ঢাকা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

মোংলায় সরকারি আটক নিয়ে চালবাজি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২০ ২০৭ বার পড়া হয়েছে

মোংলা প্রতিনিধি;  ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ ও খাদ্য অধিদপ্তরের সিল সম্বলিত সরকারি চাল জব্দ ও জড়িত ব্যক্তিদের আটক নিয়ে চলছে চালবাজি।
মোংলা উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে ৮০ বস্তা চাল জব্দসহ এর সাথে জড়িত এক নারীকে আটকের নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে তাকে আটক করা হয়নি। উল্টো চাল পাচারের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে আটক ও চাল জব্দ না করে স্থানীয় ইউপি মেম্বরের জিম্মায় দেয়া হয়।

জানা যায়, সরকারি চাল পাচার ও মজুদের খবর পেয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে মোংলা শহরতলীর উত্তর চাঁদপাই এলাকায় অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনাস্থল থেকে ৮০ বস্তা চাল জব্দ এবং ঘটনাস্থলে এক নারীকে পাওয়া গেলে তাকে আটকের নির্দেশ দেন ইউএনও মো. রাহাত মান্নান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ চাল দুর্গন্ধযুক্ত, এ চাল কোনোভাবেই মাছ কিংবা পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার ও বেচা কেনা যাবে না। যেহেতু দুর্গন্ধযুক্ত সেহেতু এগুলো ডাম্পিং করা কথা। তারপরও এ চাল কিভাবে এখানে এসেছে কে বা কারা এনেছে তা পুলিশ তদন্ত করে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিবে।

তবে ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. আহাদ বলেন, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ না করায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে চাল পাচারের সাথে জড়িতের ঘটনায় ইউএনও মো. রাহাত মান্নান মোংলা সরকারি গুদামের ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলামকে বাদী হয়ে থানায় মামলা করার কথা বললেও মামলা করতে অনিহা প্রকাশ করেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া আমি কিছুই করতে পারবো না।

চাল পাচারের সাথে জড়িত উজ্জল ফকির (৩২) এবং তার মা পেয়ারা বেগম (৫০) বলেন, ফেরিঘাট সংলগ্ন জনৈক ফারুক ডিলারের বার্জ (নৌযান) হতে তারা এ চাল কিনে এনেছেন। চাল কিনে তারা উত্তর চাঁদপাই গ্রামের বাবুল শেখের নির্মাণাধীন ভবনের ভিতরে রাখেন এবং চাঁদপাই মাজারের সামনের একটি দোকানে এ চাল বিক্রিও করেন। তবে ফেরিঘাট সংলগ্ন যে নৌযান থেকে এ চাল পাচার করা হলেও রহস্যজনক কারণেই সেখানেও কোনও অভিযান চালায়নি প্রশাসন। নৌযানে অভিযান না চালানো, নৌযান থেকে জিজ্ঞাসাবাদে কাউকে আটক না করা, চাল পাচারকারী চক্রের সদস্যকে হাতে নাতে পেয়েও ছেড়ে দেয়া এবং চাল জব্দ না করার বিষয়টি শহর জুড়ে ব্যাপক গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

মোংলায় সরকারি আটক নিয়ে চালবাজি

আপডেট সময় : ০৭:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২০

মোংলা প্রতিনিধি;  ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ ও খাদ্য অধিদপ্তরের সিল সম্বলিত সরকারি চাল জব্দ ও জড়িত ব্যক্তিদের আটক নিয়ে চলছে চালবাজি।
মোংলা উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে ৮০ বস্তা চাল জব্দসহ এর সাথে জড়িত এক নারীকে আটকের নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে তাকে আটক করা হয়নি। উল্টো চাল পাচারের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে আটক ও চাল জব্দ না করে স্থানীয় ইউপি মেম্বরের জিম্মায় দেয়া হয়।

জানা যায়, সরকারি চাল পাচার ও মজুদের খবর পেয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে মোংলা শহরতলীর উত্তর চাঁদপাই এলাকায় অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনাস্থল থেকে ৮০ বস্তা চাল জব্দ এবং ঘটনাস্থলে এক নারীকে পাওয়া গেলে তাকে আটকের নির্দেশ দেন ইউএনও মো. রাহাত মান্নান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ চাল দুর্গন্ধযুক্ত, এ চাল কোনোভাবেই মাছ কিংবা পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার ও বেচা কেনা যাবে না। যেহেতু দুর্গন্ধযুক্ত সেহেতু এগুলো ডাম্পিং করা কথা। তারপরও এ চাল কিভাবে এখানে এসেছে কে বা কারা এনেছে তা পুলিশ তদন্ত করে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিবে।

তবে ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. আহাদ বলেন, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ না করায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে চাল পাচারের সাথে জড়িতের ঘটনায় ইউএনও মো. রাহাত মান্নান মোংলা সরকারি গুদামের ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলামকে বাদী হয়ে থানায় মামলা করার কথা বললেও মামলা করতে অনিহা প্রকাশ করেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া আমি কিছুই করতে পারবো না।

চাল পাচারের সাথে জড়িত উজ্জল ফকির (৩২) এবং তার মা পেয়ারা বেগম (৫০) বলেন, ফেরিঘাট সংলগ্ন জনৈক ফারুক ডিলারের বার্জ (নৌযান) হতে তারা এ চাল কিনে এনেছেন। চাল কিনে তারা উত্তর চাঁদপাই গ্রামের বাবুল শেখের নির্মাণাধীন ভবনের ভিতরে রাখেন এবং চাঁদপাই মাজারের সামনের একটি দোকানে এ চাল বিক্রিও করেন। তবে ফেরিঘাট সংলগ্ন যে নৌযান থেকে এ চাল পাচার করা হলেও রহস্যজনক কারণেই সেখানেও কোনও অভিযান চালায়নি প্রশাসন। নৌযানে অভিযান না চালানো, নৌযান থেকে জিজ্ঞাসাবাদে কাউকে আটক না করা, চাল পাচারকারী চক্রের সদস্যকে হাতে নাতে পেয়েও ছেড়ে দেয়া এবং চাল জব্দ না করার বিষয়টি শহর জুড়ে ব্যাপক গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।