ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মূল্যবোধভিত্তিক পেশাদারিত্বই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্তম্ভ: আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

কক্সবাজারের ৪৬০৮৭ জেলে পরিবার পাচ্ছে ৪০ কেজি করে চাল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০১৯ ১৮২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব সংবাদদাতা;

উপকূলীয় এলাকায় মাছ আহরণ ছাড়া জেলেদের আয়ের অন্য কোনো উৎস না থাকায় মাছ ধরা বন্ধের সময় জেলেদের জীবিকা নির্বাহ অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ক্ষুধা নিবারণ ও দাদনদারদের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার জন্য জেলেদের বঙ্গোপসাগরে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন মাছ ও চিংড়ি জাতীয় মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধের সময় কক্সবাজারের ৪৬ হাজার ৮৭ জন জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি করে চাল দেবে সরকার।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রমতে, কক্সবাজারে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৮ হাজার ৩৯৩ জন। কিন্তু জেলায় এর বাইরে আরও ৫০ হাজারের বেশি জেলে রয়েছে। মাত্র ৪৬ হাজার জেলের পরিবারের জন্য চাল বরাদ্দ করলেও অধিকাংশ জেলেই সহায়তার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তবে যেসব জেলে পরিবার সরকারি চাল বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের সহায়তা দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাছ ধরা বন্ধের সময়ে জেলেদের খাদ্যশস্য সহায়তা দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে কক্সবাজার জেলায় ১ হাজার ৮৪৩ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই খাদ্যশস্যের উপকারভোগি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৮৭ জন জেলের পরিবার। প্রতি পরিবারে ৪০ কেজি করে বিতরণ করা হবে।

সূত্রমতে, কক্সবাজারে ৭ উপজেলার ৪৬ হাজার ৮৭ জন জেলের পরিবারের চাল বরাদ্দ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৭ হাজার ৯৫ জন, চকরিয়ায় ৩ হাজার ৮৪৯ জন, মহেশখালীতে ১১ হাজার ৪২২ জন, উখিয়ায় ৩ হাজার ৩৯৯ জন, পেকুয়ায় ৩ হাজার ৯৪৯ জন, কুতুবদিয়ায় ৮ হাজার ৫১৩ জন ও টেকনাফে ৭ হাজার ৮৬০ জন জেলে পরিবার।

জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও পুর্নবাসন শাখার উচ্চমান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, মন্ত্রনালয় থেকে ইতোমধ্যে খাদ্যশস্য হিসেবে ভিজিএফ চালগুলোর বরাদ্দ পৌছেছে। বিতরণের জন্য শিগগিরই স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৌছে দেওয়া হবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার বলেন- শুধু নিবন্ধিত জেলে নয়, সবাইকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণের (চাল ও অন্যান্য সামগ্রি) ২৫ শতাংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠিকে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ওই ২৫ শতাংশ ত্রাণ আপাতত জেলার সব জেলে পরিবারের মাঝে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই বিতরণ শুরু হবে। প্রত্যেক জেলের কাছে সহায়তা পৌছানো হবে। ইতোমধ্যে কুতুবদিয়া ও মহেশখালীতে প্রায় ৪ হাজার পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, সবার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আশাকরি কোন জেলে পরিবার সহায়তার বাইরে থাকবে না। শিগগিরই প্রত্যেকের কাছে সহায়তা পৌছে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

কক্সবাজারের ৪৬০৮৭ জেলে পরিবার পাচ্ছে ৪০ কেজি করে চাল

আপডেট সময় : ০৬:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০১৯

নিজস্ব সংবাদদাতা;

উপকূলীয় এলাকায় মাছ আহরণ ছাড়া জেলেদের আয়ের অন্য কোনো উৎস না থাকায় মাছ ধরা বন্ধের সময় জেলেদের জীবিকা নির্বাহ অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ক্ষুধা নিবারণ ও দাদনদারদের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার জন্য জেলেদের বঙ্গোপসাগরে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন মাছ ও চিংড়ি জাতীয় মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধের সময় কক্সবাজারের ৪৬ হাজার ৮৭ জন জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি করে চাল দেবে সরকার।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রমতে, কক্সবাজারে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৮ হাজার ৩৯৩ জন। কিন্তু জেলায় এর বাইরে আরও ৫০ হাজারের বেশি জেলে রয়েছে। মাত্র ৪৬ হাজার জেলের পরিবারের জন্য চাল বরাদ্দ করলেও অধিকাংশ জেলেই সহায়তার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তবে যেসব জেলে পরিবার সরকারি চাল বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের সহায়তা দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাছ ধরা বন্ধের সময়ে জেলেদের খাদ্যশস্য সহায়তা দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে কক্সবাজার জেলায় ১ হাজার ৮৪৩ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই খাদ্যশস্যের উপকারভোগি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৮৭ জন জেলের পরিবার। প্রতি পরিবারে ৪০ কেজি করে বিতরণ করা হবে।

সূত্রমতে, কক্সবাজারে ৭ উপজেলার ৪৬ হাজার ৮৭ জন জেলের পরিবারের চাল বরাদ্দ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৭ হাজার ৯৫ জন, চকরিয়ায় ৩ হাজার ৮৪৯ জন, মহেশখালীতে ১১ হাজার ৪২২ জন, উখিয়ায় ৩ হাজার ৩৯৯ জন, পেকুয়ায় ৩ হাজার ৯৪৯ জন, কুতুবদিয়ায় ৮ হাজার ৫১৩ জন ও টেকনাফে ৭ হাজার ৮৬০ জন জেলে পরিবার।

জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও পুর্নবাসন শাখার উচ্চমান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, মন্ত্রনালয় থেকে ইতোমধ্যে খাদ্যশস্য হিসেবে ভিজিএফ চালগুলোর বরাদ্দ পৌছেছে। বিতরণের জন্য শিগগিরই স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৌছে দেওয়া হবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার বলেন- শুধু নিবন্ধিত জেলে নয়, সবাইকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণের (চাল ও অন্যান্য সামগ্রি) ২৫ শতাংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠিকে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ওই ২৫ শতাংশ ত্রাণ আপাতত জেলার সব জেলে পরিবারের মাঝে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই বিতরণ শুরু হবে। প্রত্যেক জেলের কাছে সহায়তা পৌছানো হবে। ইতোমধ্যে কুতুবদিয়া ও মহেশখালীতে প্রায় ৪ হাজার পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, সবার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আশাকরি কোন জেলে পরিবার সহায়তার বাইরে থাকবে না। শিগগিরই প্রত্যেকের কাছে সহায়তা পৌছে যাবে।