ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জিয়া শিশুকিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক হলেন হাফিজুর রহমান শফিক Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা  Logo ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজ ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক Logo প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তা আতিকুর পাহাড়সমান অভিযোগ নিয়েও বহাল Logo বদলি-বাণিজ্য ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন সিন্ডিকেট Logo রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ  Logo প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য Logo ‘৬ বছরে ৮৬৫০ কোটি লুটপাট : সওজে নতুন করে সক্রিয় সেই ‘ডন’ রায়হান মুস্তাফিজ!’ Logo ৮০ কোটির জালিয়াতি: শিল্পগোষ্ঠীকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে বৃষ্টি–মেসবাহ দম্পতি লাপাত্তা  Logo রাজউকের কানুনগো আব্দুল মোমিন: দুর্নীতি ও প্লট বাণিজ্যের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক 

মোংলায় সরকারি আটক নিয়ে চালবাজি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২০ ১৯১ বার পড়া হয়েছে

মোংলা প্রতিনিধি;  ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ ও খাদ্য অধিদপ্তরের সিল সম্বলিত সরকারি চাল জব্দ ও জড়িত ব্যক্তিদের আটক নিয়ে চলছে চালবাজি।
মোংলা উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে ৮০ বস্তা চাল জব্দসহ এর সাথে জড়িত এক নারীকে আটকের নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে তাকে আটক করা হয়নি। উল্টো চাল পাচারের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে আটক ও চাল জব্দ না করে স্থানীয় ইউপি মেম্বরের জিম্মায় দেয়া হয়।

জানা যায়, সরকারি চাল পাচার ও মজুদের খবর পেয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে মোংলা শহরতলীর উত্তর চাঁদপাই এলাকায় অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনাস্থল থেকে ৮০ বস্তা চাল জব্দ এবং ঘটনাস্থলে এক নারীকে পাওয়া গেলে তাকে আটকের নির্দেশ দেন ইউএনও মো. রাহাত মান্নান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ চাল দুর্গন্ধযুক্ত, এ চাল কোনোভাবেই মাছ কিংবা পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার ও বেচা কেনা যাবে না। যেহেতু দুর্গন্ধযুক্ত সেহেতু এগুলো ডাম্পিং করা কথা। তারপরও এ চাল কিভাবে এখানে এসেছে কে বা কারা এনেছে তা পুলিশ তদন্ত করে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিবে।

তবে ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. আহাদ বলেন, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ না করায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে চাল পাচারের সাথে জড়িতের ঘটনায় ইউএনও মো. রাহাত মান্নান মোংলা সরকারি গুদামের ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলামকে বাদী হয়ে থানায় মামলা করার কথা বললেও মামলা করতে অনিহা প্রকাশ করেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া আমি কিছুই করতে পারবো না।

চাল পাচারের সাথে জড়িত উজ্জল ফকির (৩২) এবং তার মা পেয়ারা বেগম (৫০) বলেন, ফেরিঘাট সংলগ্ন জনৈক ফারুক ডিলারের বার্জ (নৌযান) হতে তারা এ চাল কিনে এনেছেন। চাল কিনে তারা উত্তর চাঁদপাই গ্রামের বাবুল শেখের নির্মাণাধীন ভবনের ভিতরে রাখেন এবং চাঁদপাই মাজারের সামনের একটি দোকানে এ চাল বিক্রিও করেন। তবে ফেরিঘাট সংলগ্ন যে নৌযান থেকে এ চাল পাচার করা হলেও রহস্যজনক কারণেই সেখানেও কোনও অভিযান চালায়নি প্রশাসন। নৌযানে অভিযান না চালানো, নৌযান থেকে জিজ্ঞাসাবাদে কাউকে আটক না করা, চাল পাচারকারী চক্রের সদস্যকে হাতে নাতে পেয়েও ছেড়ে দেয়া এবং চাল জব্দ না করার বিষয়টি শহর জুড়ে ব্যাপক গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

মোংলায় সরকারি আটক নিয়ে চালবাজি

আপডেট সময় : ০৭:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২০

মোংলা প্রতিনিধি;  ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ ও খাদ্য অধিদপ্তরের সিল সম্বলিত সরকারি চাল জব্দ ও জড়িত ব্যক্তিদের আটক নিয়ে চলছে চালবাজি।
মোংলা উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে ৮০ বস্তা চাল জব্দসহ এর সাথে জড়িত এক নারীকে আটকের নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে তাকে আটক করা হয়নি। উল্টো চাল পাচারের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে আটক ও চাল জব্দ না করে স্থানীয় ইউপি মেম্বরের জিম্মায় দেয়া হয়।

জানা যায়, সরকারি চাল পাচার ও মজুদের খবর পেয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে মোংলা শহরতলীর উত্তর চাঁদপাই এলাকায় অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনাস্থল থেকে ৮০ বস্তা চাল জব্দ এবং ঘটনাস্থলে এক নারীকে পাওয়া গেলে তাকে আটকের নির্দেশ দেন ইউএনও মো. রাহাত মান্নান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ চাল দুর্গন্ধযুক্ত, এ চাল কোনোভাবেই মাছ কিংবা পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার ও বেচা কেনা যাবে না। যেহেতু দুর্গন্ধযুক্ত সেহেতু এগুলো ডাম্পিং করা কথা। তারপরও এ চাল কিভাবে এখানে এসেছে কে বা কারা এনেছে তা পুলিশ তদন্ত করে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিবে।

তবে ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. আহাদ বলেন, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ না করায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে চাল পাচারের সাথে জড়িতের ঘটনায় ইউএনও মো. রাহাত মান্নান মোংলা সরকারি গুদামের ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলামকে বাদী হয়ে থানায় মামলা করার কথা বললেও মামলা করতে অনিহা প্রকাশ করেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া আমি কিছুই করতে পারবো না।

চাল পাচারের সাথে জড়িত উজ্জল ফকির (৩২) এবং তার মা পেয়ারা বেগম (৫০) বলেন, ফেরিঘাট সংলগ্ন জনৈক ফারুক ডিলারের বার্জ (নৌযান) হতে তারা এ চাল কিনে এনেছেন। চাল কিনে তারা উত্তর চাঁদপাই গ্রামের বাবুল শেখের নির্মাণাধীন ভবনের ভিতরে রাখেন এবং চাঁদপাই মাজারের সামনের একটি দোকানে এ চাল বিক্রিও করেন। তবে ফেরিঘাট সংলগ্ন যে নৌযান থেকে এ চাল পাচার করা হলেও রহস্যজনক কারণেই সেখানেও কোনও অভিযান চালায়নি প্রশাসন। নৌযানে অভিযান না চালানো, নৌযান থেকে জিজ্ঞাসাবাদে কাউকে আটক না করা, চাল পাচারকারী চক্রের সদস্যকে হাতে নাতে পেয়েও ছেড়ে দেয়া এবং চাল জব্দ না করার বিষয়টি শহর জুড়ে ব্যাপক গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।