ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মঙ্গল শোভাযাত্রা – তাসফিয়া ফারহানা ঐশী Logo সাস্টিয়ান ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর ইফতার মাহফিল সম্পন্ন Logo কুবির চট্টগ্রাম স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ইফতার ও পূর্নমিলনী Logo অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদের মায়ের মৃত্যুতে শাবির মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্ত চিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ পরিষদের শোক প্রকাশ Logo শাবির অধ্যাপক জহীর উদ্দিনের মায়ের মৃত্যুতে উপাচার্যের শোক প্রকাশ Logo বিশ কোটিতে গণপূর্তের প্রধান হওয়ার মিশনে ‘ছাত্রদল ক্যাডার প্রকৌশলী’! Logo দূর্নীতির রাক্ষস ফায়ার সার্ভিসের এডি আনোয়ার! Logo ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়া শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামোর সংস্কার শুরু Logo বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতির দাবিতে শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের মানববন্ধন Logo কুবি উপাচার্যের বক্তব্যের প্রমাণ দিতে শিক্ষক সমিতির সাত দিনের আল্টিমেটাম




সফল ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর গড়তে পরিচালক হাবিবুর রহমানের নিরলস কর্মপ্রচেষ্টা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ এপ্রিল ২০২১ ১০৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একটি ঘর মজবুত থাকে খুঁটি বা পিলারের উপর ভিত্তি করে। তেমনি একটি সরকারি বা বেসরকারি অফিস তার কর্মকর্তা-কর্মচারীর নেতৃত্বের গুণে সফলতায় পা রাখে। নেতৃত্বের ব্যর্থতায় পিছিয়েও পড়ে অনেক প্রতিষ্ঠান। কর্মকর্তা ভালো হলে অফিস সফলভাবে সামনে এগিয়ে যায়, আর খারাপ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থমকে দাঁড়ায়। আজ বলবো সাফ্যল্যের পথে চলা এমন একটি অধিদপ্তরের কথা। কিছুদিন আগেও যে প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিধি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানতেন না; তা আজ সবার জানা। প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সকল দুর্যোগে সবার আগে মানুষের পাশে থাকে এ প্রতিষ্ঠানটি, নাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। অগ্নিপ্রতিরোধ ও অগ্নিনির্বাপণ থেকে শুরু করে নদীপথের যেকোনো দুর্ঘটনায় নিরলসভাবে উদ্ধারকাজ করে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটির সদস্যগণ। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের জীবন রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর সেবাধর্মী এ প্রতিষ্ঠানটি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বহুমুখী সমৃদ্ধির পেছনে রয়েছে সৎ ও দক্ষ একজন কর্মকর্তার নিরলস পরিশ্রম আর প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্ব। একজন নীতিবান ও যোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে ওই প্রতিষ্ঠান আজ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যেতে সক্ষম হয়েছে। তিনি এই প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সাজ্জাদ হোসাইন, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল। তবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দক্ষ নেতৃত্বে এই প্রতিষ্ঠানে এগিয়ে নেয়ার পেছনে তাঁর যোগ্য সহকর্মী হিসেবে যাদের কর্মপ্রচেষ্টায় সকল সাফল্য দৃশ্যমান হচ্ছে, তাদের মধ্যে অন্যতম পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) যুগ্মসচিব মোঃ হাবিবুর রহমান। আজকের পর্বে জানাবো সরকারের এই সৎ, যোগ্য ও কর্মবীর মানুষটির কথা।

যাত্রাকাল থেকেই একজন মহাপরিচালক দ্বারা পরিচালিত হলেও ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরে বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত রয়েছেন বেশ কয়েকজন পরিচালক, উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক। মাঠপর্যায়ে আছেন উপসহকারী পরিচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা-কর্মচারী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ ঘোষণা অনুযায়ী সারা বাংলাদেশের সকল উপজেলায় ন্যূনতম একটি করে ফায়ার স্টেশন স্থাপনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক উপজেলায় আছে একাধিক অফিস। সারাদেশের প্রতিটি অফিস সদর দপ্তর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা নিজের প্রতিষ্ঠান ভেবেই রাত-দিন সরকারের সুনাম অর্জন করতে পরিশ্রম করে থাকেন। এমন একজন পরিচালকের সততা, যোগ্যতা, পরিশ্রম ও কর্মপ্রচেষ্টায় আজ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রতিষ্ঠানটি সেরা অধিদপ্তর হিসেবে পরিচিত। যার দক্ষতার কথা অধিদপ্তরে গেলেই অনেকের মুখে শোনা যায়। চাকরিতে যোগদানের পর থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধানের নির্দেশনা আর অন্য সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি গত দুই বছরে অধিদপ্তরকে আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করেছেন। তাঁর কর্মপ্রচেষ্টায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কাজ করার চ্যালেঞ্জও ফিরে এসেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। আগের চেয়ে এই প্রতিষ্ঠানের অপরাধ কমাতেও সক্ষম হয়েছেন তিনি। ফিরিয়ে এনেছন সুশাসন। এসব যাকে উদ্দেশ করে বলছি তিনি আর কেউ নন, তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) যুগ্মসচিব মোঃ হাবিবুর রহমান৷

জানা গেছে, তাঁর সকল সফল কর্মপ্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকও সন্তুষ্ট। তাঁর অভিনব উদ্যোগ আর সৃষ্টিশীল কাজে মহাপরিচালক সবসময় স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন আর সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। অনেকেই জানান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয় অত্যন্ত সৎ, কর্মদক্ষ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা। তাঁর একজন যোগ্য সহকর্মী হিসেবে সকল দুর্যোগে প্রথম সাড়াদানকারী এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য নতুন নতুন সাফল্য এনে দিচ্ছেন পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ হাবিবুর রহমান। সার্বিক সাফল্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আজ সেরা অধিদপ্তর হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। তাঁদের মতো জ্ঞানী-গুণী অফিসার পেয়ে নিজেদেরকে ভাগ্যবান মনে করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

মোঃ হাবিবুর রহমান পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বেশকিছু সাফল্য অর্জিত হয়। এসব সাফল্যের পেছনে মহাপরিচালকের দক্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি অন্য সহকর্মীদের সহযোগিতায় হাবিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ অধিদপ্তরের ফায়ারম্যান পদের নাম ফায়ারফাইটার করা (এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ নির্দেশনা ছিল); অধিদপ্তরের ৫টি পদের বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈষম্য দূর করা; অধিদপ্তরের অপারেশনাল স্টাফদের জন্য তিন রঙের কমব্যাট ইউনিফরমের রং, পেটেন্ট ও ডিজাইন অনুমোদন; আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ একাডেমির জন্য জমি অধিগ্রহণ; বাস্তবায়নাধীন প্রশিক্ষণ একাডেমির নাম ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফায়ার একাডেমি’ হিসেবে অনুমোদন গ্রহণ; প্রথমবারে মতো ফায়ার সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন; ফায়ার সার্ভিসের জনবল কাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ; সকল জেলায় ১ম শ্রেণির পদ সৃজন অথবা উপসহকারী পরিচালকের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ; ৫টি দিবসে ফায়ার সার্ভিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য একই মেন্যুতে বড়খানার আয়োজন ইত্যাদি।

মোঃ হাবিবুর রহমান ১৯৬৯ সালের ১ এপ্রিল জামালপুর জেলার সদর উপজেলার রুহিলী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশুনা করেন। এরপর তিনি রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন।

দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি), সিনিয়র সহকারী কমিশনার, উপপরিচালক স্থানীয় সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে বিভিন্ন জেলায় তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। উপসচিব হিসেবে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন । মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন। বর্তমান কর্মস্থল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে যোগদানের পূর্বে তিনি বরিশালের জেলা প্রশাসকের গুরুদায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি সরকারের যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ওই বছর ২৪ অক্টোবর তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) হিসেবে যোগদান করেন। সূত্রমতে, সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, সৌদি আরব, গ্রীস, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশ সফর করেন। কর্মজীবনে তিনি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে হাঁটবেন বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট জনরা।

এছাড়াও অধিদপ্তরের অন্য দুজন ও একজন উপ পরিচালকের কিডনি নিরলস কর্ম পরিচালনা একটি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর গড়তে  অনেকাংশেই সফল যথাক্রমে তারা হলেন লে. কর্ণেল এস এম জুলফিকার রহমান, বিএসপি, পিএসসি, ইঞ্জিনিয়ার্স, পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবং লে. কর্ণেল জিল্লুর রহমান, পিএসসি, পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স)- শামীম আহসান চৌধুর-উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এরও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সমৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপর্ণ অবদান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




সফল ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর গড়তে পরিচালক হাবিবুর রহমানের নিরলস কর্মপ্রচেষ্টা

আপডেট সময় : ০৭:০৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ এপ্রিল ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একটি ঘর মজবুত থাকে খুঁটি বা পিলারের উপর ভিত্তি করে। তেমনি একটি সরকারি বা বেসরকারি অফিস তার কর্মকর্তা-কর্মচারীর নেতৃত্বের গুণে সফলতায় পা রাখে। নেতৃত্বের ব্যর্থতায় পিছিয়েও পড়ে অনেক প্রতিষ্ঠান। কর্মকর্তা ভালো হলে অফিস সফলভাবে সামনে এগিয়ে যায়, আর খারাপ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থমকে দাঁড়ায়। আজ বলবো সাফ্যল্যের পথে চলা এমন একটি অধিদপ্তরের কথা। কিছুদিন আগেও যে প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিধি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানতেন না; তা আজ সবার জানা। প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সকল দুর্যোগে সবার আগে মানুষের পাশে থাকে এ প্রতিষ্ঠানটি, নাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। অগ্নিপ্রতিরোধ ও অগ্নিনির্বাপণ থেকে শুরু করে নদীপথের যেকোনো দুর্ঘটনায় নিরলসভাবে উদ্ধারকাজ করে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটির সদস্যগণ। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের জীবন রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর সেবাধর্মী এ প্রতিষ্ঠানটি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বহুমুখী সমৃদ্ধির পেছনে রয়েছে সৎ ও দক্ষ একজন কর্মকর্তার নিরলস পরিশ্রম আর প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্ব। একজন নীতিবান ও যোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে ওই প্রতিষ্ঠান আজ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যেতে সক্ষম হয়েছে। তিনি এই প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সাজ্জাদ হোসাইন, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল। তবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দক্ষ নেতৃত্বে এই প্রতিষ্ঠানে এগিয়ে নেয়ার পেছনে তাঁর যোগ্য সহকর্মী হিসেবে যাদের কর্মপ্রচেষ্টায় সকল সাফল্য দৃশ্যমান হচ্ছে, তাদের মধ্যে অন্যতম পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) যুগ্মসচিব মোঃ হাবিবুর রহমান। আজকের পর্বে জানাবো সরকারের এই সৎ, যোগ্য ও কর্মবীর মানুষটির কথা।

যাত্রাকাল থেকেই একজন মহাপরিচালক দ্বারা পরিচালিত হলেও ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরে বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত রয়েছেন বেশ কয়েকজন পরিচালক, উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক। মাঠপর্যায়ে আছেন উপসহকারী পরিচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা-কর্মচারী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ ঘোষণা অনুযায়ী সারা বাংলাদেশের সকল উপজেলায় ন্যূনতম একটি করে ফায়ার স্টেশন স্থাপনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক উপজেলায় আছে একাধিক অফিস। সারাদেশের প্রতিটি অফিস সদর দপ্তর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা নিজের প্রতিষ্ঠান ভেবেই রাত-দিন সরকারের সুনাম অর্জন করতে পরিশ্রম করে থাকেন। এমন একজন পরিচালকের সততা, যোগ্যতা, পরিশ্রম ও কর্মপ্রচেষ্টায় আজ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রতিষ্ঠানটি সেরা অধিদপ্তর হিসেবে পরিচিত। যার দক্ষতার কথা অধিদপ্তরে গেলেই অনেকের মুখে শোনা যায়। চাকরিতে যোগদানের পর থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধানের নির্দেশনা আর অন্য সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি গত দুই বছরে অধিদপ্তরকে আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করেছেন। তাঁর কর্মপ্রচেষ্টায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কাজ করার চ্যালেঞ্জও ফিরে এসেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। আগের চেয়ে এই প্রতিষ্ঠানের অপরাধ কমাতেও সক্ষম হয়েছেন তিনি। ফিরিয়ে এনেছন সুশাসন। এসব যাকে উদ্দেশ করে বলছি তিনি আর কেউ নন, তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) যুগ্মসচিব মোঃ হাবিবুর রহমান৷

জানা গেছে, তাঁর সকল সফল কর্মপ্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকও সন্তুষ্ট। তাঁর অভিনব উদ্যোগ আর সৃষ্টিশীল কাজে মহাপরিচালক সবসময় স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন আর সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। অনেকেই জানান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয় অত্যন্ত সৎ, কর্মদক্ষ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা। তাঁর একজন যোগ্য সহকর্মী হিসেবে সকল দুর্যোগে প্রথম সাড়াদানকারী এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য নতুন নতুন সাফল্য এনে দিচ্ছেন পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ হাবিবুর রহমান। সার্বিক সাফল্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আজ সেরা অধিদপ্তর হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। তাঁদের মতো জ্ঞানী-গুণী অফিসার পেয়ে নিজেদেরকে ভাগ্যবান মনে করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

মোঃ হাবিবুর রহমান পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বেশকিছু সাফল্য অর্জিত হয়। এসব সাফল্যের পেছনে মহাপরিচালকের দক্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি অন্য সহকর্মীদের সহযোগিতায় হাবিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ অধিদপ্তরের ফায়ারম্যান পদের নাম ফায়ারফাইটার করা (এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ নির্দেশনা ছিল); অধিদপ্তরের ৫টি পদের বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈষম্য দূর করা; অধিদপ্তরের অপারেশনাল স্টাফদের জন্য তিন রঙের কমব্যাট ইউনিফরমের রং, পেটেন্ট ও ডিজাইন অনুমোদন; আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ একাডেমির জন্য জমি অধিগ্রহণ; বাস্তবায়নাধীন প্রশিক্ষণ একাডেমির নাম ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফায়ার একাডেমি’ হিসেবে অনুমোদন গ্রহণ; প্রথমবারে মতো ফায়ার সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন; ফায়ার সার্ভিসের জনবল কাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ; সকল জেলায় ১ম শ্রেণির পদ সৃজন অথবা উপসহকারী পরিচালকের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ; ৫টি দিবসে ফায়ার সার্ভিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য একই মেন্যুতে বড়খানার আয়োজন ইত্যাদি।

মোঃ হাবিবুর রহমান ১৯৬৯ সালের ১ এপ্রিল জামালপুর জেলার সদর উপজেলার রুহিলী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশুনা করেন। এরপর তিনি রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন।

দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি), সিনিয়র সহকারী কমিশনার, উপপরিচালক স্থানীয় সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে বিভিন্ন জেলায় তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। উপসচিব হিসেবে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন । মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন। বর্তমান কর্মস্থল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে যোগদানের পূর্বে তিনি বরিশালের জেলা প্রশাসকের গুরুদায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি সরকারের যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ওই বছর ২৪ অক্টোবর তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) হিসেবে যোগদান করেন। সূত্রমতে, সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, সৌদি আরব, গ্রীস, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশ সফর করেন। কর্মজীবনে তিনি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে হাঁটবেন বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট জনরা।

এছাড়াও অধিদপ্তরের অন্য দুজন ও একজন উপ পরিচালকের কিডনি নিরলস কর্ম পরিচালনা একটি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর গড়তে  অনেকাংশেই সফল যথাক্রমে তারা হলেন লে. কর্ণেল এস এম জুলফিকার রহমান, বিএসপি, পিএসসি, ইঞ্জিনিয়ার্স, পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবং লে. কর্ণেল জিল্লুর রহমান, পিএসসি, পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স)- শামীম আহসান চৌধুর-উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এরও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সমৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপর্ণ অবদান রয়েছে।