ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মিরপুর বিআরটিএতে মালিকানা বদল সেবায় দালালচক্রের দৌরাত্ম্য: কাউন্টার কর্মকর্তাকে ঘিরে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ Logo স্বল্প বেতনে এলজিইডি গাড়িচালকের সম্পদের অট্টালিকা Logo পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে পরিচালক মীর সাজেদুর রহমানকে ঘিরে প্রশাসনিক অনিয়মের বিতর্ক Logo সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকার সেচ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও বহাল পিডি নুরুল ইসলাম Logo দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’ প্রকাশনা নিয়ে আইনি জটিলতা: হাইকোর্টের রুল: মালিকানা ও সম্পাদনায় বিতর্ক Logo প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আউটসোর্সিং নিয়োগ ঘিরে ২৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের পরিকল্পনা! Logo মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড় Logo ডিএনসিসির প্রকৌশলী আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়ম ও ঠিকাদার হয়রানির অভিযোগ Logo অভিযোগের পাহাড় পেরিয়েও বহাল তবিয়তে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি Logo সওজে পরিচালক ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজাদ সিন্ডিকেটের দূর্নীতির সাম্রাজ্য

আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন গুলশানের ওসি মাহামুদুর রহমান!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫ ১০২৮ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদ প্রতিবেদক:
রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ থানা গুলশানের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহামুদুর রহমানের হঠাৎ করে আমেরিকায় পাড়ি জমানোর খবর ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মহলে। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, তিনি ছুটি নিয়ে দেশ ছেড়েছেন, কিন্তু আর ফিরছেন না—এমনটাই ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

জানা গেছে, মাহামুদুর রহমানের স্ত্রী অনেক আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি ছুটি মঞ্জুর করিয়ে আমেরিকায় রওনা দেন। তবে নির্ধারিত সময় শেষে কর্মস্থলে যোগদানের বদলে তিনি এখনও আমেরিকায় অবস্থান করছেন এবং ফেরার কোনো সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানাননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান বিভাগের ডিসিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ‘সকালের সংবাদ’কে জানান, “ওসি মাহামুদুর রহমান ছুটি নিয়ে আমেরিকায় গেছেন। পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন।”

তবে প্রশাসনের ভেতরের একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানিয়েছে, ওসি মাহামুদুর রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। বরং এটি পরিকল্পিতভাবে দেশ ছাড়ার ঘটনা হতে পারে। এক সূত্র বলেছে, “তিনি ছুটি নিয়ে দেশ ছেড়েছেন ঠিকই, কিন্তু আর ফিরে আসবেন না—এমনই ইঙ্গিত মিলেছে।”

এমন ঘটনা প্রশাসনের অভ্যন্তরে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একজন থানার ওসির এভাবে দেশ ছেড়ে যাওয়া এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা নিঃসন্দেহে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বড় ধরনের ব্যত্যয়। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশ সদর দপ্তর কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে মতে, এটা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘সফট এক্সিট’ প্রবণতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে দায়িত্বশীল পদে থেকেও অনেকেই গোপনে বিদেশে চলে যাচ্ছেন এবং সেখানেই থেকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

প্রশ্ন উঠছে—এমন একটি স্পর্শকাতর পদে থাকা ব্যক্তির দেশত্যাগের বিষয়ে প্রশাসনের তদারকি কোথায়? ওসি মাহামুদুর রহমান আদৌ ফিরবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই ঘটনায় প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Loading

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন গুলশানের ওসি মাহামুদুর রহমান!

আপডেট সময় : ০৫:২৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

সকালের সংবাদ প্রতিবেদক:
রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ থানা গুলশানের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহামুদুর রহমানের হঠাৎ করে আমেরিকায় পাড়ি জমানোর খবর ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মহলে। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, তিনি ছুটি নিয়ে দেশ ছেড়েছেন, কিন্তু আর ফিরছেন না—এমনটাই ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

জানা গেছে, মাহামুদুর রহমানের স্ত্রী অনেক আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি ছুটি মঞ্জুর করিয়ে আমেরিকায় রওনা দেন। তবে নির্ধারিত সময় শেষে কর্মস্থলে যোগদানের বদলে তিনি এখনও আমেরিকায় অবস্থান করছেন এবং ফেরার কোনো সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানাননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান বিভাগের ডিসিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ‘সকালের সংবাদ’কে জানান, “ওসি মাহামুদুর রহমান ছুটি নিয়ে আমেরিকায় গেছেন। পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন।”

তবে প্রশাসনের ভেতরের একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানিয়েছে, ওসি মাহামুদুর রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। বরং এটি পরিকল্পিতভাবে দেশ ছাড়ার ঘটনা হতে পারে। এক সূত্র বলেছে, “তিনি ছুটি নিয়ে দেশ ছেড়েছেন ঠিকই, কিন্তু আর ফিরে আসবেন না—এমনই ইঙ্গিত মিলেছে।”

এমন ঘটনা প্রশাসনের অভ্যন্তরে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একজন থানার ওসির এভাবে দেশ ছেড়ে যাওয়া এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা নিঃসন্দেহে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বড় ধরনের ব্যত্যয়। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশ সদর দপ্তর কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে মতে, এটা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘সফট এক্সিট’ প্রবণতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে দায়িত্বশীল পদে থেকেও অনেকেই গোপনে বিদেশে চলে যাচ্ছেন এবং সেখানেই থেকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

প্রশ্ন উঠছে—এমন একটি স্পর্শকাতর পদে থাকা ব্যক্তির দেশত্যাগের বিষয়ে প্রশাসনের তদারকি কোথায়? ওসি মাহামুদুর রহমান আদৌ ফিরবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই ঘটনায় প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Loading