ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

গুলিস্তান বাস টার্মিনাল শ্রমিক কমিটিতে চাঁদাবাজ ও বহিরাগতদের দাপট: মালিক-শ্রমিকদের ক্ষোভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক |

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে গুলিস্তান বাস টার্মিনাল শ্রমিকদের নতুন কমিটিতে প্রকৃত শ্রমিকদের বাদ দিয়ে চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও বহিরাগত অ-শ্রমিকদের ঠাঁই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে টার্মিনালের সাধারণ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে গুলিস্তানে বিতর্কিত এই শ্রমিক কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে আদমজী জুট মিলের প্রাক্তন শ্রমিক নেতা আবুল খায়ের খাজাকে, যিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত চিহ্নিত চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন সাহাবুদ্দিন ওরফে ‘টুন্ডা সাহাবুদ্দিন’, যিনি বিগত সরকারের আমলে গুলিস্তান এলাকার অন্যতম আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

কমিটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্থানীয় শ্রমিক নেতা রতন হাওলাদার বলেন, “জুলাই আন্দোলনে গুলিস্তানে আমরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলাম। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের পক্ষ থেকে গঠিত ভলেন্টিয়ার কমিটির মাধ্যমে আমরা টার্মিনালের শৃঙ্খলা বজায় রেখে আসছি। কিন্তু সম্প্রতি অশুভ কোনো চক্র একটি কমিটি গঠন করেছে, যেখানে টার্মিনালের প্রকৃত শ্রমিকদের কোনো স্থান হয়নি। উল্টো পুলিশের তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজদের এতে পুনর্বাসিত করা হয়েছে।

আরেক শ্রমিক নেতা সেন্টু ঢালী অভিযোগ করে বলেন, “এই কমিটির কেউ প্রকৃত শ্রমিক নয়। এমনকি ছিনতাই করতে গিয়ে হাত কাটা যাওয়া ব্যক্তিও এ কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছে। মূলতঃ চাঁদাবাজি ও দখলদারির উদ্দেশ্যে কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি এই পকেট কমিটি গঠন করেছে।

এদিকে এই বিতর্কিত কমিটির অনুমোদনদাতা আব্দুর রহিম বক্স দুদুকে নিয়েও নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় তিনি সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান খানের একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ফলে তার অনুমোদিত এই কমিটি নিয়ে অসন্তোষ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

কমিটি গঠন সম্পর্কে গুলিস্থান বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর সিকদার বলেন, এই কমিটিতে প্রকৃত শ্রমিকদের বাদ দিয়ে বহিরাগত ও সন্ত্রাসী চক্রকে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে গুলিস্তান বাস টার্মিনালে আবারো চাঁদাবাজি ও অস্থিরতা বাড়ার শঙ্কায় মালিক সমিতি চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। অবিলম্বে এই অসাধু পকেট কমিটি বাতিল করে প্রকৃত শ্রমিকদের হাতে টার্মিনালের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়ার জোরালো দাবি জানান তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

গুলিস্তান বাস টার্মিনাল শ্রমিক কমিটিতে চাঁদাবাজ ও বহিরাগতদের দাপট: মালিক-শ্রমিকদের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ১১:৪১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক |

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে গুলিস্তান বাস টার্মিনাল শ্রমিকদের নতুন কমিটিতে প্রকৃত শ্রমিকদের বাদ দিয়ে চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও বহিরাগত অ-শ্রমিকদের ঠাঁই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে টার্মিনালের সাধারণ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে গুলিস্তানে বিতর্কিত এই শ্রমিক কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে আদমজী জুট মিলের প্রাক্তন শ্রমিক নেতা আবুল খায়ের খাজাকে, যিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত চিহ্নিত চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন সাহাবুদ্দিন ওরফে ‘টুন্ডা সাহাবুদ্দিন’, যিনি বিগত সরকারের আমলে গুলিস্তান এলাকার অন্যতম আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

কমিটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্থানীয় শ্রমিক নেতা রতন হাওলাদার বলেন, “জুলাই আন্দোলনে গুলিস্তানে আমরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলাম। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের পক্ষ থেকে গঠিত ভলেন্টিয়ার কমিটির মাধ্যমে আমরা টার্মিনালের শৃঙ্খলা বজায় রেখে আসছি। কিন্তু সম্প্রতি অশুভ কোনো চক্র একটি কমিটি গঠন করেছে, যেখানে টার্মিনালের প্রকৃত শ্রমিকদের কোনো স্থান হয়নি। উল্টো পুলিশের তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজদের এতে পুনর্বাসিত করা হয়েছে।

আরেক শ্রমিক নেতা সেন্টু ঢালী অভিযোগ করে বলেন, “এই কমিটির কেউ প্রকৃত শ্রমিক নয়। এমনকি ছিনতাই করতে গিয়ে হাত কাটা যাওয়া ব্যক্তিও এ কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছে। মূলতঃ চাঁদাবাজি ও দখলদারির উদ্দেশ্যে কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি এই পকেট কমিটি গঠন করেছে।

এদিকে এই বিতর্কিত কমিটির অনুমোদনদাতা আব্দুর রহিম বক্স দুদুকে নিয়েও নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় তিনি সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান খানের একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ফলে তার অনুমোদিত এই কমিটি নিয়ে অসন্তোষ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

কমিটি গঠন সম্পর্কে গুলিস্থান বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর সিকদার বলেন, এই কমিটিতে প্রকৃত শ্রমিকদের বাদ দিয়ে বহিরাগত ও সন্ত্রাসী চক্রকে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে গুলিস্তান বাস টার্মিনালে আবারো চাঁদাবাজি ও অস্থিরতা বাড়ার শঙ্কায় মালিক সমিতি চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। অবিলম্বে এই অসাধু পকেট কমিটি বাতিল করে প্রকৃত শ্রমিকদের হাতে টার্মিনালের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়ার জোরালো দাবি জানান তারা।