“আওয়ামী সুবিধাভোগী ৪ কারা কর্মকর্তার কাছে জিম্মি কারা অধিদপ্তর!”
- আপডেট সময় : ১১:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫ ৩৯৫ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদন | সকালের সংবাদ:
বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তর বর্তমানে চরম নৈরাজ্য ও দুর্নীতির শিকার এমনই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে ৪ জন আলোচিত-সমালোচিত কারা কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড ঘিরে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত এসব কর্মকর্তা আজ বিএনপিপন্থী পরিচয়ে নিজ অবস্থান টিকিয়ে রেখে কারা মহাপরিদর্শককে জিম্মি করে পুরো অধিদপ্তর পরিচালনা করছেন নিজেদের খেয়ালখুশিমতো।
মুখ্য চরিত্র: ডিআইজি প্রিজন্স মো. জাহাঙ্গীর কবির:
জাহাঙ্গীর কবির ২০০৯ সালে মাত্র ২-৩ বছরের চাকরিজীবনে এআইজি থেকে সিনিয়র জেল সুপার হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ দিয়ে শুরু করেন ‘স্বর্ণযাত্রা’। এরপর কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কারাগারে পছন্দসই পোস্টিং বাগিয়ে নেন। নিজেকে গোপালগঞ্জের জামাই ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এপিএসদের ঘনিষ্ঠ বলে প্রচার করে তিনি প্রতিটি নিয়োগ কমিটিতে ঢুকে পড়েন। বর্তমানে তিনি ছায়া আইজি প্রিজন্স হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তার বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি, পোস্টিং বাণিজ্য, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারে বিলাসবহুল সুবিধা দেওয়া, মোবাইল ও অবৈধ জিনিসপত্র সরবরাহের মতো গুরুতর অভিযোগ। এক সময় আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে নিজেকে বিএনপি ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিচ্ছেন।
সিন্ডিকেটের সহযোগীরা:
এআইজি আবু তালেব:
নড়াইল জেলার এই কর্মকর্তা আওয়ামী আমলে গোপালগঞ্জের শীর্ষ নেতাদের সুপারিশে দীর্ঘদিন যশোর-সাতক্ষীরায় ‘স্বর্ণপদ’ ভোগ করেন। বর্তমানে এআইজি অ্যাডমিন হিসেবে ঢাকা ও আশেপাশের কারাগারে বদলি বাণিজ্য এবং বিভাগ পরিবর্তনের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বিভাগের বদলির বিনিময়ে তিনি কারারক্ষী থেকে সিনিয়র জেল সুপারদের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
এআইজি জান্নাতুল ফরহাদ
তালেবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত জান্নাতুল ফরহাদ বদলির সিন্ডিকেটে তার অংশীদার। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রভাব বিস্তার ও কর্মকর্তাদের জিম্মি করে নিজেদের পছন্দের জনবল প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়।
জেলার একে এম মাসুম
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জেলার পদে দায়িত্ব নিয়ে জাহাঙ্গীর ও তালেবের ছায়া অনুসরণ করে কাজ করছেন। নিজেকে বিএনপিপন্থী পরিচয় দিয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক দলকেও বিভ্রান্ত করার অভিযোগ রয়েছে।
অতীতের ভয়াবহ কাহিনী
জাহাঙ্গীর কবিরের হাতে চট্টগ্রাম ও কাশিমপুর কারাগার থেকে সাজাপ্রাপ্ত ও টপ টেরর আসামিদের পালাতে সহায়তা, পুরনো ঢাকা জেলে গরীব বন্দীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়, কারাগার “বিক্রির” অভিযোগ—এসবই প্রমাণ করে কারা অধিদপ্তর এখন দুর্নীতির চক্রে বন্দী।
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার শঙ্কা:
সিনিয়র জেল সুপার পদোন্নতিতে সিনিয়রিটি লঙ্ঘন করে ষড়যন্ত্রে অনেকে বাদ পড়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশন নষ্ট করে, সাজানো কমিটি ও দুর্নীতিবাজদের মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
দুদক তদন্তে:
দুর্নীতির পাহাড় গড়া এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চলমান থাকলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে—নিরাপত্তা বাহিনীর ছত্রছায়া ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তির আশ্রয়ে তারা এখনো বহাল তবিয়তে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
কারা অধিদপ্তর যেন আর কেবল বন্দীদের রাখার প্রতিষ্ঠান নয় — এটি এখন রীতিমতো দুর্নীতির কারখানায় রূপ নিয়েছে। সময় এসেছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই চক্র ভেঙে আইনের আওতায় আনার।
প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্বে থাকছে দুর্নীতির আর্থিক লেনদেনের চিত্র, সম্পদের বিবরণ ও রাজনৈতিক আশ্রয় বিশ্লেষণ।
![]()










