ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ




মাই টিভির মুখোশের সাইনবোর্ডে অর্জিত লিটনের অবৈধ সম্পদের ফিরিস্তি- পর্ব ২

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মে ২০২২ ৬২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাই টিভির মুখোশ অনুষ্ঠানের সাইনবোর্ডে লিটনের শত কোটি টাকার মালিক শিরোনামে সংবাদ প্রচারের পর বিভিন্ন সূত্র থেকে আরও তথ্য আসতে শুরু করেছে এবং দেশের সাংবাদিক সমাজ সহ তার নিজ এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে খুব শীঘ্রই দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যেতে পারেন স্বনামধন্য টেলিভিশন মাই টিভি থেকে সদ্য বিতাড়িত বিশেষ প্রতিনিধি এস কে লিটন।

লিটনের পারিবারিক বিবরণ:
চুয়াডাঙ্গা’র জীবননগরে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া লিটন অভাবের তাড়নায় উপার্জনের জন্য পরিবার নিয়ে ছুটে আসেন রাজধানী ঢাকায়। জীবন চালাতে হিমশিম খাওয়া লিটন রাজধানীর মগবাজার এলাকায় একটি রিকশার গ্যারেজ এর পাশে ছোট্ট ঘর ভাড়া নেন। এরপর পাইকারি বাজার থেকে ইলেকট্রিক পণ্য কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করতে থাকেন। মূলত বাবা আব্দুর রহমান ছিলেন দিন মজুর এবং ভ্যান চালক। পরিবারে সহায় সম্বল বলতে মাত্র ৫ কাঠা বাড়ীর ভিটার উপর পাঠকাঠির বেড়ার একটি ঘড় ছিলো তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই। এছাড়া আর কিছুই ছিলনা তার বাবার।
এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে লিটনের বাবা আব্দুর রহমান একসময় অভাবের তাড়নায় তুলা চাষীর তুলা চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন। এই নিয়ে এলাকায় সালিশ দরবার এর মাধ্যমে তাকে শাস্তিও দেয়া হয়েছিল। মাইটিভিতে চাকরির বদৌলতে মাত্র দশ বছরেই শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন মাই টিভির বিশেষ প্রতিবেদক ও মুখোশ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক এস কে লিটন।
লিটনের সম্পদশালী হওয়ার গল্প যেনো আলাদীনের চেরাগের গল্পকেও হার মানায়। বর্তমানে উপজেলার সবচেয়ে প্রভাবশালী ও রাজকীয় জীবনযাপন করেন তার পরিবার। লিটনের পারিবারিক অভাবের গল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে তার এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে গোপনে খোঁজ খবর নিলেই সত্যিটা বেরিয়ে আসবে। মাইটিভি মালিক সাথী সাহেব একজন দানশীল ও ভালো মানুষ হিসেবেই সারাদেশে পরিচিত। তার ভালো মানসিকতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে লিটনের মত একজন অশিক্ষিত ও ধান্ধাবাজ লিটন মাই টিভির অনুসন্ধানী অনুষ্ঠানকে হাতিয়ার বানিয়ে চাঁদাবাজীর মাধ্যমে রাতারাতি শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়াতে তার উপজেলায় সাংবাদিকের নিয়েও চরম বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়েছে। সাথে মাইটিভির মত একটি সুনামধন্য চ্যানেলকে নিয়েও পাঠক মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে।

নিজ এলাকায় অসাধু কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি:

নিজ এলাকায় এক শ্রেণীর অসাধু সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে লিটনের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। নিজের বাড়ির সামনে পরিবারের লোকজনকে ঠকিয়ে ৪ বিঘা জমির মালিক বনে যাওয়া লিটন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে গৃহহীনদের দেওয়া দুইটি ঘর নিজের কব্জা করে সেই জায়গায় নির্মাণ করেন। ঢাকা থেকে এলাকায় গেলে সেই সরকারি ঘরে বসে তিনি বিভিন্ন রকম দেন-দরবারে ব্যস্ত থাকেন।

গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেয়া দুইটি ঘর নিজের জায়গায় নির্মাণ করে দরবার খানা বানিয়েছেন তিনি।

তার এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, এক পরিবারের কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই এস কে লিটন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায় লিটন যেকোনো সময় দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যেতে পারেন। লিটনের উপর এলাকাবাসী এতটাই ক্ষিপ্ত যে বছরখানেক আগে সেখানে তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন সহ তার কুশপুত্তলিকা পরানো ও জুতাপেটা করা হয়।

বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড অপরাধের জন্য মাই টিভি থেকে সদ্য অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এস কে লিটনকে। এর আগেও এসব কারণে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল কিন্তু ছলে বলে কৌশলে মাইটিভি মালিকপক্ষের সরলতার সুযোগে আবারো যোগদান করেছিলেন তিনি।

সমাজের দুর্নীতি ও অপরাধের মুখোশ উম্মোচন করে থাকেন মাই টিভির অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান মুখোশ। অথচ সেই মুখোশের আড়ালেই চাঁদাবাজির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বড্ড ধুরন্ধর এস কে লিটন।

মাই টিভির মুখোশের আড়ালে শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়া এই এস কে লিটনের পাহাড় সমান সম্পদের তিল তিল বর্ণনা নিম্নে দেওয়া হলো…..

এস কে লিটনের অবৈধ শত কোটি টাকার সম্পদের বিস্তারিত তথ্য:
✓✓জীবননগর বাঁকা ব্রীক ফিল্ডে তার রয়েছে সাথী অটো রাইস মিল ৬ বিঘা জায়গার মধ্যে তিনবিঘা জায়গার উপর নির্মিত। নির্মাণ ব্যায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা। বর্তমানে বাকি তিনবিঘা জায়গায় আরেকটি অটোরাইস মিল চালুর কাজ হাতে নিয়েছেন।

✓✓সাথী অটো রাইস মিলের ভিতরেই ১০০ গরুর একটি খামার। বিনিয়োগ প্রায় ৭০/৮০ লক্ষ টাকা।

✓✓জীবননগর শাঁপলাকলি পাড়া ৭ নাম্বার ওয়ার্ড, ২৮৫ নং দাগে ২ তলা বাড়ী কিনেছেন যার বর্তমান যার মূল্য ১ কোটি টাকা।

✓✓জীবননগর বাসস্ট্যান সংলগ্ন চুয়াডাঙ্গা রোডে। জীবননগর মৌজা দাগ নং ৩২১৮ জমির পরিমান ৯ শতক, জায়গা কিনেছেন ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকায়।

✓✓জীবননগর বাসস্ট্যান সংলগ্ন মোল্লা মার্কেট থ্রি-স্টার হোটেল। বিনিয়োগ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।

✓✓জীবননগর লক্ষীপুর ব্রাক অফিসের সামনে জামাল এগ্রোফুডের পাসে ৩০ কাঠা যায়গার উপর এস কে রাইস মিল। যার বর্তমান বাজার মূল্য দুই কোটি টাকা।

✓✓জীবননগর পিয়ারাতলা ৩ নং ওয়ার্ড, হিন্দু বাড়ী সংলগ্ন মনোহরপুর মৌজা দাগ নং ৪৫২৯ সাথী বৃদ্ধাশ্রমের সাইনবোর্ড লাগানো আছে। ১ বিঘা জমি মূল্য ৮০ লক্ষ টাকা।

 

✓✓বাঁকা মৌজা দাগ নং ২৬৮, ৪ বিঘা যায়গার উপর মেয়ের নামে শোভা মৎস হ্যাচারী। যার বাজার মূল্য ১কোটি টাকা।

✓✓খয়েরহুদা মৌজা দাগ নং ৪৬৮৪/৪৫০৮ দুই দাগে ৭ বিঘা আবাদি জমি কিনেছেন। যার মূল্য প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা।

✓✓ কেডিকে ইউনিয়নের ৯ নাম্বার ওয়ার্ড খয়েরহুদা মাঠপাড়া গ্রামে তার পৈতৃক বাড়িটি মাত্র ৫ কাঠা যায়গায় উপর যেখানে পাঠকাঠির বেড়ার ঘর ছিল। সেখানে আশপাশের মানুষের জমি জোরজবরদস্তির মধ্যোমে কিনে নিয়ে ৭ বিঘা করেছে। এবং সেটিতেই ডুপ্লেক্স বাড়ী নির্মাণ করেছে। বাড়ি ও জমি মিলে প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যায়।

✓✓তার ব্যাবহিত গাড়ী এলিয়ন। ঢাকা মেট্রো- গ ৩২-৩৬৮৬ গাড়িটির মূল্য ৩০ লক্ষ টাকা।

✓✓তার বাবা আব্দুর রহমানকে বর্তমানে কিনেদিয়েছেন RAv-4 মডেলের গাড়ি যার মুল্যও নাকি ২০ লক্ষ টাকা। বছরে কয়েকটি মটর বাইক তো বদল করা তাদের নেশা। তার ছোট ভাই এস কে বকুল চড়েন R1-5 যার মূল্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকা।

√√ ট্রাক আছে ৫ টি যা সাথী অটো রাইস মিলে ব্যবহার হয়। যার মূল্য প্রায় দের কোটি টাকা।

✓✓বর্তমানে রাজারবাগে যে বাসাটিতে লিটন বসবাস করে সেই ফ্লাটটিও তার কেনা।

বিভিন্ন সূত্র মতে জানা যায় এছাড়াও রাজধানীতে তার একাধিক ফ্লাট রয়েছে। মাত্র ৫ কাঠা বাড়ীর ভিটা তার উপর পাঠকাঠির বেড়ার একটি ঘর থেকে শতকোটি টাকার মালিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি ধান্দাবাজি তদবির করে নিজের জমি টাকার পাহাড় গড়েছেন ঠিক তেমনি ফাঁকি দিয়েছেন তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থান মাইটিভি কর্তৃপক্ষকে। কিন্ত লিটনের মত একজন অশিক্ষিত ব্যক্তি রাতারাতি চাঁদাবাজীর মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়াতে এলাকায় সাংবাদিকের নিয়েও চরম বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়েছে।

সম্পদে ফুলে ফেঁপে ওঠা লিটনের শত শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার বিষয়ে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে তার বক্তব্য জানতে চাইলে এসব বিষয়ে কিছুই বলেননি।

এ বিষয়ে মাই টিভি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় কিন্তু দুইদিন যাবত তিনি জ্বরে আক্রান্ত থাকার কারণে বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




মাই টিভির মুখোশের সাইনবোর্ডে অর্জিত লিটনের অবৈধ সম্পদের ফিরিস্তি- পর্ব ২

আপডেট সময় : ০৩:০৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মে ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাই টিভির মুখোশ অনুষ্ঠানের সাইনবোর্ডে লিটনের শত কোটি টাকার মালিক শিরোনামে সংবাদ প্রচারের পর বিভিন্ন সূত্র থেকে আরও তথ্য আসতে শুরু করেছে এবং দেশের সাংবাদিক সমাজ সহ তার নিজ এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে খুব শীঘ্রই দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যেতে পারেন স্বনামধন্য টেলিভিশন মাই টিভি থেকে সদ্য বিতাড়িত বিশেষ প্রতিনিধি এস কে লিটন।

লিটনের পারিবারিক বিবরণ:
চুয়াডাঙ্গা’র জীবননগরে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া লিটন অভাবের তাড়নায় উপার্জনের জন্য পরিবার নিয়ে ছুটে আসেন রাজধানী ঢাকায়। জীবন চালাতে হিমশিম খাওয়া লিটন রাজধানীর মগবাজার এলাকায় একটি রিকশার গ্যারেজ এর পাশে ছোট্ট ঘর ভাড়া নেন। এরপর পাইকারি বাজার থেকে ইলেকট্রিক পণ্য কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করতে থাকেন। মূলত বাবা আব্দুর রহমান ছিলেন দিন মজুর এবং ভ্যান চালক। পরিবারে সহায় সম্বল বলতে মাত্র ৫ কাঠা বাড়ীর ভিটার উপর পাঠকাঠির বেড়ার একটি ঘড় ছিলো তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই। এছাড়া আর কিছুই ছিলনা তার বাবার।
এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে লিটনের বাবা আব্দুর রহমান একসময় অভাবের তাড়নায় তুলা চাষীর তুলা চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন। এই নিয়ে এলাকায় সালিশ দরবার এর মাধ্যমে তাকে শাস্তিও দেয়া হয়েছিল। মাইটিভিতে চাকরির বদৌলতে মাত্র দশ বছরেই শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন মাই টিভির বিশেষ প্রতিবেদক ও মুখোশ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক এস কে লিটন।
লিটনের সম্পদশালী হওয়ার গল্প যেনো আলাদীনের চেরাগের গল্পকেও হার মানায়। বর্তমানে উপজেলার সবচেয়ে প্রভাবশালী ও রাজকীয় জীবনযাপন করেন তার পরিবার। লিটনের পারিবারিক অভাবের গল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে তার এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে গোপনে খোঁজ খবর নিলেই সত্যিটা বেরিয়ে আসবে। মাইটিভি মালিক সাথী সাহেব একজন দানশীল ও ভালো মানুষ হিসেবেই সারাদেশে পরিচিত। তার ভালো মানসিকতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে লিটনের মত একজন অশিক্ষিত ও ধান্ধাবাজ লিটন মাই টিভির অনুসন্ধানী অনুষ্ঠানকে হাতিয়ার বানিয়ে চাঁদাবাজীর মাধ্যমে রাতারাতি শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়াতে তার উপজেলায় সাংবাদিকের নিয়েও চরম বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়েছে। সাথে মাইটিভির মত একটি সুনামধন্য চ্যানেলকে নিয়েও পাঠক মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে।

নিজ এলাকায় অসাধু কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি:

নিজ এলাকায় এক শ্রেণীর অসাধু সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে লিটনের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। নিজের বাড়ির সামনে পরিবারের লোকজনকে ঠকিয়ে ৪ বিঘা জমির মালিক বনে যাওয়া লিটন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে গৃহহীনদের দেওয়া দুইটি ঘর নিজের কব্জা করে সেই জায়গায় নির্মাণ করেন। ঢাকা থেকে এলাকায় গেলে সেই সরকারি ঘরে বসে তিনি বিভিন্ন রকম দেন-দরবারে ব্যস্ত থাকেন।

গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেয়া দুইটি ঘর নিজের জায়গায় নির্মাণ করে দরবার খানা বানিয়েছেন তিনি।

তার এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, এক পরিবারের কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই এস কে লিটন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায় লিটন যেকোনো সময় দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যেতে পারেন। লিটনের উপর এলাকাবাসী এতটাই ক্ষিপ্ত যে বছরখানেক আগে সেখানে তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন সহ তার কুশপুত্তলিকা পরানো ও জুতাপেটা করা হয়।

বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড অপরাধের জন্য মাই টিভি থেকে সদ্য অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এস কে লিটনকে। এর আগেও এসব কারণে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল কিন্তু ছলে বলে কৌশলে মাইটিভি মালিকপক্ষের সরলতার সুযোগে আবারো যোগদান করেছিলেন তিনি।

সমাজের দুর্নীতি ও অপরাধের মুখোশ উম্মোচন করে থাকেন মাই টিভির অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান মুখোশ। অথচ সেই মুখোশের আড়ালেই চাঁদাবাজির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বড্ড ধুরন্ধর এস কে লিটন।

মাই টিভির মুখোশের আড়ালে শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়া এই এস কে লিটনের পাহাড় সমান সম্পদের তিল তিল বর্ণনা নিম্নে দেওয়া হলো…..

এস কে লিটনের অবৈধ শত কোটি টাকার সম্পদের বিস্তারিত তথ্য:
✓✓জীবননগর বাঁকা ব্রীক ফিল্ডে তার রয়েছে সাথী অটো রাইস মিল ৬ বিঘা জায়গার মধ্যে তিনবিঘা জায়গার উপর নির্মিত। নির্মাণ ব্যায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা। বর্তমানে বাকি তিনবিঘা জায়গায় আরেকটি অটোরাইস মিল চালুর কাজ হাতে নিয়েছেন।

✓✓সাথী অটো রাইস মিলের ভিতরেই ১০০ গরুর একটি খামার। বিনিয়োগ প্রায় ৭০/৮০ লক্ষ টাকা।

✓✓জীবননগর শাঁপলাকলি পাড়া ৭ নাম্বার ওয়ার্ড, ২৮৫ নং দাগে ২ তলা বাড়ী কিনেছেন যার বর্তমান যার মূল্য ১ কোটি টাকা।

✓✓জীবননগর বাসস্ট্যান সংলগ্ন চুয়াডাঙ্গা রোডে। জীবননগর মৌজা দাগ নং ৩২১৮ জমির পরিমান ৯ শতক, জায়গা কিনেছেন ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকায়।

✓✓জীবননগর বাসস্ট্যান সংলগ্ন মোল্লা মার্কেট থ্রি-স্টার হোটেল। বিনিয়োগ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।

✓✓জীবননগর লক্ষীপুর ব্রাক অফিসের সামনে জামাল এগ্রোফুডের পাসে ৩০ কাঠা যায়গার উপর এস কে রাইস মিল। যার বর্তমান বাজার মূল্য দুই কোটি টাকা।

✓✓জীবননগর পিয়ারাতলা ৩ নং ওয়ার্ড, হিন্দু বাড়ী সংলগ্ন মনোহরপুর মৌজা দাগ নং ৪৫২৯ সাথী বৃদ্ধাশ্রমের সাইনবোর্ড লাগানো আছে। ১ বিঘা জমি মূল্য ৮০ লক্ষ টাকা।

 

✓✓বাঁকা মৌজা দাগ নং ২৬৮, ৪ বিঘা যায়গার উপর মেয়ের নামে শোভা মৎস হ্যাচারী। যার বাজার মূল্য ১কোটি টাকা।

✓✓খয়েরহুদা মৌজা দাগ নং ৪৬৮৪/৪৫০৮ দুই দাগে ৭ বিঘা আবাদি জমি কিনেছেন। যার মূল্য প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা।

✓✓ কেডিকে ইউনিয়নের ৯ নাম্বার ওয়ার্ড খয়েরহুদা মাঠপাড়া গ্রামে তার পৈতৃক বাড়িটি মাত্র ৫ কাঠা যায়গায় উপর যেখানে পাঠকাঠির বেড়ার ঘর ছিল। সেখানে আশপাশের মানুষের জমি জোরজবরদস্তির মধ্যোমে কিনে নিয়ে ৭ বিঘা করেছে। এবং সেটিতেই ডুপ্লেক্স বাড়ী নির্মাণ করেছে। বাড়ি ও জমি মিলে প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যায়।

✓✓তার ব্যাবহিত গাড়ী এলিয়ন। ঢাকা মেট্রো- গ ৩২-৩৬৮৬ গাড়িটির মূল্য ৩০ লক্ষ টাকা।

✓✓তার বাবা আব্দুর রহমানকে বর্তমানে কিনেদিয়েছেন RAv-4 মডেলের গাড়ি যার মুল্যও নাকি ২০ লক্ষ টাকা। বছরে কয়েকটি মটর বাইক তো বদল করা তাদের নেশা। তার ছোট ভাই এস কে বকুল চড়েন R1-5 যার মূল্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকা।

√√ ট্রাক আছে ৫ টি যা সাথী অটো রাইস মিলে ব্যবহার হয়। যার মূল্য প্রায় দের কোটি টাকা।

✓✓বর্তমানে রাজারবাগে যে বাসাটিতে লিটন বসবাস করে সেই ফ্লাটটিও তার কেনা।

বিভিন্ন সূত্র মতে জানা যায় এছাড়াও রাজধানীতে তার একাধিক ফ্লাট রয়েছে। মাত্র ৫ কাঠা বাড়ীর ভিটা তার উপর পাঠকাঠির বেড়ার একটি ঘর থেকে শতকোটি টাকার মালিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি ধান্দাবাজি তদবির করে নিজের জমি টাকার পাহাড় গড়েছেন ঠিক তেমনি ফাঁকি দিয়েছেন তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থান মাইটিভি কর্তৃপক্ষকে। কিন্ত লিটনের মত একজন অশিক্ষিত ব্যক্তি রাতারাতি চাঁদাবাজীর মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়াতে এলাকায় সাংবাদিকের নিয়েও চরম বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়েছে।

সম্পদে ফুলে ফেঁপে ওঠা লিটনের শত শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার বিষয়ে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে তার বক্তব্য জানতে চাইলে এসব বিষয়ে কিছুই বলেননি।

এ বিষয়ে মাই টিভি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় কিন্তু দুইদিন যাবত তিনি জ্বরে আক্রান্ত থাকার কারণে বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।