ঢাকা ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মূল্যবোধভিত্তিক পেশাদারিত্বই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্তম্ভ: আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জেলের বেশে নদীতে নেমে ধরা উপজেলা চেয়ারম্যান!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ ২০২ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি

৯-৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নদীতে সব ধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। নদীতে ইলিশের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ডিমওয়ালা মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা। এ সময় যাতে কোনো জেলে নদীতে জাল ফেলতে না পারে এজন্য প্রশাসনের সহযোগিতায় মৎস্য বিভাগের চলছে নজরদারি।

এরই অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় কিছু সংবাদকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপার মো. হায়াতুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, সদর থানার পুলিশ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাঃ নূরুল ইসলাম বাদল, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা সমন্বয়ে একটি টিম অভিযানে নামে পিরোজপুরের কঁচা নদীতে।

অভিযান চলাকালীন একটি জাল থেকে মাছও পাওয়া যায় ১০-১৫টি। যেগুলো পরবর্তীতে স্থানীয় একটি এতিমখানায় দেয়া হয়।

এরপর সন্ধ্যা নদীতে গিয়ে রাত প্রায় ২টার দিকে একটি ছোট ট্রলারে কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে জেলের বেশে দেখা মেলে কাউখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনুর। এ সময় তিনি একজন পুরোদস্তুর জেলের বেশে কোমড়ে বাঁধা গামছা ও লুঙ্গি এবং সাদা গেঞ্জি পরিহিত ছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন নদীতে মা ইলিশ পাহারার জন্যই নিজের লোকদের নিয়ে তিনি নদীতে নেমেছেন। তবে তার সঙ্গে ছিল না পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন কিংবা মৎস্য বিভাগের কেউই। এ সময় তাকে বহনকারী ট্রলারে প্রায় ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল থাকলেও, ইলিশ মাছ ছিল মাত্র ৩টি।

উপজেলা চেয়ারম্যান মনুকে এভাবে নদীতে দেখে বিষ্মিত জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন। তিনি মনুর কাছে জানতে চান কেন তিনি মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের কাউকে না জানিয়ে নদীতে নেমেছেন। তবে বিষয়টি তিনি পরে সমাধান করবেন বলে জানান তাকে। মনু দাবি করেন তিনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে একাধিক বার ফোন করেছেন। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই একাই নেমেছেন নদীতে।

উপজেলা চেয়ারম্যান কর্তৃক ফোন করার বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফনূ ভূষণ পাল জানান, বিগত কয়েক দিন নদীতে অভিযান পরিচালনা করার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাই উপজেলা চেয়ারম্যানের ফোন ধরতে পারেননি। তবে মৎস্য বিভাগ এবং প্রশাসন ছাড়া অবরোধ চলাকালীন সময়ে এভাবে কেউ নদীতে নামতে পারে না বলেও জানান তিনি।

তবে স্থানীয় অনেকেই জানিয়েছেন মনু প্রায়ই তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে যায়। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতেও তিনি নদীতে মাছ ধরার জন্য গিয়েছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

জেলের বেশে নদীতে নেমে ধরা উপজেলা চেয়ারম্যান!

আপডেট সময় : ১১:৩৮:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

জেলা প্রতিনিধি

৯-৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নদীতে সব ধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। নদীতে ইলিশের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ডিমওয়ালা মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা। এ সময় যাতে কোনো জেলে নদীতে জাল ফেলতে না পারে এজন্য প্রশাসনের সহযোগিতায় মৎস্য বিভাগের চলছে নজরদারি।

এরই অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় কিছু সংবাদকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপার মো. হায়াতুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, সদর থানার পুলিশ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাঃ নূরুল ইসলাম বাদল, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা সমন্বয়ে একটি টিম অভিযানে নামে পিরোজপুরের কঁচা নদীতে।

অভিযান চলাকালীন একটি জাল থেকে মাছও পাওয়া যায় ১০-১৫টি। যেগুলো পরবর্তীতে স্থানীয় একটি এতিমখানায় দেয়া হয়।

এরপর সন্ধ্যা নদীতে গিয়ে রাত প্রায় ২টার দিকে একটি ছোট ট্রলারে কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে জেলের বেশে দেখা মেলে কাউখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনুর। এ সময় তিনি একজন পুরোদস্তুর জেলের বেশে কোমড়ে বাঁধা গামছা ও লুঙ্গি এবং সাদা গেঞ্জি পরিহিত ছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন নদীতে মা ইলিশ পাহারার জন্যই নিজের লোকদের নিয়ে তিনি নদীতে নেমেছেন। তবে তার সঙ্গে ছিল না পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন কিংবা মৎস্য বিভাগের কেউই। এ সময় তাকে বহনকারী ট্রলারে প্রায় ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল থাকলেও, ইলিশ মাছ ছিল মাত্র ৩টি।

উপজেলা চেয়ারম্যান মনুকে এভাবে নদীতে দেখে বিষ্মিত জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন। তিনি মনুর কাছে জানতে চান কেন তিনি মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের কাউকে না জানিয়ে নদীতে নেমেছেন। তবে বিষয়টি তিনি পরে সমাধান করবেন বলে জানান তাকে। মনু দাবি করেন তিনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে একাধিক বার ফোন করেছেন। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই একাই নেমেছেন নদীতে।

উপজেলা চেয়ারম্যান কর্তৃক ফোন করার বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফনূ ভূষণ পাল জানান, বিগত কয়েক দিন নদীতে অভিযান পরিচালনা করার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাই উপজেলা চেয়ারম্যানের ফোন ধরতে পারেননি। তবে মৎস্য বিভাগ এবং প্রশাসন ছাড়া অবরোধ চলাকালীন সময়ে এভাবে কেউ নদীতে নামতে পারে না বলেও জানান তিনি।

তবে স্থানীয় অনেকেই জানিয়েছেন মনু প্রায়ই তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে যায়। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতেও তিনি নদীতে মাছ ধরার জন্য গিয়েছিলেন।