশার কারণে ভিটে-মাটি, আত্মীয়-স্বজন সব হারিয়েছি। কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না। শুনেছি গাঁজা খেলে নাকি রাজা হয়, কিন্তু আমি তো ফকির হয়ে গেছি।’

গাঁজা সেবনের দায়ে আটক ও ৩ মাসের কারাদণ্ড পাওয়া গৈজদ্দিন সরদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তি এসব কথাগুলো বলেন।

তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ময়ছের মাতব্বর পাড়ার মৃত আলাউদ্দিন সরদারের ছেলে।

রোববার বিকাল ৫টার দিকে তাকে পৌরসভার কাজীপাড়া থেকে গাঁজা সেবনকালে আটক করা হয়। এ সময় তার দীর্ঘদিনের সেবন সঙ্গী শহিদুল ইসলাম (৫২) নামে অপর একজনকেও আটক করা হয়।

গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আমার ভালোভাবে কাজকর্ম করে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ ছিল। কিন্তু গাঁজার নেশার কারণে তা হয়নি। এখন ঠিক মতো কোনো কাজকর্মও করতে পারি না। স্ত্রী মারা গেছে কয়েক বছর হলো। ছেলেমেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। ওরা ওদের মতো আছে।

তিনি বলেন, নিজের ভিটের ৫ শতাংশ জমি আরও কয়েক বছর আগে ছোট ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। বর্তমানে যেখানে রাত, সেখানেই কাত। জমি বিক্রির টাকার বেশিরভাগই গাঁজার পেছনে গেছে।

এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি অতি সাধারণ গাঁজাসেবী। যারা ভিআইপি গাঁজাসেবী ওনারা গোয়ালন্দ রেল স্টেশনের পেছনে গাঁজা সেবনের বিশেষ ব্যবস্থা করেছেন। ওখানে আমার মতো সাধারণরা যেতে পারে না।

গৈজদ্দিন ও সহিদুল ইসলাম ছাড়াও ওই দিন দৌলতদিয়া পোড়াভিটার করিমের বাড়ি থেকে গাঁজা সেবনকালে আরও ৪ জনকে আটক করা হয়। এরা হলেন- কুদ্দুস ফকির (৪০), হালিম মোল্লা (৩৫), রিয়াদ সিকদার (৩৩) ও শফিকুল ইসলাম (৪০)।

আটক ৬ জনকেই ৩ মাস করে কারাদণ্ড দিয়ে রাজবাড়ীর কারাগারে পাঠানো হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাজবাড়ীর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একটি দলকে নিয়ে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আটক ৬ গাঁজাসেবীকে ৩ মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আটককালে গৈজদ্দিন ও সহিদুলের কাছ থেকে ১২ পুড়িয়া গাঁজা ও গাঁজা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয় বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

‘গাঁজা খেয়ে খেয়ে আমি ফকির হয়ে গেছি’

আপডেট সময় : ১০:৩৩:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি; 
‘টানা ২০ বছর ধরে গাঁজা খেয়ে আসছি। গাঁজার নেশার কারণে ভিটে-মাটি, আত্মীয়-স্বজন সব হারিয়েছি। কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না। শুনেছি গাঁজা খেলে নাকি রাজা হয়, কিন্তু আমি তো ফকির হয়ে গেছি।’

গাঁজা সেবনের দায়ে আটক ও ৩ মাসের কারাদণ্ড পাওয়া গৈজদ্দিন সরদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তি এসব কথাগুলো বলেন।

তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ময়ছের মাতব্বর পাড়ার মৃত আলাউদ্দিন সরদারের ছেলে।

রোববার বিকাল ৫টার দিকে তাকে পৌরসভার কাজীপাড়া থেকে গাঁজা সেবনকালে আটক করা হয়। এ সময় তার দীর্ঘদিনের সেবন সঙ্গী শহিদুল ইসলাম (৫২) নামে অপর একজনকেও আটক করা হয়।

গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আমার ভালোভাবে কাজকর্ম করে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ ছিল। কিন্তু গাঁজার নেশার কারণে তা হয়নি। এখন ঠিক মতো কোনো কাজকর্মও করতে পারি না। স্ত্রী মারা গেছে কয়েক বছর হলো। ছেলেমেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। ওরা ওদের মতো আছে।

তিনি বলেন, নিজের ভিটের ৫ শতাংশ জমি আরও কয়েক বছর আগে ছোট ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। বর্তমানে যেখানে রাত, সেখানেই কাত। জমি বিক্রির টাকার বেশিরভাগই গাঁজার পেছনে গেছে।

এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি অতি সাধারণ গাঁজাসেবী। যারা ভিআইপি গাঁজাসেবী ওনারা গোয়ালন্দ রেল স্টেশনের পেছনে গাঁজা সেবনের বিশেষ ব্যবস্থা করেছেন। ওখানে আমার মতো সাধারণরা যেতে পারে না।

গৈজদ্দিন ও সহিদুল ইসলাম ছাড়াও ওই দিন দৌলতদিয়া পোড়াভিটার করিমের বাড়ি থেকে গাঁজা সেবনকালে আরও ৪ জনকে আটক করা হয়। এরা হলেন- কুদ্দুস ফকির (৪০), হালিম মোল্লা (৩৫), রিয়াদ সিকদার (৩৩) ও শফিকুল ইসলাম (৪০)।

আটক ৬ জনকেই ৩ মাস করে কারাদণ্ড দিয়ে রাজবাড়ীর কারাগারে পাঠানো হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাজবাড়ীর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একটি দলকে নিয়ে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আটক ৬ গাঁজাসেবীকে ৩ মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আটককালে গৈজদ্দিন ও সহিদুলের কাছ থেকে ১২ পুড়িয়া গাঁজা ও গাঁজা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয় বলে জানান তিনি।