ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ ২৮২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মৎস্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত “ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট (মৎস্য অংশ)”–এর প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এক ব্যক্তি।

গত ২ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মৎস্য অধিদপ্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি সংঘটিত হচ্ছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী খামার স্থাপন এবং মৎস্যচাষিদের জন্য জলবায়ু সহিষ্ণু উপকরণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘন করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এতে বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে উপকরণ দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রকৃত মৎস্যচাষিদের পরিবর্তে প্রকল্প এলাকার প্রভাবশালী ও ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের নাম সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সেমিনার আয়োজনের নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে প্রশিক্ষণ দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী দাবি করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড়

আপডেট সময় : ০৩:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মৎস্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত “ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট (মৎস্য অংশ)”–এর প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এক ব্যক্তি।

গত ২ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মৎস্য অধিদপ্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি সংঘটিত হচ্ছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী খামার স্থাপন এবং মৎস্যচাষিদের জন্য জলবায়ু সহিষ্ণু উপকরণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘন করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এতে বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে উপকরণ দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রকৃত মৎস্যচাষিদের পরিবর্তে প্রকল্প এলাকার প্রভাবশালী ও ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের নাম সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সেমিনার আয়োজনের নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে প্রশিক্ষণ দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী দাবি করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।