“শতকোটি টাকার দুর্নীতির সাম্রাজ্য: তাপসের ঘনিষ্ট ডিএসসিসির শাহজাহান আলীর ফাঁদে ঢাকা দক্ষিণ সিটি”
- আপডেট সময় : ০৮:২০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫ ৩৫১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উপ প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী সরকারি চাকরি করে হয়ে উঠেছেন শতকোটি টাকার মালিক। মাত্র ৯৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনে চাকরি করেও রাজধানী ও নিজ জেলায় গড়েছেন বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাটসহ দুর্দান্ত বিলাসবহুল জীবন। ক্ষমতার দাপট আর রাজনৈতিক সখ্যতায় রচনা করেছেন দুর্নীতির সাম্রাজ্য, যা আজও তদন্তের বাইরে থেকে গেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, শাহজাহান আলী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন মেয়র ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে গত ১৫ বছর ধরে নিজের পদ ব্যবহার করে অর্থ, প্রভাব ও নারী কেলেঙ্কারির মাধ্যমে বেপরোয়া দুর্নীতির জাল বিস্তার করেছেন।
বেতন নয়, ঘুষেই সম্পদের বিলাস!
অথচ তার মাসিক বেতন মাত্র ৯৫ হাজার ৯০৫ টাকা। সেই আয় দিয়েই তিনি উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরে ৩ কাঠার জমিতে ৭ তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়িতে রয়েছে ডুপ্লেক্স ইউনিট, দামি টাইলস, মার্বেল, এবং আধুনিক সব স্থাপনা। কিন্তু হোল্ডিং ট্যাক্স দেন মাত্র ৩৩ হাজার টাকা!
তথ্য বলছে, একই জমির ওপর অগ্রণী ও ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে আলাদাভাবে ঋণ নিয়ে আইনি জটিলতা আড়াল করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। রয়েছে দুটি দামি ব্যক্তিগত গাড়ি, যদিও শাহজাহান আলী গাড়ির মালিকানা অস্বীকার করেন।
ঘুষ ও তদবিরেই বাড়ি-গাড়ি, বিদেশে পড়াশোনা, হীরার উপহার!
শুধু তাই নয়, বিদেশে সন্তানদের পড়াশোনা, মেয়ের বিয়েতে ৫০ লাখ টাকা খরচ, স্ত্রীকে হীরার নেকলেস-আংটি উপহার—সবই হয়েছে অবৈধ সম্পদের ছত্রছায়ায়। এমনকি ডিএসসিসির বিভিন্ন কোম্পানিকে কর ছাড়ের সুযোগ দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত সুবিধা আদায় করেছেন।
নারী কেলেঙ্কারির ভয়াবহ অভিযোগ
শুধু অর্থ নয়, নারীঘটিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়েন শাহজাহান আলী। একাধিক অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ডিএসসিসির এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, অন্তঃসত্ত্বা হওয়া, এবং পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করানো ও আপসনামা আদায় করা। এসব অভিযোগে বরখাস্তও হয়েছিলেন মেয়র খোকনের আমলে। কিন্তু মেয়র তাপসের সময়ে পুনরায় চাকরিতে ফিরেন এবং পদোন্নতিও পান, যা ছিল হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
দুদকের তদন্ত থেমে যায় ‘অদৃশ্য ইশারায়’
২০১৬ ও ২০১৭ সালে দুদক তার নামে তদন্ত শুরু করলেও, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় সেই তদন্ত রহস্যজনকভাবে থেমে যায়। শাহজাহান আলীর খিলগাঁও, বাসাবো, কলাবাগান, ধানমন্ডি, তিলপাপাড়া এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট কেনার নথিপত্র চাওয়া হলেও, তা আর এগোয়নি।
আইনজীবী ও বিশ্লেষকদের মতামত
ঢাকা জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী সাইফুল আজম টিটু সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় পদোন্নতি দেওয়া আদালত অবমাননার শামিল।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “কোনো কর্মকর্তার ব্যয় যদি তার আয়ের তুলনায় অসঙ্গত হয়, তবে তা অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষে বিচারযোগ্য।”
প্রশ্ন উঠেছে—কে এই শাহজাহান আলীর রক্ষাকর্তা?
একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কীভাবে বছরের পর বছর ধরে অপরাধ আড়াল করে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলে—এই প্রশ্ন এখন সাধারণ জনগণের। প্রশাসনের ভেতরে গড়ে ওঠা দুষ্ট চক্র ভেঙে না দিলে এমন ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।
অবিলম্বে শাহজাহান আলীর দুর্নীতি, নারী কেলেঙ্কারি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ও দুদককে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নামার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
![]()


















