ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জিয়া শিশুকিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক হলেন হাফিজুর রহমান শফিক Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা  Logo ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজ ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক Logo প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তা আতিকুর পাহাড়সমান অভিযোগ নিয়েও বহাল Logo বদলি-বাণিজ্য ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন সিন্ডিকেট Logo রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ  Logo প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য Logo ‘৬ বছরে ৮৬৫০ কোটি লুটপাট : সওজে নতুন করে সক্রিয় সেই ‘ডন’ রায়হান মুস্তাফিজ!’ Logo ৮০ কোটির জালিয়াতি: শিল্পগোষ্ঠীকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে বৃষ্টি–মেসবাহ দম্পতি লাপাত্তা  Logo রাজউকের কানুনগো আব্দুল মোমিন: দুর্নীতি ও প্লট বাণিজ্যের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক 

শিক্ষা প্রকৌশলে দুর্নীতির অভিযোগ: কোটি টাকার চুক্তিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহজাহান আলী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৭৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে আলোচিত। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিদপ্তরের সাবেক ক্যাশিয়ার ও ডেস্ক–১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী, বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহজাহান আলী। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের ভেতরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বদলি ও পদোন্নতি নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে শাহজাহান আলী ইইডির ভেতরে একটি শক্ত প্রভাববলয় গড়ে তুলেছেন। সরকার পরিবর্তন হলেও এই সিন্ডিকেট কার্যত অক্ষত রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। কুড়িগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল ছাড়ের আগে ঠিকাদারদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫ শতাংশ ঘুষ আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও ১ শতাংশ হারে উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।

আরও অভিযোগ আছে, স্বজনপ্রীতি ও ঘনিষ্ঠ কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানের নামে আগেই দরপত্র সংগ্রহ করে তা অন্য ঠিকাদারদের কাছে ৫ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে বিক্রি করা হতো। কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার আসবাবপত্র সরবরাহ প্রকল্পে আহ্বান করা ৩৯টি দরপত্রের মধ্যে ২৬টি এককভাবে তার মনোনীত ঠিকাদারকে দেওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হতো। দলীয় ক্যাডার ও সুবিধাবাদী সিন্ডিকেট ব্যবহার করে একাধিক ঠিকাদারকে চাপের মুখে রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ ঠিকাদারদের জন্য দরপত্রে অংশগ্রহণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এতসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাকে পদোন্নতি দিয়ে কোটি টাকার চুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, রাজনৈতিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটের কারণেই তিনি বারবার দায়মুক্তি পাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষা প্রকৌশলী বলেন, ইইডির দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত জরুরি। অন্যথায় শিক্ষা খাতে উন্নয়নের নামে লুটপাট চলতেই থাকবে।

সূত্র জানায়, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের আমলে রংপুর বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত শাহজাহান আলী বর্তমানে ঢাকায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

শিক্ষা প্রকৌশলে দুর্নীতির অভিযোগ: কোটি টাকার চুক্তিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহজাহান আলী

আপডেট সময় : ০৩:২৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে আলোচিত। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিদপ্তরের সাবেক ক্যাশিয়ার ও ডেস্ক–১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী, বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহজাহান আলী। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের ভেতরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বদলি ও পদোন্নতি নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে শাহজাহান আলী ইইডির ভেতরে একটি শক্ত প্রভাববলয় গড়ে তুলেছেন। সরকার পরিবর্তন হলেও এই সিন্ডিকেট কার্যত অক্ষত রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। কুড়িগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল ছাড়ের আগে ঠিকাদারদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫ শতাংশ ঘুষ আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও ১ শতাংশ হারে উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।

আরও অভিযোগ আছে, স্বজনপ্রীতি ও ঘনিষ্ঠ কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানের নামে আগেই দরপত্র সংগ্রহ করে তা অন্য ঠিকাদারদের কাছে ৫ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে বিক্রি করা হতো। কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার আসবাবপত্র সরবরাহ প্রকল্পে আহ্বান করা ৩৯টি দরপত্রের মধ্যে ২৬টি এককভাবে তার মনোনীত ঠিকাদারকে দেওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হতো। দলীয় ক্যাডার ও সুবিধাবাদী সিন্ডিকেট ব্যবহার করে একাধিক ঠিকাদারকে চাপের মুখে রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ ঠিকাদারদের জন্য দরপত্রে অংশগ্রহণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এতসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাকে পদোন্নতি দিয়ে কোটি টাকার চুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, রাজনৈতিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটের কারণেই তিনি বারবার দায়মুক্তি পাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষা প্রকৌশলী বলেন, ইইডির দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত জরুরি। অন্যথায় শিক্ষা খাতে উন্নয়নের নামে লুটপাট চলতেই থাকবে।

সূত্র জানায়, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের আমলে রংপুর বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত শাহজাহান আলী বর্তমানে ঢাকায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।