মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে : আইনমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৯:১৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ১০৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মামলাজট নিরসনে মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা (প্রি-কেস মেডিয়েশন) কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি ১০টি জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন, যা বিচার ব্যবস্থার ওপর একটি বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতায় আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে বিচারপ্রার্থীর সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে এবং আদালতের ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
তিনি জানান, একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২০টি জেলায় প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মে সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে বিভিন্ন আইনে মামলা দায়েরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর মধ্যে পারিবারিক আদালত আইনে মামলা ৩ হাজার ৫৫৯টি থেকে ১ হাজার ৭৪৪টিতে নেমে এসেছে, যা প্রায় ৫১ শতাংশ হ্রাস।
সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টন সংক্রান্ত মামলায় ২ হাজার একটি থেকে ৬৬১টিতে নেমে ৬৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, এ ছাড়া স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রিম্পশন মামলায় ১৭টি থেকে দুটিতে নেমে ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ, নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনে ৩১টি থেকে ১৪টিতে নেমে ৫৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যৌতুক নিরোধ আইনে ৫ হাজার ৬০৫টি থেকে ১ হাজার ৮১০টিতে নেমে ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইনে ৪৩টি থেকে ৩৫টিতে নেমে ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ মামলা কমেছে।
সব মিলিয়ে গড়ে ৬২ দশমিক ০২ শতাংশ মামলা দায়ের হ্রাস পেয়েছে।
তিনি বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের প্রবাহ এভাবে কমানো গেলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে যেগুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, সেগুলো জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মধ্যস্থতার জন্য রেফার করলে বিচারপ্রক্রিয়া আরো গতিশীল হবে।
আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আদালত, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।




















