ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

বিসিবি সভাপতির হোটেলবাস নিয়ে বিতর্ক: অর্থ অপচয় না স্বেচ্ছাচারিতা?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫ ১১৭৯ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদ প্রতিবেদন:
সাবেক বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দেশের সাবেক তারকা ক্রিকেটার ও অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল, যিনি সম্প্রতি বোর্ড সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

কিন্তু নতুন সভাপতির দায়িত্বগ্রহণের পর থেকেই একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে তার আনুষ্ঠানিক জীবনযাপন নিয়ে। জানা গেছে, দায়িত্ব নেবার পর থেকেই তিনি রাজধানীর অভিজাত হোটেলগুলোতে অবস্থান করছেন, এবং সেই খরচ বহন করছে বিসিবি।

সূত্রে জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম বুলবুল বর্তমানে গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে ১৭ জুন ২০২৫ থেকে অবস্থান করছেন। তার আগে তিনি ছিলেন হোটেল সোনারগাঁওয়ে। পুরো সময়জুড়ে তার এই বিলাসবহুল হোটেলবাস বিসিবির অর্থে পরিচালিত হচ্ছে।

এই তথ্য প্রকাশের পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। ক্রিকেটপ্রেমী ও সাধারণ নাগরিকদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একজন বোর্ড সভাপতির নিয়মিত হোটেলবাস কতটা যৌক্তিক? বিসিবির মতো একটি সংস্থা, যার অর্থ সাধারণ মানুষের ক্রিকেটপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যে গড়ে উঠেছে, সেখানে এমন খরচ স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে।

বর্তমানে অবস্থান করা গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে বিসিবির পক্ষ থেকেই হোটেল দেয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে বুলবুলের হোটেলবাস ব্যয় যদি ব্যক্তিগত না হয়ে বোর্ডের তহবিল থেকে হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পরিপন্থী। বিশেষ করে যেসব খেলোয়াড় ও জেলা পর্যায়ের ক্রিকেট সংস্থা পর্যাপ্ত অনুদান বা সুযোগ-সুবিধা পায় না, সেখানে সভাপতির বিলাসী জীবনযাপন অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।

তবে বিসিবি এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা কিংবা সভাপতির পক্ষ থেকেও জনসাধারণের সামনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একজন সভাপতি যদি দায়িত্ব নিয়ে প্রথমেই হোটেল বিল বোর্ডের কাঁধে চাপিয়ে দেন, তাহলে তার নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ কতটা স্বচ্ছ ও গণমুখী হবে?

বিসিবির মতো দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃত্বে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভাপতির হোটেলবাস যদি ব্যক্তিগত সুবিধার চেয়ে বেশি কিছু হয়ে থাকে, তাহলে তা তদন্ত সাপেক্ষে বোর্ড ও সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। না হলে এরকম ঘটনাগুলো দেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

বিষয়টি নিয়ে বিসিবির পক্ষ থেকে দ্রুত স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছে ক্রীড়া মহল ও সচেতন নাগরিক সমাজ।

Loading

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

বিসিবি সভাপতির হোটেলবাস নিয়ে বিতর্ক: অর্থ অপচয় না স্বেচ্ছাচারিতা?

আপডেট সময় : ১২:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

সকালের সংবাদ প্রতিবেদন:
সাবেক বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দেশের সাবেক তারকা ক্রিকেটার ও অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল, যিনি সম্প্রতি বোর্ড সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

কিন্তু নতুন সভাপতির দায়িত্বগ্রহণের পর থেকেই একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে তার আনুষ্ঠানিক জীবনযাপন নিয়ে। জানা গেছে, দায়িত্ব নেবার পর থেকেই তিনি রাজধানীর অভিজাত হোটেলগুলোতে অবস্থান করছেন, এবং সেই খরচ বহন করছে বিসিবি।

সূত্রে জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম বুলবুল বর্তমানে গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে ১৭ জুন ২০২৫ থেকে অবস্থান করছেন। তার আগে তিনি ছিলেন হোটেল সোনারগাঁওয়ে। পুরো সময়জুড়ে তার এই বিলাসবহুল হোটেলবাস বিসিবির অর্থে পরিচালিত হচ্ছে।

এই তথ্য প্রকাশের পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। ক্রিকেটপ্রেমী ও সাধারণ নাগরিকদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একজন বোর্ড সভাপতির নিয়মিত হোটেলবাস কতটা যৌক্তিক? বিসিবির মতো একটি সংস্থা, যার অর্থ সাধারণ মানুষের ক্রিকেটপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যে গড়ে উঠেছে, সেখানে এমন খরচ স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে।

বর্তমানে অবস্থান করা গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে বিসিবির পক্ষ থেকেই হোটেল দেয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে বুলবুলের হোটেলবাস ব্যয় যদি ব্যক্তিগত না হয়ে বোর্ডের তহবিল থেকে হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পরিপন্থী। বিশেষ করে যেসব খেলোয়াড় ও জেলা পর্যায়ের ক্রিকেট সংস্থা পর্যাপ্ত অনুদান বা সুযোগ-সুবিধা পায় না, সেখানে সভাপতির বিলাসী জীবনযাপন অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।

তবে বিসিবি এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা কিংবা সভাপতির পক্ষ থেকেও জনসাধারণের সামনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একজন সভাপতি যদি দায়িত্ব নিয়ে প্রথমেই হোটেল বিল বোর্ডের কাঁধে চাপিয়ে দেন, তাহলে তার নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ কতটা স্বচ্ছ ও গণমুখী হবে?

বিসিবির মতো দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃত্বে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভাপতির হোটেলবাস যদি ব্যক্তিগত সুবিধার চেয়ে বেশি কিছু হয়ে থাকে, তাহলে তা তদন্ত সাপেক্ষে বোর্ড ও সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। না হলে এরকম ঘটনাগুলো দেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

বিষয়টি নিয়ে বিসিবির পক্ষ থেকে দ্রুত স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছে ক্রীড়া মহল ও সচেতন নাগরিক সমাজ।

Loading