ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

আলেম-ওলামাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে যেভাবে সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন, দেশ গঠনের কাজেও সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বাস করে। আমরা ইসলাম ধর্মের মানুষেরা আমাদের ধর্ম পালন করব, অন্যরা তাদের ধর্ম পালন করবে। কিন্তু একই সাথে এখানে অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মের, এখানে ইসলামকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব, দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।’

আজ রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

১৩তম সংসদ নির্বাচনে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য বিরোধীদের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা ১৯৯১ সালে দেখেছি, ১৯৯৬ সালে দেখেছি এবং গত নির্বাচনেও আপনারা দেখেছেন যে, যারা দেশকে ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ও আপনারা একসঙ্গে কাজ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে তারা আবারও নানা ধরনের বক্তব্য ও অপতথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘সেজন্য বলছি যে, আমরা যে একসাথে কাজ করছি, দেশটাকে সঠিক রাখার চেষ্টা করছি। এখানে আমরা দুই বছর আগে যেমন একসাথে কাজ করেছি, হুজুরের (আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ) দোয়া নিয়ে আমি বলতে চাই, অনুরোধ জানাতে চাই যে, আগামী দিনগুলোতেও আমাদের একসাথে থাকতে হবে।’

কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমাদের একসাথে থাকতে হবে। হ্যাঁ, আমি জানি এখানে কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, আমরা পর্যায়ক্রমে তা সমাধানের চেষ্টা করব। আমাদেরকে বুঝতে হবে, এদেশে তো আরও অনেক মানুষ বাস করে। আমরা চাই এমন একটা বাংলাদেশ তৈরি করতে যেখানে বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাদেশের সন্তানেরা খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকবে, শান্তিতে থাকতে পারবে এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসাথে শান্তিতে বসবাস করবে।’

ফটিকছড়িতে নিজের আগমনের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আসার মূল কারণ হুজুরের দোয়া নেওয়া।’

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে যারা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, এরা যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদেরকে দেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে, শিক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ ও ব্রিজ-কালভার্ট সংস্কার ও উন্নয়ন করতে হবে।’

দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিবেশ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যদি বিশৃঙ্খলা বিরাজ করে তবে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবে না। বিশৃঙ্খলা না থাকলে বিদেশীরা বিনিয়োগ করবে, ফলে আমাদের সন্তানরা ও পরিবারের সদস্যরা চাকরির সুযোগ পাবে। দেশের মানুষের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য ফেরানোই আমাদের মূল দায়িত্ব।’

আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার গঠন করেছি। আপনারা দোয়া করবেন যেন আমরা দেশের মানুষের কল্যাণে ভালো কিছু করতে পারি।’

অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমান আলেম-উলামা ও ইসলামী দলগুলোর পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এর আগে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে ফটিকছড়ি উপজেলায় পৌঁছান। হেলিকপ্টারটি ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করলে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

এরপর প্রধানমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা সম্বলিত একটি লাল-সবুজ বাসে চড়ে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো জনতা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী বাবুনগর মাদ্রাসায় পৌঁছালে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন এবং কুশল বিনিময় করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

আলেম-ওলামাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে যেভাবে সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন, দেশ গঠনের কাজেও সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বাস করে। আমরা ইসলাম ধর্মের মানুষেরা আমাদের ধর্ম পালন করব, অন্যরা তাদের ধর্ম পালন করবে। কিন্তু একই সাথে এখানে অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মের, এখানে ইসলামকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব, দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।’

আজ রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

১৩তম সংসদ নির্বাচনে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য বিরোধীদের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা ১৯৯১ সালে দেখেছি, ১৯৯৬ সালে দেখেছি এবং গত নির্বাচনেও আপনারা দেখেছেন যে, যারা দেশকে ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ও আপনারা একসঙ্গে কাজ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে তারা আবারও নানা ধরনের বক্তব্য ও অপতথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘সেজন্য বলছি যে, আমরা যে একসাথে কাজ করছি, দেশটাকে সঠিক রাখার চেষ্টা করছি। এখানে আমরা দুই বছর আগে যেমন একসাথে কাজ করেছি, হুজুরের (আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ) দোয়া নিয়ে আমি বলতে চাই, অনুরোধ জানাতে চাই যে, আগামী দিনগুলোতেও আমাদের একসাথে থাকতে হবে।’

কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমাদের একসাথে থাকতে হবে। হ্যাঁ, আমি জানি এখানে কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, আমরা পর্যায়ক্রমে তা সমাধানের চেষ্টা করব। আমাদেরকে বুঝতে হবে, এদেশে তো আরও অনেক মানুষ বাস করে। আমরা চাই এমন একটা বাংলাদেশ তৈরি করতে যেখানে বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাদেশের সন্তানেরা খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকবে, শান্তিতে থাকতে পারবে এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসাথে শান্তিতে বসবাস করবে।’

ফটিকছড়িতে নিজের আগমনের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আসার মূল কারণ হুজুরের দোয়া নেওয়া।’

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে যারা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, এরা যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদেরকে দেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে, শিক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ ও ব্রিজ-কালভার্ট সংস্কার ও উন্নয়ন করতে হবে।’

দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিবেশ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যদি বিশৃঙ্খলা বিরাজ করে তবে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবে না। বিশৃঙ্খলা না থাকলে বিদেশীরা বিনিয়োগ করবে, ফলে আমাদের সন্তানরা ও পরিবারের সদস্যরা চাকরির সুযোগ পাবে। দেশের মানুষের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য ফেরানোই আমাদের মূল দায়িত্ব।’

আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার গঠন করেছি। আপনারা দোয়া করবেন যেন আমরা দেশের মানুষের কল্যাণে ভালো কিছু করতে পারি।’

অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমান আলেম-উলামা ও ইসলামী দলগুলোর পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এর আগে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে ফটিকছড়ি উপজেলায় পৌঁছান। হেলিকপ্টারটি ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করলে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

এরপর প্রধানমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা সম্বলিত একটি লাল-সবুজ বাসে চড়ে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো জনতা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী বাবুনগর মাদ্রাসায় পৌঁছালে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন এবং কুশল বিনিময় করেন।