ত্রাণের বিস্কুট ও জ্বালানি তেল চুরিতে অভিযুক্ত মিজানুর এখন ফায়ার সার্ভিসের দণ্ডমুন্ডের কর্তা! পর্ব -১
- আপডেট সময় : ০৪:১৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ২২৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ত্রাণের বিস্কুট চুরি থেকে শুরু করে জাহাজের হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল আত্মসাৎ—এসব গুরুতর অপরাধের অভিযোগ যার পিছু ছাড়ছে না, তিনিই এখন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। বরিশালে উপ-পরিচালক থাকাকালীন নানা কেলেঙ্কারিতে বিতর্কিত হওয়া কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমানকে (বিএফএম) কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই ঢাকায় এনে বসানো হয়েছে উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) হিসেবে।
বিতর্কিত এই কর্মকর্তার এমন ‘পুরস্কার’ প্রাপ্তিতে ফায়ার সার্ভিসের ভেতরে ও বাইরে বইছে সমালোচনার ঝড়। প্রশ্ন উঠেছে বর্তমান মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জায়েদ কামালের ভূমিকা নিয়েও। অধিদপ্তরের আনাচে-কানাচে কান পাতলেই এখন শোনা যাচ্ছে— এই পদোন্নতি কি মেধার ভিত্তিতে, নাকি ‘মোটা অঙ্কের’ লেনদেনে?
বরিশালে থাকাকালীন দুর্নীতির খতিয়ান
অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশালে কর্মরত থাকাকালীন মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ফায়ার সার্ভিসের বিশেষায়িত জাহাজ ‘অগ্নি যোদ্ধা’র জ্বালানি কেলেঙ্কারি। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রত্যক্ষ মদদে জাহাজটির জন্য বরাদ্দকৃত হাজার হাজার লিটার তেল কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক অভিযোগটি সামনে আসে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের শুরুর দিকে। ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্গতদের জন্য বরাদ্দকৃত ‘প্রাণের বিস্কুট’ চুরির অভিযোগ ওঠে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জানা যায়, সেনাবাহিনীর একটি অভিযানে ত্রাণের বিস্কুট আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতাও মিলেছিল, যা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তদন্ত ছাড়াই ‘রাজকীয়’ পদোন্নতি
নিয়মানুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চুরির মতো ফৌজদারি অপরাধ বা বিভাগীয় গুরুতর অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন ও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। কিন্তু মিজানুর রহমানের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো। ত্রাণের বিস্কুট আর জাহাজের তেল চুরির মতো গ্লানিকর অভিযোগে বিদ্ধ হওয়ার পরও তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি।
বরং তাকে বরিশাল থেকে ঢাকায় বদলি করে দেওয়া হয়েছে অধিদপ্তরের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও স্পর্শকাতর শাখা ‘প্রশাসন ও অর্থ’ বিভাগে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যিনি ত্রাণের বিস্কুট চুরি সামলাতে পারেন না, তাকে পুরো অধিদপ্তরের অর্থ ও প্রশাসনের দায়িত্ব দেওয়া মানে বিড়ালের কাছে শুঁটকি পাহারায় দেওয়া।”
নেপথ্যে কি আর্থিক লেনদেন?
অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে গুঞ্জন উঠেছে, বর্তমান মহাপরিচালক জায়েদ কামালকে ম্যানেজ করেই মিজানুর রহমান এই ‘প্রাইজ পোস্টিং’ বাগিয়ে নিয়েছেন। সাধারণ কর্মকর্তাদের প্রশ্ন—যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি থাকার কথা, সেখানে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে কেন গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসানো হলো? এর পেছনে কি মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন রয়েছে?
হুমকির মুখে সংস্থার ভাবমূর্তি
বিশ্লেষকরা বলছেন, ত্রাণের মতো মানবিক সহায়তা চুরিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যখন পুরস্কৃত করা হয়, তখন সৎ কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে যায়। এটি পুরো ফায়ার সার্ভিসের ভাবমূর্তিকে জনসাধারণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই দানা বাঁধছে। মিজানুর রহমানের এই রহস্যজনক পদোন্নতি এবং অতীতের অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
উপ-পরিচালক মিজানুর রহমানকে নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আগামী পর্বে থাকতে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের ক্ষমতাসীন কর্তাব্যক্তি সহ শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের সঙ্গে তার গভীর সুসম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত…














