ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে গমের চাহিদার প্রায় পুরোটায় আমদানি নির্ভর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০ ২১১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক;

 

>> দেশে গমের চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন

>> বাজারে গম সরবরাহের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় বেশি

>> আটা রফতানির অনুমতি দেয়ার পক্ষে সরকার

দেশে গমের চাহিদার প্রায় পুরোটায় আমদানি নির্ভর। এদিকে নানা কারণে এর উৎপাদন কমছে। তাই দিন দিন বাড়ছে গম আমদানির পরিমাণ। এ অবস্থাতে গম থেকে উৎপাদিত আটা রফতানির অনুমতি দিতে যাচ্ছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি চট্টগ্রামের মেসার্স তাহেরী ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাড়ে ২২ মেট্রিক টন আটা রফতানির অনুমতি চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। এর প্রক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনে একটি চিঠি পাঠায়।

মতামত দিয়ে ট্যারিফ কমিশন বলছে, ‘রফতানি নীতি ২০১৮-২১’ এ রফতানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা ও শর্তসাপেক্ষে রফতানিযোগ্য পণ্যের তালিকায় যেহেতু আটা, ময়দা ও সুজি অন্তর্ভুক্ত নেই, সেহেতু এগুলো রফতানিতে কোনো সমস্যা নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ প্রদানকারী সরকারি এ সংস্থাটি আরও বলছে, আটা, ময়দা ও সুজি মূলত গম থেকে উৎপাদন করা হয়। বাংলাদেশে মোট গমের চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন।

৫০ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে ২০১৭ সালে দেশে গম উৎপাদন হয়েছিল ১০ লাখ ৯৯ হাজার মেট্টিক টন। আর গম আমদানি হয়েছিল ৪৩ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন, অর্থাৎ মোট সরবরাহকৃত গমের পরিমাণ ৫৪ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন।

২০১৮ সালে আমদানি বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন, আর উৎপাদন হয় ১১ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন।২০১৮ সরবরাহকৃত মোট গমের পরিমাণ ৬০ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। আর ২০১৯ সালে নভেম্বর পর্যন্ত গম আমদানি হয় ৪৪ লাখ ২৩ হাজার মেট্রিক টন। পাশাপাশি উৎপাদন হয়েছে ১২ লাখ ৪৫ হাজার টন। অর্থাৎ, গত নভেম্বর পর্যন্ত সরবরাহকৃত মোট গমের পরিমাণ ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন।

ট্যারিফ কমিশন বলছে, গত তিন বছরের স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানির পরিমাণ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্থানীয় বাজারে সরবরাহের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত রয়েছে। তাই মেসার্স তাহেরী ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডকে আটা রফতানির অনুমতি দিলে তা স্থানীয় বাজারে কোনো সমস্যা হবে না।

বিষয়টি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সম্প্রতি ট্যারিফ কমিশন বাণিজ্য সচিবের কাছে তাদের এ মতামত পাঠায়।

আটা রফতানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি-না জানার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, রফতানির বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু চাহিদার তুলনায় বাজারে গম বেশি রয়েছে, তাই আটা রফতানির অনুমতি দেয়ার পক্ষে সরকার। যদি কখনো গমের ঘাটতি দেখা যায় তখন রফতানি বন্ধ করে দেয়া হবে।

এদিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) থেকে চলতি বছরের প্রথম দিকে বিশ্বের খাদ্যশস্যের উৎপাদন ও আমদানির চিত্র নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে সবচেয়ে দ্রুত হারে গমের আমদানি বাড়ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। পাঁচ বছর আগেও গম আমদানিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১০ দেশের তালিকার বাইরে ছিল বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরে এই তালিকায় বাংলাদেশ পঞ্চম।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের প্রধান কাজ দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণ। বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে শুল্কহার হ্রাস-বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে যৌক্তিকতাসহ সরকারকে যথাযথ পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে কমিশন দায়িত্ব পালন করে থাকে।

শিল্প প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পণ্যের উৎপাদন খরচ, কাঁচামালের আমদানি ব্যয়, পণ্যের আমদানি ব্যয়, জনবল, উৎপাদন ক্ষমতা, মূল্য সংযোজন, উৎপাদিত পণ্যের গুণগতমান ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে কমিশন সুপারিশ প্রণয়ন করে। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী বাজারের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়ে থাকে কমিশনের ‘মনিটরিং সেল’।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

দেশে গমের চাহিদার প্রায় পুরোটায় আমদানি নির্ভর

আপডেট সময় : ০২:০০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক;

 

>> দেশে গমের চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন

>> বাজারে গম সরবরাহের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় বেশি

>> আটা রফতানির অনুমতি দেয়ার পক্ষে সরকার

দেশে গমের চাহিদার প্রায় পুরোটায় আমদানি নির্ভর। এদিকে নানা কারণে এর উৎপাদন কমছে। তাই দিন দিন বাড়ছে গম আমদানির পরিমাণ। এ অবস্থাতে গম থেকে উৎপাদিত আটা রফতানির অনুমতি দিতে যাচ্ছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি চট্টগ্রামের মেসার্স তাহেরী ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাড়ে ২২ মেট্রিক টন আটা রফতানির অনুমতি চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। এর প্রক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনে একটি চিঠি পাঠায়।

মতামত দিয়ে ট্যারিফ কমিশন বলছে, ‘রফতানি নীতি ২০১৮-২১’ এ রফতানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা ও শর্তসাপেক্ষে রফতানিযোগ্য পণ্যের তালিকায় যেহেতু আটা, ময়দা ও সুজি অন্তর্ভুক্ত নেই, সেহেতু এগুলো রফতানিতে কোনো সমস্যা নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ প্রদানকারী সরকারি এ সংস্থাটি আরও বলছে, আটা, ময়দা ও সুজি মূলত গম থেকে উৎপাদন করা হয়। বাংলাদেশে মোট গমের চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন।

৫০ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে ২০১৭ সালে দেশে গম উৎপাদন হয়েছিল ১০ লাখ ৯৯ হাজার মেট্টিক টন। আর গম আমদানি হয়েছিল ৪৩ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন, অর্থাৎ মোট সরবরাহকৃত গমের পরিমাণ ৫৪ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন।

২০১৮ সালে আমদানি বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন, আর উৎপাদন হয় ১১ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন।২০১৮ সরবরাহকৃত মোট গমের পরিমাণ ৬০ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। আর ২০১৯ সালে নভেম্বর পর্যন্ত গম আমদানি হয় ৪৪ লাখ ২৩ হাজার মেট্রিক টন। পাশাপাশি উৎপাদন হয়েছে ১২ লাখ ৪৫ হাজার টন। অর্থাৎ, গত নভেম্বর পর্যন্ত সরবরাহকৃত মোট গমের পরিমাণ ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন।

ট্যারিফ কমিশন বলছে, গত তিন বছরের স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানির পরিমাণ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্থানীয় বাজারে সরবরাহের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত রয়েছে। তাই মেসার্স তাহেরী ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডকে আটা রফতানির অনুমতি দিলে তা স্থানীয় বাজারে কোনো সমস্যা হবে না।

বিষয়টি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সম্প্রতি ট্যারিফ কমিশন বাণিজ্য সচিবের কাছে তাদের এ মতামত পাঠায়।

আটা রফতানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি-না জানার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, রফতানির বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু চাহিদার তুলনায় বাজারে গম বেশি রয়েছে, তাই আটা রফতানির অনুমতি দেয়ার পক্ষে সরকার। যদি কখনো গমের ঘাটতি দেখা যায় তখন রফতানি বন্ধ করে দেয়া হবে।

এদিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) থেকে চলতি বছরের প্রথম দিকে বিশ্বের খাদ্যশস্যের উৎপাদন ও আমদানির চিত্র নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে সবচেয়ে দ্রুত হারে গমের আমদানি বাড়ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। পাঁচ বছর আগেও গম আমদানিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১০ দেশের তালিকার বাইরে ছিল বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরে এই তালিকায় বাংলাদেশ পঞ্চম।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের প্রধান কাজ দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণ। বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে শুল্কহার হ্রাস-বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে যৌক্তিকতাসহ সরকারকে যথাযথ পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে কমিশন দায়িত্ব পালন করে থাকে।

শিল্প প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পণ্যের উৎপাদন খরচ, কাঁচামালের আমদানি ব্যয়, পণ্যের আমদানি ব্যয়, জনবল, উৎপাদন ক্ষমতা, মূল্য সংযোজন, উৎপাদিত পণ্যের গুণগতমান ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে কমিশন সুপারিশ প্রণয়ন করে। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী বাজারের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়ে থাকে কমিশনের ‘মনিটরিং সেল’।