ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী ক্রিয়েটিভ হাবের পরিকল্পনা সরকারের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ১০৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান ১.৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘ক্রিয়েটিভ হাব’বা সৃজনশীল কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।

একই সঙ্গে ‘ওয়ান-ভিলেজ, ওয়ান-প্রোডাক্ট’ বা ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় অঞ্চলভিত্তিক সৃজনশীল অর্থনৈতিক পণ্যের প্রসারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা ও কৌশল সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে জনমিতিক, দীর্ঘজীবিতা ও গণতান্ত্রিক লভ্যাংশ অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনার কথাও বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে।

প্রথম অগ্রাধিকার ‘সবার জন্য উন্নয়ন’। বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সর্বস্তরের মানুষ, সব খাত ও সব অঞ্চলের সুষম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ‘সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা’। বাস্তবমুখী, দক্ষতানির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা এবং সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় অগ্রাধিকার ‘সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা’। জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলে সব বয়স ও শ্রেণির মানুষের জন্য সুরক্ষা বলয় সম্প্রসারণের মাধ্যমে কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চতুর্থ অগ্রাধিকার ‘বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি’। পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিকে খাদ্যনিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।

পঞ্চম অগ্রাধিকার ‘বিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং সাশ্রয়ী ও সহজিকৃত ব্যবসার পরিবেশ’। সরকারি কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও বিলম্ব কমিয়ে স্বচ্ছ, সহজ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ষষ্ঠ অগ্রাধিকার ‘আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা’। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সপ্তম অগ্রাধিকার ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’। উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড সচল রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অষ্টম অগ্রাধিকার ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ’। প্রযুক্তিগতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলে দেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নবম অগ্রাধিকার ‘প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা’। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনায়ন সম্প্রসারণ, নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর মাধ্যমে টেকসই ও পরিবেশ-সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

দশম অগ্রাধিকার ‘স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা’। মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারের মতে, এসব অগ্রাধিকার বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার পথ সুগম হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী ক্রিয়েটিভ হাবের পরিকল্পনা সরকারের

আপডেট সময় : ০৪:০০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান ১.৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘ক্রিয়েটিভ হাব’বা সৃজনশীল কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।

একই সঙ্গে ‘ওয়ান-ভিলেজ, ওয়ান-প্রোডাক্ট’ বা ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় অঞ্চলভিত্তিক সৃজনশীল অর্থনৈতিক পণ্যের প্রসারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা ও কৌশল সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে জনমিতিক, দীর্ঘজীবিতা ও গণতান্ত্রিক লভ্যাংশ অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনার কথাও বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে।

প্রথম অগ্রাধিকার ‘সবার জন্য উন্নয়ন’। বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সর্বস্তরের মানুষ, সব খাত ও সব অঞ্চলের সুষম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ‘সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা’। বাস্তবমুখী, দক্ষতানির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা এবং সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় অগ্রাধিকার ‘সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা’। জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলে সব বয়স ও শ্রেণির মানুষের জন্য সুরক্ষা বলয় সম্প্রসারণের মাধ্যমে কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চতুর্থ অগ্রাধিকার ‘বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি’। পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিকে খাদ্যনিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।

পঞ্চম অগ্রাধিকার ‘বিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং সাশ্রয়ী ও সহজিকৃত ব্যবসার পরিবেশ’। সরকারি কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও বিলম্ব কমিয়ে স্বচ্ছ, সহজ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ষষ্ঠ অগ্রাধিকার ‘আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা’। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সপ্তম অগ্রাধিকার ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’। উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড সচল রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অষ্টম অগ্রাধিকার ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ’। প্রযুক্তিগতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলে দেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নবম অগ্রাধিকার ‘প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা’। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনায়ন সম্প্রসারণ, নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর মাধ্যমে টেকসই ও পরিবেশ-সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

দশম অগ্রাধিকার ‘স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা’। মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারের মতে, এসব অগ্রাধিকার বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার পথ সুগম হবে।