ঢাকা ০৮:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ




প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে কাউন্সিলর হোসেনের ত্রাণের নামে চাঁদাবাজি!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ ১১০ বার পড়া হয়েছে

কামরুল ইসলাম ভূইয়াঃ 

দেশে করোনা ভাইরাস চলাকালীন নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের কথা বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের উপর মোটা অংকের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর (কামরাঙ্গীরচর ) মোহাম্মদ হোসেনের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে কাউন্সিলর হোসেনকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এমনকি সাংবাদিকের বাবাকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন (যার অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে)।

তিনি (হোসেন) এলাকায় ব্যাপক প্রভাবশালী (নব্য এরশাদ শিকদার) হওয়ায় ভুক্তভোগীরা নাম ও পরিচয় প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ হোসেনের প্রতিক্রিয়া জানতে তাকে ফোন করা হলে এসময় তিনি উত্তেজিত হয়ে যান। এক পর্যায়ে দাবি করেন তিনি পঞ্চায়েত এর মাধ্যমে জোর-জুলুমহীন স্থানীয় বিত্তশালীদের থেকে টাকা তুলছেন।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর হোসেনের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ এক যুগ দুর্নীতি, অনিয়ম, দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বারবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইনে নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। দেশের প্রথম সারির ৫টি পত্রিকার রিপোর্ট ও বিভিন্ন অভিযোগ মতে নিজেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের খাস লোক বলে দাবি করেন এ বিতর্কিত কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন।

জানা গেছে, হোসেনের শশুর রফিক (বানচাল রফিক) প্রয়াত বিএনপি নেতা নাছির উদ্দিন পিন্টুর ক্যাডার ছিলেন। সেসময় হোসেনও পিন্টুর ক্যাডার ছিলেন এবং থাকতেন একটি টিনশেড বাড়িতে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যোগ দেন ছাত্রলীগে। প্রথমবার কাউন্সিলর হয়েই আলাদিনের চেরাগের মত বিপুল পরিমান আয় বর্হিভূূূূূত অর্থ সম্পদ অর্জন করেন। অবশ্য এ বিষয়ে হোসনেরে দাবি তিনি কখনো বিএনপি করেননি। কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক থেকে পরে সভাপতি হন তিনি।

মোহাম্মদ হোসেন বাড়িওয়ালাদের হোল্ডিং প্লেট দেবেন-এমন আশ্বাস দিয়ে দেড় লক্ষাধিক পরিবার থেকে ৪০০-৫০০ করে প্রায় কোটি টাকা তুললেও ৬ বছরে সেই প্লেট না পাওয়ার অভিযোগ কামরাঙ্গীরচরবাসীদের। পুরো থানার ডিস ব্যবসার একক নিয়ন্ত্রক এ আলোচিত-সমালোচিত কাউন্সিলর হোসেন।

জানা যায়, ২০১৪ সালে অন্য এক ব্যবসায়ীর থেকে জোর করে এসব ব্যবসা দখলে নেয় হোসেন, আর তাকে সহায়তা করেন কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক বিপ্লব। সাধারণ মানুষের জমি, খাসজমি, খেয়াঘাট, ট্রলারঘাট, রাস্তা, ফুটপাত, মার্কেট দখলের মতো অনেক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে হোসেনের বিরুদ্ধে। হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে এলাকায় ব্যাটারী চালিত রিকশা চলাচল করানোসহ প্রতি অটো রিকশা থেকে মাসে ১ হাজার করে ৫০ লক্ষাধিক টাকা চাঁদা তুলছে হোসেনের ক্যাডার বাহিনী।

একসময় টিনশেডের বাসায় মানবেতর জীবন-যাপন করা হোসেন এখন শতকোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। এরমধ্যে রয়েছে হুজুরপাড়া নূরজাহান স্কুলের সামনে ১০ কাঠা জমিতে বিলাশবহুল বাড়ি। আশ্রাফাবাদ দশআনি বাজারে ৭ কাঠা, ইসলামনগর মদিনাবাদ মসজিদের সামনে ৬তলা বাড়ি। আশ্রাফাবাদ, খালপাড়, আলীনগর, টেকেরহাটি, রসুলপুরসহ এলাকার সব অটোস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করে হোসনের ক্যাডার বিপ্লব। তার আরেক ক্যাডার ইসমাইলের বিরুদ্ধে রয়েছে টাকার বিনিময়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ। নামে-বেনামে একাধিকবার দুদকে লিখিত দরখাস্ত দিলেও হয়নি কোন প্রতিকার।

এছাড়াও বিভিন্ন সময় পুলিশকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে এ বিতর্কিত কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এলাকায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হামলা-মামলার পাশাপাশি মিথ্যা অপবাদ দেওয়া পুরোনো স্বভাব হয়ে দাড়িয়েছে তার। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। হোসেনের অত্যাচারে রাজনীতি হতে নিজেকে ঘুটিয়ে নিয়েছে পুরোনো আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা।

অন্যদিকে, ক্যাসিনোকান্ডে জড়িত গডফাদারদের সঙ্গে হোসেনের রয়েছে গভীর সখ্যতা। এসকল গডফাদার ও তাদের অর্জিত সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করছে এই হোসেন। অভিযোগ আছে এই হোসেন নেপথ্যে কাসিনোকান্ডে টাকা লগ্নি করার কারণে রাতারাতি বিশাল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে কাউন্সিলর হোসেনের ত্রাণের নামে চাঁদাবাজি!

আপডেট সময় : ১২:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০

কামরুল ইসলাম ভূইয়াঃ 

দেশে করোনা ভাইরাস চলাকালীন নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের কথা বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের উপর মোটা অংকের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর (কামরাঙ্গীরচর ) মোহাম্মদ হোসেনের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে কাউন্সিলর হোসেনকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এমনকি সাংবাদিকের বাবাকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন (যার অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে)।

তিনি (হোসেন) এলাকায় ব্যাপক প্রভাবশালী (নব্য এরশাদ শিকদার) হওয়ায় ভুক্তভোগীরা নাম ও পরিচয় প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ হোসেনের প্রতিক্রিয়া জানতে তাকে ফোন করা হলে এসময় তিনি উত্তেজিত হয়ে যান। এক পর্যায়ে দাবি করেন তিনি পঞ্চায়েত এর মাধ্যমে জোর-জুলুমহীন স্থানীয় বিত্তশালীদের থেকে টাকা তুলছেন।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর হোসেনের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ এক যুগ দুর্নীতি, অনিয়ম, দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বারবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইনে নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। দেশের প্রথম সারির ৫টি পত্রিকার রিপোর্ট ও বিভিন্ন অভিযোগ মতে নিজেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের খাস লোক বলে দাবি করেন এ বিতর্কিত কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন।

জানা গেছে, হোসেনের শশুর রফিক (বানচাল রফিক) প্রয়াত বিএনপি নেতা নাছির উদ্দিন পিন্টুর ক্যাডার ছিলেন। সেসময় হোসেনও পিন্টুর ক্যাডার ছিলেন এবং থাকতেন একটি টিনশেড বাড়িতে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যোগ দেন ছাত্রলীগে। প্রথমবার কাউন্সিলর হয়েই আলাদিনের চেরাগের মত বিপুল পরিমান আয় বর্হিভূূূূূত অর্থ সম্পদ অর্জন করেন। অবশ্য এ বিষয়ে হোসনেরে দাবি তিনি কখনো বিএনপি করেননি। কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক থেকে পরে সভাপতি হন তিনি।

মোহাম্মদ হোসেন বাড়িওয়ালাদের হোল্ডিং প্লেট দেবেন-এমন আশ্বাস দিয়ে দেড় লক্ষাধিক পরিবার থেকে ৪০০-৫০০ করে প্রায় কোটি টাকা তুললেও ৬ বছরে সেই প্লেট না পাওয়ার অভিযোগ কামরাঙ্গীরচরবাসীদের। পুরো থানার ডিস ব্যবসার একক নিয়ন্ত্রক এ আলোচিত-সমালোচিত কাউন্সিলর হোসেন।

জানা যায়, ২০১৪ সালে অন্য এক ব্যবসায়ীর থেকে জোর করে এসব ব্যবসা দখলে নেয় হোসেন, আর তাকে সহায়তা করেন কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক বিপ্লব। সাধারণ মানুষের জমি, খাসজমি, খেয়াঘাট, ট্রলারঘাট, রাস্তা, ফুটপাত, মার্কেট দখলের মতো অনেক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে হোসেনের বিরুদ্ধে। হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে এলাকায় ব্যাটারী চালিত রিকশা চলাচল করানোসহ প্রতি অটো রিকশা থেকে মাসে ১ হাজার করে ৫০ লক্ষাধিক টাকা চাঁদা তুলছে হোসেনের ক্যাডার বাহিনী।

একসময় টিনশেডের বাসায় মানবেতর জীবন-যাপন করা হোসেন এখন শতকোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। এরমধ্যে রয়েছে হুজুরপাড়া নূরজাহান স্কুলের সামনে ১০ কাঠা জমিতে বিলাশবহুল বাড়ি। আশ্রাফাবাদ দশআনি বাজারে ৭ কাঠা, ইসলামনগর মদিনাবাদ মসজিদের সামনে ৬তলা বাড়ি। আশ্রাফাবাদ, খালপাড়, আলীনগর, টেকেরহাটি, রসুলপুরসহ এলাকার সব অটোস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করে হোসনের ক্যাডার বিপ্লব। তার আরেক ক্যাডার ইসমাইলের বিরুদ্ধে রয়েছে টাকার বিনিময়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ। নামে-বেনামে একাধিকবার দুদকে লিখিত দরখাস্ত দিলেও হয়নি কোন প্রতিকার।

এছাড়াও বিভিন্ন সময় পুলিশকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে এ বিতর্কিত কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এলাকায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হামলা-মামলার পাশাপাশি মিথ্যা অপবাদ দেওয়া পুরোনো স্বভাব হয়ে দাড়িয়েছে তার। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। হোসেনের অত্যাচারে রাজনীতি হতে নিজেকে ঘুটিয়ে নিয়েছে পুরোনো আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা।

অন্যদিকে, ক্যাসিনোকান্ডে জড়িত গডফাদারদের সঙ্গে হোসেনের রয়েছে গভীর সখ্যতা। এসকল গডফাদার ও তাদের অর্জিত সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করছে এই হোসেন। অভিযোগ আছে এই হোসেন নেপথ্যে কাসিনোকান্ডে টাকা লগ্নি করার কারণে রাতারাতি বিশাল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।