উপসচিব নূরুল করিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৩১ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নূরুল করিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নারী কেলেঙ্কারির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভেতরে অস্বস্তি ও আলোচনা বাড়ছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নূরুল করিম ভূঁইয়া সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তৎকালীন চেয়ারম্যান বীরেন্দ্র শিকদারের একান্ত সচিব হিসেবে ১২ মার্চ ২০১৩ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্ত্রীকে ইউএনও নিয়োগে প্রভাবের অভিযোগ:
অভিযোগে আরও বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের স্ত্রী মিনারা খাতুনকে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে নিয়োগ দিতে তিনি প্রভাব বিস্তার করেন। বিষয়টি প্রশাসনে তখন আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
নির্বাচন কমিটি ঘিরে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ:
আরও গুরুতর অভিযোগ অনুযায়ী, একটি নির্বাচন-সংক্রান্ত কমিটি গঠন ইস্যুতে তিনি নির্বাচিত কমিশনার ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আহম্মদ কামরুলকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও রাজনৈতিক হুমকি দেন। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও পরবর্তীতে ওই কর্মকর্তা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হন।
প্রশাসনিক নিয়োগে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ:
সূত্রগুলো বলছে, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী হলেও বর্তমানে নূরুল করিম ভূঁইয়া বিএনপির কিছু প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ, পদায়ন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছেন। সম্প্রতি ডিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তার প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিতর্ক:
নূরুল করিম ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও প্রশাসনে বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজের ব্যাচমেট ও দুই সন্তানের জননী এক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান, যা পরবর্তীতে বিয়েতে গড়ায়। এ ঘটনাটি প্রশাসনের ভেতরে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে বলে জানা গেছে।
কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ:
আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বৈঠক ও কমিটিতে জোরপূর্বক উপস্থিত থাকতে বাধ্য করেন। পোস্টিং ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি নিরপেক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী ট্যাগ’ লাগিয়ে প্রত্যাহারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন,
“পোস্টিং ও প্রমোশনের ভয় দেখিয়ে আমাদের নির্দিষ্ট বৈঠক ও কমিটিতে যেতে বাধ্য করা হয়। এতে স্বাধীনভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
বক্তব্য মেলেনি:
এসব অভিযোগের বিষয়ে উপসচিব নূরুল করিম ভূঁইয়ার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি।
এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।











