ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে সম্মত চীন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অগাস্ট ২০২১ ২৮৮ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক;

তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে চায় চীন
সশস্ত্র বিদ্রোহীগোষ্ঠী তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার পর চীন বলেছে, তারা তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও গভীর করতে প্রস্তুত। সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তালেবানের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্কের বিষয়ে এই মন্তব্য করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেছেন, স্বাধীনভাবে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণে আফগান জনগণের অধিকারকে সম্মান জানায় চীন। তারা আফগানিস্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে ইচ্ছুক।

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের সময় থেকেই বেইজিং তালেবানদের সাথে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। যা দেশজুড়ে কট্টরপন্থী এই বিদ্রোহীগোষ্ঠীর অগ্রযাত্রা উৎসাহিত করেছে।

দেশজুড়ে একের পর এক প্রাদেশিক শহর দখলের পর রোববার রাজধানী কাবুলে প্রবেশ করেছে তালেবান। তালেবানের আগ্রাসী অভিযানের মুখে দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যসহ দেশ ছেড়ে তাজিকিস্তানে গেছেন। সেখান থেকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গনি বলেছেন, রক্তপাত এড়াতে তিনি দেশ ছেড়েছেন।

চীনের সঙ্গে আফগানিস্তানের ৭৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করে আসছে যে, জিনজিয়াংয়ের সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে আফগানিস্তান।

কিন্তু গত ২৮ জুলাই চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর তিয়ানজিনে তালেবানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ইসলামপন্থি এই গোষ্ঠী শক্তিশালী হিসেবে হাজির হওয়ায় ওয়াং ই বলেছেন, আফগানিস্তান একটি মধ্যপন্থি ইসলামি নীতি গ্রহণ করবে বলে তিনি আশা করেন।

সেই সময় তালেবানের প্রতিনিধিরা চীনকে আশ্বস্ত করে জানায়, আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। জবাবে, যুদ্ধ-পরবর্তী আফগানিস্তান পুনর্গঠনে অর্থনৈতিক সহায়তা এবং বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় চীন।

সোমবার চীন বলেছে, তারা আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্ক গভীর করার সুযোগকে স্বাগত জানায়; যে দেশটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শক্তিধর দেশগুলোর কাছে তার ভূ-কৌশলগত গুরুত্বের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেছেন, তালেবানরা বারবার চীনের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেছে। আফগানিস্তানের পুনর্গঠন এবং উন্নয়নে চীনের অংশগ্রহণের অপেক্ষায় আছে তালেবান।

তিনি বলেন, আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। চীন আফগান জনগণের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকারকে সম্মান করে এবং আফগানিস্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ইচ্ছুক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে সম্মত চীন

আপডেট সময় : ০৪:২০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অগাস্ট ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক;

তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে চায় চীন
সশস্ত্র বিদ্রোহীগোষ্ঠী তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার পর চীন বলেছে, তারা তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও গভীর করতে প্রস্তুত। সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তালেবানের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্কের বিষয়ে এই মন্তব্য করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেছেন, স্বাধীনভাবে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণে আফগান জনগণের অধিকারকে সম্মান জানায় চীন। তারা আফগানিস্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে ইচ্ছুক।

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের সময় থেকেই বেইজিং তালেবানদের সাথে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। যা দেশজুড়ে কট্টরপন্থী এই বিদ্রোহীগোষ্ঠীর অগ্রযাত্রা উৎসাহিত করেছে।

দেশজুড়ে একের পর এক প্রাদেশিক শহর দখলের পর রোববার রাজধানী কাবুলে প্রবেশ করেছে তালেবান। তালেবানের আগ্রাসী অভিযানের মুখে দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যসহ দেশ ছেড়ে তাজিকিস্তানে গেছেন। সেখান থেকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গনি বলেছেন, রক্তপাত এড়াতে তিনি দেশ ছেড়েছেন।

চীনের সঙ্গে আফগানিস্তানের ৭৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করে আসছে যে, জিনজিয়াংয়ের সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে আফগানিস্তান।

কিন্তু গত ২৮ জুলাই চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর তিয়ানজিনে তালেবানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ইসলামপন্থি এই গোষ্ঠী শক্তিশালী হিসেবে হাজির হওয়ায় ওয়াং ই বলেছেন, আফগানিস্তান একটি মধ্যপন্থি ইসলামি নীতি গ্রহণ করবে বলে তিনি আশা করেন।

সেই সময় তালেবানের প্রতিনিধিরা চীনকে আশ্বস্ত করে জানায়, আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। জবাবে, যুদ্ধ-পরবর্তী আফগানিস্তান পুনর্গঠনে অর্থনৈতিক সহায়তা এবং বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় চীন।

সোমবার চীন বলেছে, তারা আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্ক গভীর করার সুযোগকে স্বাগত জানায়; যে দেশটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শক্তিধর দেশগুলোর কাছে তার ভূ-কৌশলগত গুরুত্বের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেছেন, তালেবানরা বারবার চীনের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেছে। আফগানিস্তানের পুনর্গঠন এবং উন্নয়নে চীনের অংশগ্রহণের অপেক্ষায় আছে তালেবান।

তিনি বলেন, আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। চীন আফগান জনগণের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকারকে সম্মান করে এবং আফগানিস্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ইচ্ছুক।