ঢাকা ০৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাঠের ত্যাগী না অভিজ্ঞ নেতা: রাজধানীর বিএনপিতে কোন পথে যাচ্ছে নেতৃত্ব? Logo অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে ডিসিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ দেয়নি: রাষ্ট্রপতি Logo পথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি Logo সাভার পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আমজাদ মোল্লার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা Logo জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নথি জালিয়াতি: ৫ জনকে শোকজ ও মামলা Logo সওজে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজাদের ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’ ও অবৈধ সম্পদ: পূর্বাচলে কয়েক কোটি টাকার প্লট Logo শহীদ জিয়ার মাজারে জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কমিটির শ্রদ্ধা Logo এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পাশে জিয়া শিশু কিশোর মেলা: বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণ Logo কবি আকাশমণির রোমান্টিক লেখা “ক্লান্তরা সুখ হয়ে ওঠে”

মাঠের ত্যাগী না অভিজ্ঞ নেতা: রাজধানীর বিএনপিতে কোন পথে যাচ্ছে নেতৃত্ব?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

আহসান হাবিব:

জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিটকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে দলীয় হাইকমান্ড, যা ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই বাড়ছে আগ্রহ ও আলোচনা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এবার কমিটি গঠনে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে তুলনামূলক তরুণ, সক্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে। তবে একইসঙ্গে অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। নেতৃত্বে নতুন ও পুরনোর এই সমন্বয় সংগঠনের গতিশীলতা বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করার কৌশল নিয়েও কাজ চলছে। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনকে সক্রিয় করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করাই এই পুনর্গঠনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানা গেছে।

নতুন কমিটি ঘিরে তৎপরতা

নতুন কমিটি গঠনের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নীরব তৎপরতা। প্রকাশ্যে খুব একটা সরব না থাকলেও ভেতরে ভেতরে চলছে বিস্তর যোগাযোগ, সমর্থন জোগাড় এবং নিজ নিজ অবস্থান শক্ত করার প্রচেষ্টা। দলীয় বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, তৃণমূল পর্যায়ে প্রভাব বাড়ানো এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে আসার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছেন আগ্রহীরা।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আসন্ন সাংগঠনিক পুনর্গঠনকে সামনে রেখে অনেকেই নিজেদের যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছেন, আবার কেউ সংগঠনের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদানকে সামনে আনছেন।
তবে এতসব তৎপরতার পরও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ অধিকাংশ সম্ভাব্য প্রার্থী। দলীয় শৃঙ্খলা ও হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে তারা আপাতত নীরব কৌশলই বেছে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নেতৃত্বের মানদণ্ড নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আসন্ন পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে নেতৃত্ব নির্বাচনের মানদণ্ড নিয়ে দলের ভেতরে দুটি ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগ্রামের সময়ে যেসব নেতৃত্ব মাঠে সক্রিয় ছিলেন না বা নেতাকর্মীদের পাশে কার্যকরভাবে দাঁড়াতে পারেননি, তাদের পুনরায় নেতৃত্বে আনা হলে সংগঠনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ার পাশাপাশি সংগঠনের গতিশীলতা কমে যেতে পারে এবং অনুপ্রবেশকারী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এই অংশের মতে, নেতৃত্ব এমন হওয়া উচিত যিনি সম্পূর্ণভাবে সংগঠনের জন্য সময় দিতে পারবেন, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন এবং দলীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হবেন। তাদের দৃষ্টিতে, দল ও সরকারের দায়িত্ব আলাদা করে দেখে একজন পূর্ণকালীন সংগঠকধর্মী নেতৃত্বই বেশি কার্যকর।

তাদের মতে, এমপি বা মন্ত্রী হলে মূল দায়িত্ব হয়ে যায় রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতি বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক কাজ। ফলে সংগঠনের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সাংগঠনিক তদারকি কমে যেতে পারে, যা সংগঠনের গতিশীলতাকে প্রভাবিত করে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ব্যস্ততা বাড়লে তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, ফলে স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান বাধাগ্রস্ত হয় এবং তৃণমূল পর্যায়ে দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ক্ষমতার ভারসাম্য। একই ব্যক্তি সরকার ও দলীয় নেতৃত্বে থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে এককেন্দ্রিকতার প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নেতৃত্ব বিকাশকে দুর্বল করতে পারে। পাশাপাশি দলীয় ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব একসাথে পালনের ক্ষেত্রে স্বার্থ সংঘাতের ঝুঁকিও তৈরি হয়।

অন্যদিকে, মাঠপর্যায়ের ত্যাগী কর্মীদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হতে পারে, কারণ তারা মনে করেন শীর্ষ নেতৃত্ব সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিতভাবে যুক্ত না থাকায় তাদের ভূমিকা ও অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না।

বিপরীত অবস্থান

অন্যদিকে অপর একটি অংশের নেতাকর্মীদের মতে, যারা ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা দলীয় মনোনয়ন ও জনগণের ভোটের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তাদের মতে, এটি শুধু নির্বাচনী নয়, বরং নেতৃত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
এই অংশের যুক্তি হলো, অভিজ্ঞ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব নেতাদের নেতৃত্বে আনা হলে—সরকারের সঙ্গে দলের সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে, উন্নয়ন কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে সুষমভাবে পৌঁছাবে, সংগঠন আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে। এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয়তাও বাড়বে।

দক্ষিণ ও উত্তর মহানগরের সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় যারা

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির শীর্ষ পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, পাশাপাশি আ ন ম সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান মিন্টু, লিটন মাহমুদ, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, গোলাম মাওলা শাহীন ও খন্দকার এনামুল হক এনামসহ আরও অনেকে।

একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সভাপতি ও জাসাসের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ কবির মুক্তা-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। মাহফুজ কবির বলেন, বিএনপিতে কোনো পদই ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার বিষয় নয়; বরং এটি দলের প্রয়োজন ও সাংগঠনিক মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির)ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন যেকোন কমিটি মেয়াদ শেষ হলেই নতুন কমিটির গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়। কমিটি গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া।আমাদের প্রস্তুতি চলছে। যারা বিগত ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে এবং ৫ ই আগস্ট আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলেন তাদেরকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তর) সাইদুর রহমান মিন্টু বলেন, ফ্যাসিবাদ এর বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করেছে এবং কমিটির মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটিতে যারা আছেন তাদের মধ্য থেকে যারা দলকে ভালোবাসে কর্মীকে ভালবাসে কর্মীবান্ধব তাদের মধ্যে কাউকে বানালে আমার মতে ভালো হবে। আর একটি বিষয় হল সৎ নেতৃত্ব কে বেছে নিতে হবে তাহলে দলের জন্য ভালো হবে জনগণের জন্য ভালো হবে।

উত্তরের শীর্ষ পদের আলোচনায় যারা

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শীর্ষ পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, পাশাপাশি এস এম জাহাঙ্গীর, মামুন হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন এবং সাবেক কমিশনার আনারুজ্জামান আনোয়ার।

ত্যাগী নেতাদের দাবি মূল্যায়ন চায় উত্তরের নেতারা

বাড্ডা থানা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বাবু বলেন, দলের কঠিন সময়ে কারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভালোভাবেই জানেন। তার মতে, আসন্ন নির্বাচনে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন জরুরি।

অন্যদিকে দক্ষিণখান থানা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল তালুকদার বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের অভিজ্ঞ নেতৃত্বই সংগঠনকে এগিয়ে নিতে পারে এবং তাদের হাতেই নির্বাচনী সাফল্য সম্ভব।

তবে দলের সিনিয়র জ্যেষ্ঠ মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঢাকা মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

মাঠের ত্যাগী না অভিজ্ঞ নেতা: রাজধানীর বিএনপিতে কোন পথে যাচ্ছে নেতৃত্ব?

আপডেট সময় : ০৩:০৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

আহসান হাবিব:

জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিটকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে দলীয় হাইকমান্ড, যা ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই বাড়ছে আগ্রহ ও আলোচনা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এবার কমিটি গঠনে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে তুলনামূলক তরুণ, সক্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে। তবে একইসঙ্গে অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। নেতৃত্বে নতুন ও পুরনোর এই সমন্বয় সংগঠনের গতিশীলতা বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করার কৌশল নিয়েও কাজ চলছে। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনকে সক্রিয় করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করাই এই পুনর্গঠনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানা গেছে।

নতুন কমিটি ঘিরে তৎপরতা

নতুন কমিটি গঠনের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নীরব তৎপরতা। প্রকাশ্যে খুব একটা সরব না থাকলেও ভেতরে ভেতরে চলছে বিস্তর যোগাযোগ, সমর্থন জোগাড় এবং নিজ নিজ অবস্থান শক্ত করার প্রচেষ্টা। দলীয় বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, তৃণমূল পর্যায়ে প্রভাব বাড়ানো এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে আসার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছেন আগ্রহীরা।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আসন্ন সাংগঠনিক পুনর্গঠনকে সামনে রেখে অনেকেই নিজেদের যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছেন, আবার কেউ সংগঠনের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদানকে সামনে আনছেন।
তবে এতসব তৎপরতার পরও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ অধিকাংশ সম্ভাব্য প্রার্থী। দলীয় শৃঙ্খলা ও হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে তারা আপাতত নীরব কৌশলই বেছে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নেতৃত্বের মানদণ্ড নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আসন্ন পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে নেতৃত্ব নির্বাচনের মানদণ্ড নিয়ে দলের ভেতরে দুটি ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগ্রামের সময়ে যেসব নেতৃত্ব মাঠে সক্রিয় ছিলেন না বা নেতাকর্মীদের পাশে কার্যকরভাবে দাঁড়াতে পারেননি, তাদের পুনরায় নেতৃত্বে আনা হলে সংগঠনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ার পাশাপাশি সংগঠনের গতিশীলতা কমে যেতে পারে এবং অনুপ্রবেশকারী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এই অংশের মতে, নেতৃত্ব এমন হওয়া উচিত যিনি সম্পূর্ণভাবে সংগঠনের জন্য সময় দিতে পারবেন, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন এবং দলীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হবেন। তাদের দৃষ্টিতে, দল ও সরকারের দায়িত্ব আলাদা করে দেখে একজন পূর্ণকালীন সংগঠকধর্মী নেতৃত্বই বেশি কার্যকর।

তাদের মতে, এমপি বা মন্ত্রী হলে মূল দায়িত্ব হয়ে যায় রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতি বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক কাজ। ফলে সংগঠনের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সাংগঠনিক তদারকি কমে যেতে পারে, যা সংগঠনের গতিশীলতাকে প্রভাবিত করে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ব্যস্ততা বাড়লে তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, ফলে স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান বাধাগ্রস্ত হয় এবং তৃণমূল পর্যায়ে দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ক্ষমতার ভারসাম্য। একই ব্যক্তি সরকার ও দলীয় নেতৃত্বে থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে এককেন্দ্রিকতার প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নেতৃত্ব বিকাশকে দুর্বল করতে পারে। পাশাপাশি দলীয় ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব একসাথে পালনের ক্ষেত্রে স্বার্থ সংঘাতের ঝুঁকিও তৈরি হয়।

অন্যদিকে, মাঠপর্যায়ের ত্যাগী কর্মীদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হতে পারে, কারণ তারা মনে করেন শীর্ষ নেতৃত্ব সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিতভাবে যুক্ত না থাকায় তাদের ভূমিকা ও অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না।

বিপরীত অবস্থান

অন্যদিকে অপর একটি অংশের নেতাকর্মীদের মতে, যারা ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা দলীয় মনোনয়ন ও জনগণের ভোটের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তাদের মতে, এটি শুধু নির্বাচনী নয়, বরং নেতৃত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
এই অংশের যুক্তি হলো, অভিজ্ঞ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব নেতাদের নেতৃত্বে আনা হলে—সরকারের সঙ্গে দলের সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে, উন্নয়ন কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে সুষমভাবে পৌঁছাবে, সংগঠন আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে। এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয়তাও বাড়বে।

দক্ষিণ ও উত্তর মহানগরের সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় যারা

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির শীর্ষ পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, পাশাপাশি আ ন ম সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান মিন্টু, লিটন মাহমুদ, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, গোলাম মাওলা শাহীন ও খন্দকার এনামুল হক এনামসহ আরও অনেকে।

একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সভাপতি ও জাসাসের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ কবির মুক্তা-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। মাহফুজ কবির বলেন, বিএনপিতে কোনো পদই ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার বিষয় নয়; বরং এটি দলের প্রয়োজন ও সাংগঠনিক মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির)ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন যেকোন কমিটি মেয়াদ শেষ হলেই নতুন কমিটির গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়। কমিটি গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া।আমাদের প্রস্তুতি চলছে। যারা বিগত ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে এবং ৫ ই আগস্ট আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলেন তাদেরকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তর) সাইদুর রহমান মিন্টু বলেন, ফ্যাসিবাদ এর বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করেছে এবং কমিটির মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটিতে যারা আছেন তাদের মধ্য থেকে যারা দলকে ভালোবাসে কর্মীকে ভালবাসে কর্মীবান্ধব তাদের মধ্যে কাউকে বানালে আমার মতে ভালো হবে। আর একটি বিষয় হল সৎ নেতৃত্ব কে বেছে নিতে হবে তাহলে দলের জন্য ভালো হবে জনগণের জন্য ভালো হবে।

উত্তরের শীর্ষ পদের আলোচনায় যারা

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শীর্ষ পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, পাশাপাশি এস এম জাহাঙ্গীর, মামুন হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন এবং সাবেক কমিশনার আনারুজ্জামান আনোয়ার।

ত্যাগী নেতাদের দাবি মূল্যায়ন চায় উত্তরের নেতারা

বাড্ডা থানা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বাবু বলেন, দলের কঠিন সময়ে কারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভালোভাবেই জানেন। তার মতে, আসন্ন নির্বাচনে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন জরুরি।

অন্যদিকে দক্ষিণখান থানা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল তালুকদার বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের অভিজ্ঞ নেতৃত্বই সংগঠনকে এগিয়ে নিতে পারে এবং তাদের হাতেই নির্বাচনী সাফল্য সম্ভব।

তবে দলের সিনিয়র জ্যেষ্ঠ মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঢাকা মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।