ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এবার গ্র্যামির দৌড়ে ‘ধুরন্ধর ২’ Logo রিকশাচালক থেকে মুচি, ১ নভেম্বর থেকে সবাই বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবেন Logo প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত ও গ্রেপ্তার করতে হবে: আখতার হোসেন Logo ৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ Logo ককরোচ পার্টির কর্মসূচি : দিল্লিতে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ আটক ১০০০ Logo মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক: তারেক রহমান Logo মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo যাত্রাবাড়ীতে বাসে তল্লাশি, ৯ হাজার ই’য়া’বা’স’হ গ্রে’প্তা’র ২ Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল 

কৃষক রক্ষা না করলে অভিশাপ নেমে আসবে: রিজভী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০১৯ ২৪২ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদ;  

কৃষক রক্ষা না করলে বাংলাদেশে অভিশাপ নেমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান না কিনে কৃষককে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে জিম্মি করে ফেলেছে। ধানের ন্যয্যমূল্য না থাকায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী, জয়পুরহাট, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন স্থানে কৃষক পাকা ধানক্ষেতে আগুন দিচ্ছেন, পাকা ধানে মই দিচ্ছেন, সড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করছেন।

তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ থেকে ৩০০ টাকা কমে প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে দুই হাজার টাকা।

‘পুঁজিপতিরা তো বিশাল ঋণ মওকুফ পাচ্ছেন, হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে খাচ্ছেন, মেগাপ্রকল্পের নামে দেশজুড়ে হরিলুট চলছে; অথচ ১৭ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগানদাতা অসহায় কৃষকদের ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে না। বরং ন্যায্যমূল্য থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, সরকার প্রতি মণ ধান কেনার জন্য এক হাজার ৪০ টাকা প্রদান করলেও কৃষকের হাতে যাচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। বাকি টাকা চলে যাচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, মিলমালিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটে। এ নিয়ে সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও সরকারের টনক নড়ছে না।

তিনি বলেন, কৃষকরাই বাংলাদেশের আত্মা, দেশের প্রাণ। কৃষকদের রক্ষা না করলে বাংলাদেশে অভিশাপ নেমে আসবে।

কৃষিমন্ত্রীর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আবদুর রাজ্জাক বলেছেন- ‘এবারের বোরো ধানের নির্ধারিত দাম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ থাকলেও ধানের দাম বাড়ানোর সুযোগ আপাতত সরকারের হাতে নেই।’ আগের রাতের ভোটের সরকারের মন্ত্রীর কাছ থেকে এ রকম গণবিরোধী বক্তব্য ছাড়া আর কিছু আশা করা যায় না।

কৃষকদের পথে বসিয়ে নিজেদের লোকদের টাকা লুটের সুযোগ করে দিতেই ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে কৃষকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র এ যুগ্ম মহাসচিব।

তিনি বলেন, কৃষকরা উৎপাদন বন্ধ করে দিলে দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে, ১৭ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। পৃথিবীর সব দেশে কৃষকরা উৎপাদন করে লাভ করে, আর আমাদের দেশের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

‘একদিকে চাল রফতানি, অন্যদিকে দেদারসে আমদানি করার এ ভানুমতির খেল বন্ধ করতে হবে। মধ্যস্থতাকারী সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ধান না কিনে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই ধান ক্রয় করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে।’

পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির এ নেতা বলেন, জাতীয় মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া মজুরিসহ ৯ দফা দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন পাটকলের শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। দেশের ২৬টি পাটকলে একযোগে লাগাতার ধর্মঘট শুরু করলেও সরকার তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিচ্ছে না।

তিনি বলেন, বেতন না পেয়ে শ্রমিকরা অর্ধাহার ও অনাহারে জীবনযাপন করছেন। ২০১৫ সাল থেকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হওয়ার কথা থাকলেও শ্রমিকরা মজুরি থেকে বঞ্চিত, শোষিত ও নির্যাতিত হচ্ছেন।

পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধসহ সব দাবি অবিলম্বে মেনে নেয়ার দাবি জানান রিজভী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

কৃষক রক্ষা না করলে অভিশাপ নেমে আসবে: রিজভী

আপডেট সময় : ০২:২৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০১৯

সকালের সংবাদ;  

কৃষক রক্ষা না করলে বাংলাদেশে অভিশাপ নেমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান না কিনে কৃষককে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে জিম্মি করে ফেলেছে। ধানের ন্যয্যমূল্য না থাকায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী, জয়পুরহাট, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন স্থানে কৃষক পাকা ধানক্ষেতে আগুন দিচ্ছেন, পাকা ধানে মই দিচ্ছেন, সড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করছেন।

তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ থেকে ৩০০ টাকা কমে প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে দুই হাজার টাকা।

‘পুঁজিপতিরা তো বিশাল ঋণ মওকুফ পাচ্ছেন, হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে খাচ্ছেন, মেগাপ্রকল্পের নামে দেশজুড়ে হরিলুট চলছে; অথচ ১৭ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগানদাতা অসহায় কৃষকদের ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে না। বরং ন্যায্যমূল্য থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, সরকার প্রতি মণ ধান কেনার জন্য এক হাজার ৪০ টাকা প্রদান করলেও কৃষকের হাতে যাচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। বাকি টাকা চলে যাচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, মিলমালিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটে। এ নিয়ে সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও সরকারের টনক নড়ছে না।

তিনি বলেন, কৃষকরাই বাংলাদেশের আত্মা, দেশের প্রাণ। কৃষকদের রক্ষা না করলে বাংলাদেশে অভিশাপ নেমে আসবে।

কৃষিমন্ত্রীর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আবদুর রাজ্জাক বলেছেন- ‘এবারের বোরো ধানের নির্ধারিত দাম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ থাকলেও ধানের দাম বাড়ানোর সুযোগ আপাতত সরকারের হাতে নেই।’ আগের রাতের ভোটের সরকারের মন্ত্রীর কাছ থেকে এ রকম গণবিরোধী বক্তব্য ছাড়া আর কিছু আশা করা যায় না।

কৃষকদের পথে বসিয়ে নিজেদের লোকদের টাকা লুটের সুযোগ করে দিতেই ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে কৃষকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র এ যুগ্ম মহাসচিব।

তিনি বলেন, কৃষকরা উৎপাদন বন্ধ করে দিলে দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে, ১৭ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। পৃথিবীর সব দেশে কৃষকরা উৎপাদন করে লাভ করে, আর আমাদের দেশের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

‘একদিকে চাল রফতানি, অন্যদিকে দেদারসে আমদানি করার এ ভানুমতির খেল বন্ধ করতে হবে। মধ্যস্থতাকারী সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ধান না কিনে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই ধান ক্রয় করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে।’

পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির এ নেতা বলেন, জাতীয় মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া মজুরিসহ ৯ দফা দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন পাটকলের শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। দেশের ২৬টি পাটকলে একযোগে লাগাতার ধর্মঘট শুরু করলেও সরকার তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিচ্ছে না।

তিনি বলেন, বেতন না পেয়ে শ্রমিকরা অর্ধাহার ও অনাহারে জীবনযাপন করছেন। ২০১৫ সাল থেকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হওয়ার কথা থাকলেও শ্রমিকরা মজুরি থেকে বঞ্চিত, শোষিত ও নির্যাতিত হচ্ছেন।

পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধসহ সব দাবি অবিলম্বে মেনে নেয়ার দাবি জানান রিজভী।