ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলায় ধরাছোঁয়ার বাইরে সরকার জামাল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫ ৯৯৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলায় এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে কথিত সাংবাদিক ও বাংলাদেশ জানতালীগের মহাসচিব সরকার জামাল। গত ১৮ জুলাই ২০২৪ যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মো. শাকিল নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সরকার জামালকে ৪০ নম্বর এজহার ভুক্ত আসামি হলেও তিনি প্রশাসনের নাকের ডগায় অবাধে চলাফেরা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার জামাল অতীতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা ব্যাবহার করে মাদক ও নারী সাপ্লাইয়ে কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। আগে একাধিকবার বড় ধরনের মাদক চালানসহ গ্রেফতার হয়েছেন। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রতি মাসে তিনি কয়েকবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় যান ঢাকায় মাদক চালান আনার জন্য।

গত বছর দেশের শীর্ষ অনুসন্ধানী সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমন সরকার জামালকে বিপুল মাদক চালানসহ গ্রেফতার করাতে ভূমিকা রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে সরকার জামালের নেতৃত্বে তুহিন ভূঁইয়া ও শাহ শাহাবুদ্দিনসহ একটি সিন্ডিকেট গাজীপুরে সাইদুর রহমান রিমনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং পরে বিষয়টিকে স্ট্রোক জনিত মৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মাদক মামলার পাশাপাশি সরকার জামালের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। নারী ও মাদক ব্যবহার করে লোকজনকে ফাঁসানোর ঘটনায়ও তার নাম এসেছে।

যাত্রাবাড়ী থানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন— “সরকার জামালের নামে মামলা হওয়ার পরই থানায় নানা তদবির শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগপন্থী কার্যকলাপ, মাদক বহনের সময় আটক হওয়া, প্রতারণাসহ বহু মামলা রয়েছে। তবুও তিনি কীভাবে সাংবাদিক পরিচয় পান, তা বোধগম্য নয়।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন— সরকার জামালের ক্ষমতার কাছে কি তাহলে দেশের আইন ও প্রশাসনও অসহায়?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলায় ধরাছোঁয়ার বাইরে সরকার জামাল

আপডেট সময় : ১১:০১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলায় এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে কথিত সাংবাদিক ও বাংলাদেশ জানতালীগের মহাসচিব সরকার জামাল। গত ১৮ জুলাই ২০২৪ যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মো. শাকিল নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সরকার জামালকে ৪০ নম্বর এজহার ভুক্ত আসামি হলেও তিনি প্রশাসনের নাকের ডগায় অবাধে চলাফেরা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার জামাল অতীতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা ব্যাবহার করে মাদক ও নারী সাপ্লাইয়ে কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। আগে একাধিকবার বড় ধরনের মাদক চালানসহ গ্রেফতার হয়েছেন। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রতি মাসে তিনি কয়েকবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় যান ঢাকায় মাদক চালান আনার জন্য।

গত বছর দেশের শীর্ষ অনুসন্ধানী সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমন সরকার জামালকে বিপুল মাদক চালানসহ গ্রেফতার করাতে ভূমিকা রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে সরকার জামালের নেতৃত্বে তুহিন ভূঁইয়া ও শাহ শাহাবুদ্দিনসহ একটি সিন্ডিকেট গাজীপুরে সাইদুর রহমান রিমনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং পরে বিষয়টিকে স্ট্রোক জনিত মৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মাদক মামলার পাশাপাশি সরকার জামালের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। নারী ও মাদক ব্যবহার করে লোকজনকে ফাঁসানোর ঘটনায়ও তার নাম এসেছে।

যাত্রাবাড়ী থানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন— “সরকার জামালের নামে মামলা হওয়ার পরই থানায় নানা তদবির শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগপন্থী কার্যকলাপ, মাদক বহনের সময় আটক হওয়া, প্রতারণাসহ বহু মামলা রয়েছে। তবুও তিনি কীভাবে সাংবাদিক পরিচয় পান, তা বোধগম্য নয়।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন— সরকার জামালের ক্ষমতার কাছে কি তাহলে দেশের আইন ও প্রশাসনও অসহায়?