ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ




একযোগে ৮ সিটি কর্পোরেশনে দুদকের অভিযান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০১৯ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক;
দেশের ৮ সিটি কর্পোরেশন অফিসে একযোগে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম নতুন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ, নবায়ন, জন্ম নিবন্ধন সনদসহ বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তিতে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে এ অভিযান চালায়।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (১০৬)-এ কতিপয় ব্যক্তি ট্রেড লাইসেন্স সেবা প্রদানে হয়রানির অভিযোগ করলে দুদক এসব অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়।

বুধবার একযোগে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, রংপুর সিটি কর্পোরেশনে একযোগে অভিযান চালানো হয়। দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের তত্ত্বাবধানে দুদক প্রধান কার্যালয়, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অভিযানকালে দেখা যায়, রাজস্ব বিভাগের কর অঞ্চল-১ এর অফিস সহায়ক মোহাম্মদ আলী গ্রাহকের নিকট ট্রেড লাইসেন্স এর নির্ধারিত ফি ৪৫০০ টাকার স্থলে ১৫,০০০ টাকা দাবি করলে দুদক টিম তাকে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট সোপর্দ করে। এই অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এ গিয়ে দেখা যায়, অফিসের মধ্যে বহিরাগত কিছু লোক চেয়ার টেবিল নিয়ে অফিস করছে যারা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। এ ব্যাপারে রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হলে তিনি উক্ত ঘটনার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং ব্যাপারটি তার জানা নেই বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দুদক টিম তাকে এই ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক একটি রিপোর্ট দাখিল করতে বলেছে।

চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে অভিযানকালে দেখা যায় ট্রেড লাইসেন্স এর ফি বাবদ গৃহীত অর্থের কোনো রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা সংগৃহীত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কোনো রেকর্ড টিমকে তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে ব্যর্থ হন। তারা এ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র একত্র করে দুদক অফিসে প্রেরণ করবেন মর্মে অঙ্গীকার করেন।

এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশন অভিযানকালে বেশকিছু অসংগতি দুদক এনফর্সমেন্ট টিমের কাছে ধরা পড়ে।

অভিযানকালে দুদক টিম ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করে সেবা গ্রহীতাদের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পান। এসব অভিযোগের ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনসমূহ কমিশনে উপস্থাপন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




একযোগে ৮ সিটি কর্পোরেশনে দুদকের অভিযান

আপডেট সময় : ০৬:৪২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক;
দেশের ৮ সিটি কর্পোরেশন অফিসে একযোগে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম নতুন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ, নবায়ন, জন্ম নিবন্ধন সনদসহ বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তিতে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে এ অভিযান চালায়।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (১০৬)-এ কতিপয় ব্যক্তি ট্রেড লাইসেন্স সেবা প্রদানে হয়রানির অভিযোগ করলে দুদক এসব অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়।

বুধবার একযোগে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, রংপুর সিটি কর্পোরেশনে একযোগে অভিযান চালানো হয়। দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের তত্ত্বাবধানে দুদক প্রধান কার্যালয়, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অভিযানকালে দেখা যায়, রাজস্ব বিভাগের কর অঞ্চল-১ এর অফিস সহায়ক মোহাম্মদ আলী গ্রাহকের নিকট ট্রেড লাইসেন্স এর নির্ধারিত ফি ৪৫০০ টাকার স্থলে ১৫,০০০ টাকা দাবি করলে দুদক টিম তাকে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট সোপর্দ করে। এই অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এ গিয়ে দেখা যায়, অফিসের মধ্যে বহিরাগত কিছু লোক চেয়ার টেবিল নিয়ে অফিস করছে যারা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। এ ব্যাপারে রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হলে তিনি উক্ত ঘটনার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং ব্যাপারটি তার জানা নেই বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দুদক টিম তাকে এই ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক একটি রিপোর্ট দাখিল করতে বলেছে।

চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে অভিযানকালে দেখা যায় ট্রেড লাইসেন্স এর ফি বাবদ গৃহীত অর্থের কোনো রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা সংগৃহীত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কোনো রেকর্ড টিমকে তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে ব্যর্থ হন। তারা এ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র একত্র করে দুদক অফিসে প্রেরণ করবেন মর্মে অঙ্গীকার করেন।

এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশন অভিযানকালে বেশকিছু অসংগতি দুদক এনফর্সমেন্ট টিমের কাছে ধরা পড়ে।

অভিযানকালে দুদক টিম ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করে সেবা গ্রহীতাদের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পান। এসব অভিযোগের ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনসমূহ কমিশনে উপস্থাপন করা হবে।