ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সাতক্ষীরায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ৩১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন Logo মহাষষ্ঠীতে দেবীর অধিবাস, পটুয়াখালীর মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু পূজা Logo নড়াইলে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন নারী শ্রমিক Logo মেঘনায় ইলিশ শিকারের দায়ে ৩০ জেলের কারাদণ্ড Logo তরুণদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ: ডেপুটি স্পিকার Logo বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক : অর্থমন্ত্রী Logo ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে মূল্যস্ফীতির চাপ ও দারিদ্র্য: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ Logo কর্মসংস্থান ও শিল্পের চাহিদা মেটাতে পূর্ণাঙ্গ টিভেট ইকোসিস্টেম গড়ছে বাংলাদেশ Logo আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস Logo ড. ইউনূসকে ‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান, দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন ৪০০ অতিথি

মানবতাবিরোধী অপরাধ : ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে ইনুর আপিল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করা হয়েছে বলে বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিশ্চিত করেছেন ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ।

এর আগে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল দায়ের করা হয়েছে।

গত ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগের প্রতিটিতে তাকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে আদালত জানান, এই তিনটি সাজা একসঙ্গে চলবে। অর্থাৎ, ইনুকে মোট ১০ বছর কারাগারে কাটাতে হবে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, ইনুর বিরুদ্ধে আনা আট অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগেই তাকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের আরও বলা হয়, রাইসুল হকসহ অন্যান্য ভিকটিমকে গুরুতর আহত, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের দায় প্রমাণিত হয়েছে। এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া, আরেকটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা এবং দুষ্কর্মে সহযোগিতার দায়ে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরেক অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তির দায়েও ইনুকে ১ লাখ টাকা জরিমানাসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

তবে ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে এসব অভিযোগ থেকে খালাস দেন।

প্রথম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক আখ্যা দেন ইনু। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা দেন এবং হত্যারও নির্দেশ দেন তিনি।

দ্বিতীয় অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪–দলীয় জোটের সভা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’–এর সিদ্ধান্ত হয়। হাসানুল হক সেই সভায় উপস্থিত থেকে ‘শুট অ্যাট সাইটের’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেন।

তৃতীয় অভিযোগ, ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আটক ও নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।

চতুর্থ অভিযোগ, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্রের ব্যবহার করা এবং ছত্রীসেনা নামিয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা করার অভিযোগ।

পঞ্চম অভিযোগ, গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া। সরকারের গ্রহণ করা হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন–নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করা।

ষষ্ঠ অভিযোগ, ১৪–দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

সপ্তম অভিযোগ, শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকা।

অষ্টম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা প্রদান। পাশাপাশি, সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র–জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

মানবতাবিরোধী অপরাধ : ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে ইনুর আপিল

আপডেট সময় : ১০:৪১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করা হয়েছে বলে বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিশ্চিত করেছেন ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ।

এর আগে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল দায়ের করা হয়েছে।

গত ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগের প্রতিটিতে তাকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে আদালত জানান, এই তিনটি সাজা একসঙ্গে চলবে। অর্থাৎ, ইনুকে মোট ১০ বছর কারাগারে কাটাতে হবে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, ইনুর বিরুদ্ধে আনা আট অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগেই তাকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের আরও বলা হয়, রাইসুল হকসহ অন্যান্য ভিকটিমকে গুরুতর আহত, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের দায় প্রমাণিত হয়েছে। এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া, আরেকটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা এবং দুষ্কর্মে সহযোগিতার দায়ে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরেক অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তির দায়েও ইনুকে ১ লাখ টাকা জরিমানাসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

তবে ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে এসব অভিযোগ থেকে খালাস দেন।

প্রথম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক আখ্যা দেন ইনু। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা দেন এবং হত্যারও নির্দেশ দেন তিনি।

দ্বিতীয় অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪–দলীয় জোটের সভা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’–এর সিদ্ধান্ত হয়। হাসানুল হক সেই সভায় উপস্থিত থেকে ‘শুট অ্যাট সাইটের’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেন।

তৃতীয় অভিযোগ, ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আটক ও নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।

চতুর্থ অভিযোগ, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্রের ব্যবহার করা এবং ছত্রীসেনা নামিয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা করার অভিযোগ।

পঞ্চম অভিযোগ, গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া। সরকারের গ্রহণ করা হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন–নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করা।

ষষ্ঠ অভিযোগ, ১৪–দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

সপ্তম অভিযোগ, শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকা।

অষ্টম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা প্রদান। পাশাপাশি, সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র–জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।