ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের ৫ টাকায় দুপুরের খাবার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০১৯ ২১৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী;
মাত্র ৫ টাকায় শিক্ষার্থীদের দুপুরে ডালভাত খাওয়ানোর ‘প্যাকেজ’ চালু করেছেন রাজশাহীর আড়ানীর একজন হোটেল ব্যবসায়ী। পাঁচ বছর ধরে পাঁচ টাকায় শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার খাওয়াচ্ছেন তিনি।

পাঁচ টাকার প্যাকেজের কথা জিজ্ঞেস করতেই হোটেল মালিক বিপ্লব সরকার বলেন, গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে আসে না। অনেকের বেশি টাকা দিয়ে হোটেলে দুপুরের খাবার কিনে খাওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। তারা স্কুলে এসে টিফিনের সময় আশপাশের দোকান থেকে মুখরোচক কিছু একটা কিনে খায়। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অথচ দুপুরে এক প্লেট ভাত খেতে পারলে তাদের শরীর ভালো থাকে। এই চিন্তা থেকেই পাঁচ বছর আগেই এই প্যাকেজ চালু করেছি আমি।

বিপ্লব সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের কয়েকটি শর্তে খেতে দেই আমি। হোটেলের এই প্যাকেজ খেতে হলে অবশ্যই স্কুল ড্রেস পরে আসতে হবে। আর খাবার আগে বা পরে বাইরের দোকানে অন্য কোনো মুখরোচক খাবার খাওয়া যাবে না। আমি দেখেছি বেশির ভাগ বাচ্চা এক প্লেটের বেশি ভাত খেতে পারে না। ভাতের সঙ্গে সবজি আর ডাল দিয়ে এই প্যাকেজটি চালু করেছি। খাবার সময় কোনো বাচ্চা যেন সবজি নষ্ট না করে সেটিও আমি দেখি।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শরীরের জন্য সবজির বড় প্রয়োজন। তাই তাদের সবজি খেতে বাধ্য করি। টমেটোর মৌসুমে টমেটোর সালাদ খেতে বাধ্য করি। এই প্যাকেজটির মূল্য পাঁচ টাকা। তবে পাশাপাশি খেতে বসে কোনো বাচ্চা যদি বেশি টাকা দিয়ে মুরগির মাংস খেতে চায়। তাহলে পাশের বাচ্চাটাকেও ছোট এক টুকরা মুরগির মাংস ও একটু ঝোল দেই। যাতে তার মন খারাপ না হয়। এসব আমি লক্ষ্য করি।

বিপ্লব সরকার বলেন, মনের আনন্দে এই কাজটি করছি আমি। সেবার মানসিকতা থেকে করছি। কারণ আমার এসএসসি পরীক্ষা দেয়া হয়নি। লেখাপড়া না করে কী ভুল করেছি এখন তা বুঝতে পারি। এজন্য যেসব শিশু লেখাপড়া শিখছে, তারা যেন শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে, সেজন্য সাধ্যের মধ্যে যতটুকু পারছি সহযোগিতা করছি তাদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

শিক্ষার্থীদের ৫ টাকায় দুপুরের খাবার

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী;
মাত্র ৫ টাকায় শিক্ষার্থীদের দুপুরে ডালভাত খাওয়ানোর ‘প্যাকেজ’ চালু করেছেন রাজশাহীর আড়ানীর একজন হোটেল ব্যবসায়ী। পাঁচ বছর ধরে পাঁচ টাকায় শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার খাওয়াচ্ছেন তিনি।

পাঁচ টাকার প্যাকেজের কথা জিজ্ঞেস করতেই হোটেল মালিক বিপ্লব সরকার বলেন, গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে আসে না। অনেকের বেশি টাকা দিয়ে হোটেলে দুপুরের খাবার কিনে খাওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। তারা স্কুলে এসে টিফিনের সময় আশপাশের দোকান থেকে মুখরোচক কিছু একটা কিনে খায়। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অথচ দুপুরে এক প্লেট ভাত খেতে পারলে তাদের শরীর ভালো থাকে। এই চিন্তা থেকেই পাঁচ বছর আগেই এই প্যাকেজ চালু করেছি আমি।

বিপ্লব সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের কয়েকটি শর্তে খেতে দেই আমি। হোটেলের এই প্যাকেজ খেতে হলে অবশ্যই স্কুল ড্রেস পরে আসতে হবে। আর খাবার আগে বা পরে বাইরের দোকানে অন্য কোনো মুখরোচক খাবার খাওয়া যাবে না। আমি দেখেছি বেশির ভাগ বাচ্চা এক প্লেটের বেশি ভাত খেতে পারে না। ভাতের সঙ্গে সবজি আর ডাল দিয়ে এই প্যাকেজটি চালু করেছি। খাবার সময় কোনো বাচ্চা যেন সবজি নষ্ট না করে সেটিও আমি দেখি।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শরীরের জন্য সবজির বড় প্রয়োজন। তাই তাদের সবজি খেতে বাধ্য করি। টমেটোর মৌসুমে টমেটোর সালাদ খেতে বাধ্য করি। এই প্যাকেজটির মূল্য পাঁচ টাকা। তবে পাশাপাশি খেতে বসে কোনো বাচ্চা যদি বেশি টাকা দিয়ে মুরগির মাংস খেতে চায়। তাহলে পাশের বাচ্চাটাকেও ছোট এক টুকরা মুরগির মাংস ও একটু ঝোল দেই। যাতে তার মন খারাপ না হয়। এসব আমি লক্ষ্য করি।

বিপ্লব সরকার বলেন, মনের আনন্দে এই কাজটি করছি আমি। সেবার মানসিকতা থেকে করছি। কারণ আমার এসএসসি পরীক্ষা দেয়া হয়নি। লেখাপড়া না করে কী ভুল করেছি এখন তা বুঝতে পারি। এজন্য যেসব শিশু লেখাপড়া শিখছে, তারা যেন শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে, সেজন্য সাধ্যের মধ্যে যতটুকু পারছি সহযোগিতা করছি তাদের।