ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মূল্যবোধভিত্তিক পেশাদারিত্বই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্তম্ভ: আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

২০ বছর পর হাঁটতে শিখেছে শিশু চম্পা !

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯ ২১৪ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি;
২০ বছর বয়স হলেও শিশুই রয়ে গেছে চম্পা। চার মাস আগেও চম্পার একমাত্র আশ্রয় ছিল বড় বোন ময়না ও মা মিনুয়ারার কোল। এখন সে হাঁটতে পারে। ঝিনাইদহ শহরের আলফালাহ হাসপাতালে ডা. অলোক কুমার সাহার চেম্বারে গিয়ে দেখা যায় চম্পা দুষ্টামি করাসহ মেঝেজুড়ে হাঁটাহাঁটি আর অন্য শিশুদের সঙ্গে খুনসুটি করে বেড়াচ্ছে।

চার মাস আগে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০ বছর বয়সী শিশু চম্পার দুর্বিষহ জীবন কাটানোর খবর প্রকাশিত হলে চিকিৎসার দায়িত্ব নেন শিশু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. অলোক কুমার সাহা। ডাক্তারের ওষুধ সেবন করে চার মাসের মধ্যে কোল থেকে নেমে কেবল হাঁটা শিখেছে চম্পা।

২০ বছর বয়সী চম্পা খাতুন ‘শিশু’ কেবল হাসতে আর কাঁদতে পারতো। বয়স বাড়লেও বাড়েনি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। নেই শরীরের কোনো পরিবর্তন। যে বয়সে পড়ালেখা বা বিয়ের রঙ্গিন স্বপ্ন থাকার কথা সেই বয়সে চম্পা মায়ের কোলে চেপে বসে থাকে।

এখন তার শারীরিক বৃদ্ধির অপেক্ষা। চম্পা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের হাসেম আলী মোল্লার মেয়ে। বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী হিসেবে সমাজসেবা থেকে তার নাম নিবন্ধিত করা হয়েছে। সে থাইরয়েডিজম রোগে আক্রান্ত।

চম্পার মা মিনুয়ারা বেগম জানান, ১৯৯৯ সালের ২৮ এপ্রিল চম্পা খাতুনের জন্ম। জন্মের পর থেকে সে প্রতিবন্ধী। আচরণ করে শিশুর মতো। কোনো কথা বলতে পারে না। কেবল হাসতে আর কাঁদতে পারে। সারাক্ষণ মানুষের কোলে কোলেই তার দিন কাটাতো। চার মাস চিকিৎসার পর এখন সে হাঁটতে পারছে।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. অলোক কুমার সাহা জানান, এ রোগটিকে বলে থাইরয়েডিজম। শিশুকাল থেকে চিকিৎসা করা হলে রোগটি ভালো হতো। কিন্তু এখন তার শারীরিক বৃদ্ধির বিষয়টি রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে।

তিনি বলেন, থাইরয়েড পরীক্ষার পর এ রোগের চিকিৎসা শুরু করে চার মাসে চম্পা হাটতে শিখেছে। তিনি আরও বলেন, ২০ বছরের শিশু চম্পা আরও বড় হবে। তার বুদ্ধি বাড়বে। নিজের কাজ নিজে করতে পারবে বলে তিনি আশা করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

২০ বছর পর হাঁটতে শিখেছে শিশু চম্পা !

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯

জেলা প্রতিনিধি;
২০ বছর বয়স হলেও শিশুই রয়ে গেছে চম্পা। চার মাস আগেও চম্পার একমাত্র আশ্রয় ছিল বড় বোন ময়না ও মা মিনুয়ারার কোল। এখন সে হাঁটতে পারে। ঝিনাইদহ শহরের আলফালাহ হাসপাতালে ডা. অলোক কুমার সাহার চেম্বারে গিয়ে দেখা যায় চম্পা দুষ্টামি করাসহ মেঝেজুড়ে হাঁটাহাঁটি আর অন্য শিশুদের সঙ্গে খুনসুটি করে বেড়াচ্ছে।

চার মাস আগে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০ বছর বয়সী শিশু চম্পার দুর্বিষহ জীবন কাটানোর খবর প্রকাশিত হলে চিকিৎসার দায়িত্ব নেন শিশু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. অলোক কুমার সাহা। ডাক্তারের ওষুধ সেবন করে চার মাসের মধ্যে কোল থেকে নেমে কেবল হাঁটা শিখেছে চম্পা।

২০ বছর বয়সী চম্পা খাতুন ‘শিশু’ কেবল হাসতে আর কাঁদতে পারতো। বয়স বাড়লেও বাড়েনি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। নেই শরীরের কোনো পরিবর্তন। যে বয়সে পড়ালেখা বা বিয়ের রঙ্গিন স্বপ্ন থাকার কথা সেই বয়সে চম্পা মায়ের কোলে চেপে বসে থাকে।

এখন তার শারীরিক বৃদ্ধির অপেক্ষা। চম্পা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের হাসেম আলী মোল্লার মেয়ে। বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী হিসেবে সমাজসেবা থেকে তার নাম নিবন্ধিত করা হয়েছে। সে থাইরয়েডিজম রোগে আক্রান্ত।

চম্পার মা মিনুয়ারা বেগম জানান, ১৯৯৯ সালের ২৮ এপ্রিল চম্পা খাতুনের জন্ম। জন্মের পর থেকে সে প্রতিবন্ধী। আচরণ করে শিশুর মতো। কোনো কথা বলতে পারে না। কেবল হাসতে আর কাঁদতে পারে। সারাক্ষণ মানুষের কোলে কোলেই তার দিন কাটাতো। চার মাস চিকিৎসার পর এখন সে হাঁটতে পারছে।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. অলোক কুমার সাহা জানান, এ রোগটিকে বলে থাইরয়েডিজম। শিশুকাল থেকে চিকিৎসা করা হলে রোগটি ভালো হতো। কিন্তু এখন তার শারীরিক বৃদ্ধির বিষয়টি রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে।

তিনি বলেন, থাইরয়েড পরীক্ষার পর এ রোগের চিকিৎসা শুরু করে চার মাসে চম্পা হাটতে শিখেছে। তিনি আরও বলেন, ২০ বছরের শিশু চম্পা আরও বড় হবে। তার বুদ্ধি বাড়বে। নিজের কাজ নিজে করতে পারবে বলে তিনি আশা করছেন।