ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ‘৬ বছরে ৮৬৫০ কোটি লুটপাট : সওজে নতুন করে সক্রিয় সেই ‘ডন’ রায়হান মুস্তাফিজ!’ Logo ৮০ কোটির জালিয়াতি: শিল্পগোষ্ঠীকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে বৃষ্টি–মেসবাহ দম্পতি লাপাত্তা  Logo রাজউকের কানুনগো আব্দুল মোমিন: দুর্নীতি ও প্লট বাণিজ্যের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক  Logo রূপগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ‘খারা মোশাররফ বাহিনীর হামলা: ১৮ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুট Logo কেরানীগঞ্জে কারখানায় আগুনে মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা, একজন কারাগারে Logo যাত্রীদের কল্যাণের নামে নিজে টাকার পাহাড় গড়েছেন মোজাম্মেল Logo “২৮ শিশুমৃত্যু সহ ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ—তবুও পদে বহাল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের শফিকুল-নাঈম!” Logo পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হামলা, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযোগে দুইজন আহত Logo রাজ এগ্রোর তরমুজ বীজে মাঠ কাঁপাচ্ছে কৃষক: উচ্চ ফলনে নতুন সম্ভাবনা Logo ত্রাণের বিস্কুট ও জ্বালানি তেল চুরিতে অভিযুক্ত মিজানুর এখন ফায়ার সার্ভিসের দণ্ডমুন্ডের কর্তা! পর্ব -১

‘অসহনীয় চাঁদাবাজি’ ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করছে : ডিসিসিআই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক;  
অসহনীয় চাঁদাবাজি স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনায় আস্থাহীনতা তৈরি করেছে বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের কাছে ডিসিসিআই’র প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

তাসকীন আহমেদ বলেন, শিল্প বিষয়ক নীতিমালার ধারাবাহিকতার অভাব এবং ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশেষ করে অসহনীয় চাঁদাবাজির বিষয়টি স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনায় আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। তিনি নবগঠিত সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে আর্থিক খাত, জ্বালানি, শিল্পায়ন, শুল্কায়ন, লজিস্টিক অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, এলডিসি উত্তরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর প্রভৃতি বিষয়ে আলোকপাত করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অপরিবর্তিত পলিসি রেটের কারণে ব্যবসায়ীদের ১৬-১৭ শতাংশ হারে ব্যাংক ঋণ নিতে হচ্ছে, সেই সঙ্গে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং ঋণ শ্রেণিকরণের সীমা ৯ মাস হতে ৩ মাসে নামিয়ে আনার কারণে সৃষ্ট আর্থিক খাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি শিল্পখাতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। শিল্প-কারখানায় চাহিদা মাফিক গ্যাস সরবরাহ না থাকার পাশাপাশি গ্যাসের দাম নতুন শিল্প ও ক্যাপটিভের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে যথাক্রমে ৪০ টাকা ও ৪২ টাকা বৃদ্ধির কারণে আমাদের পণ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা স্থানীয় চাহিদা ও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে সামগ্রিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অটোমেটেড না হওয়ায় রাজস্ব প্রদানে ব্যক্তিশ্রেণির পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা অনেকক্ষেত্রেই অহেতুক হয়রানির শিকার হচ্ছে, অনেকেই করজালের বাইরে থাকায় সরকার রাজস্ব প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আহরণের গতি শ্লথ হচ্ছে। দেশের লজিস্টিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, জমি অধিগ্রহণের দীর্ঘসূত্রিতা ও জমির উচ্চমূল্য, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিভিন্ন সেবার হার গড়ে ৪১ শতাংশ বাড়ানো, অভ্যন্তরীণ নদীপথের কার্যকর ব্যবহার না থাকার কারণে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে পণ্য উৎপাদন ও বিতরণ ব্যয় বাড়ছে, যেটি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

এলডিসি উত্তরণ বিষয়ে তাসকীন বলেন, আঙ্কটার্ডের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের রপ্তানি ৫.৫-৭ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যার পরিমাণ প্রায় ২.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও স্থানীয় অর্থনীতির বিদ্যমান অবস্থা বিবেচনার আমাদের রপ্তানিখাতের বড় ধরনের নেতিবাচক অগ্রগতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সেই সঙ্গে বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ কমপক্ষে তিন বছর পিছিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিষয়ে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, এর ফলে তৈরি পোশাক খাতে শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত হবে না, এছাড়াও এলএনজি সহ অন্যান্য পণ্য আমদানিতে শর্তারোপের কারণে আমাদের ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিবে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সঙ্গে পুনঃআলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্তাবলি সংশোধনের জন্য নতুন সরকারের প্রতি জোরারোপ করেন তাসকীন আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নত্তোরকালে ঢাকা চেম্বার সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের প্রায় ২০ লক্ষাধিক শিক্ষিত তরুণ বেকার, কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকেরই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিষয়টি মোকাবিলায় তরুণদের শুধু চাকরির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন ও ব্যবসায়ী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার শর্তাবলি সহজীকরণে সরকারকে আরও উদ্যোগী হওয়ার ওপর জোরারোপ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী এবং সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান সহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

‘অসহনীয় চাঁদাবাজি’ ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করছে : ডিসিসিআই

আপডেট সময় : ১০:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক;  
অসহনীয় চাঁদাবাজি স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনায় আস্থাহীনতা তৈরি করেছে বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের কাছে ডিসিসিআই’র প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

তাসকীন আহমেদ বলেন, শিল্প বিষয়ক নীতিমালার ধারাবাহিকতার অভাব এবং ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশেষ করে অসহনীয় চাঁদাবাজির বিষয়টি স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনায় আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। তিনি নবগঠিত সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে আর্থিক খাত, জ্বালানি, শিল্পায়ন, শুল্কায়ন, লজিস্টিক অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, এলডিসি উত্তরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর প্রভৃতি বিষয়ে আলোকপাত করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অপরিবর্তিত পলিসি রেটের কারণে ব্যবসায়ীদের ১৬-১৭ শতাংশ হারে ব্যাংক ঋণ নিতে হচ্ছে, সেই সঙ্গে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং ঋণ শ্রেণিকরণের সীমা ৯ মাস হতে ৩ মাসে নামিয়ে আনার কারণে সৃষ্ট আর্থিক খাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি শিল্পখাতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। শিল্প-কারখানায় চাহিদা মাফিক গ্যাস সরবরাহ না থাকার পাশাপাশি গ্যাসের দাম নতুন শিল্প ও ক্যাপটিভের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে যথাক্রমে ৪০ টাকা ও ৪২ টাকা বৃদ্ধির কারণে আমাদের পণ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা স্থানীয় চাহিদা ও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে সামগ্রিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অটোমেটেড না হওয়ায় রাজস্ব প্রদানে ব্যক্তিশ্রেণির পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা অনেকক্ষেত্রেই অহেতুক হয়রানির শিকার হচ্ছে, অনেকেই করজালের বাইরে থাকায় সরকার রাজস্ব প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আহরণের গতি শ্লথ হচ্ছে। দেশের লজিস্টিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, জমি অধিগ্রহণের দীর্ঘসূত্রিতা ও জমির উচ্চমূল্য, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিভিন্ন সেবার হার গড়ে ৪১ শতাংশ বাড়ানো, অভ্যন্তরীণ নদীপথের কার্যকর ব্যবহার না থাকার কারণে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে পণ্য উৎপাদন ও বিতরণ ব্যয় বাড়ছে, যেটি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

এলডিসি উত্তরণ বিষয়ে তাসকীন বলেন, আঙ্কটার্ডের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের রপ্তানি ৫.৫-৭ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যার পরিমাণ প্রায় ২.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও স্থানীয় অর্থনীতির বিদ্যমান অবস্থা বিবেচনার আমাদের রপ্তানিখাতের বড় ধরনের নেতিবাচক অগ্রগতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সেই সঙ্গে বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ কমপক্ষে তিন বছর পিছিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিষয়ে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, এর ফলে তৈরি পোশাক খাতে শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত হবে না, এছাড়াও এলএনজি সহ অন্যান্য পণ্য আমদানিতে শর্তারোপের কারণে আমাদের ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিবে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সঙ্গে পুনঃআলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্তাবলি সংশোধনের জন্য নতুন সরকারের প্রতি জোরারোপ করেন তাসকীন আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নত্তোরকালে ঢাকা চেম্বার সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের প্রায় ২০ লক্ষাধিক শিক্ষিত তরুণ বেকার, কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকেরই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিষয়টি মোকাবিলায় তরুণদের শুধু চাকরির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন ও ব্যবসায়ী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার শর্তাবলি সহজীকরণে সরকারকে আরও উদ্যোগী হওয়ার ওপর জোরারোপ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী এবং সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান সহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।