ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিআরটিসিতে দুর্নীতির বরপুত্র চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা Logo শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় Logo বরিশালে গণপূর্তে ঘুষ–চেক কেলেঙ্কারি! Logo ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস্ ক্রাইম রিপোর্টাস সোসাইটির কম্বল ও খাবার বিতরন Logo বাংলাদেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন Logo নাগরিক শোকসভা কাল: সঙ্গে আনতে হবে আমন্ত্রণপত্র Logo উত্তরায় হোটেলে চাঁদা চাওয়ায় সাংবাদিককে গণধোলাই Logo ৩০ লক্ষ টাকায় বনানী ক্লাবের সদস্য হওয়া দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কমিশনার জাকিরের পুনর্বাসন Logo চমেকে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করল দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন Logo তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পাদক-সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

শেষ চিঠিতে কর্মীদের উদ্দেশে যা বলেছিলেন ফজলে হাসান আবেদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৬৭ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন রিপোর্ট;
চলতি বছরের গত ৭ আগস্টে হঠাৎ করেই ৪৭ বছরে নিজের হাতে তিলে তিলে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের চেয়ারপারসনের পদ থেকে সরে দাঁড়ান স্যার ফজলে হাসান আবেদ।

সেদিন গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দেয়। কেন তিনি হঠাৎ করেই এমন সিদ্ধান্ত নিলেন। এরপরই নিজের সরে যাওয়ার কারণ জানিয়েছিলেন ফজলে হাসান আবেদ। ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যেই ব্র্যাকের চেয়ারপারসন পদ ছাড়েন বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি।

ভবিষ্যতে ব্র্যাককে কোন অবস্থানে দেখার স্বপ্ন দেখেন, বিদায়ের মুহূর্তে একটি চিঠির মাধ্যমে কর্মীদের সে কথাও জানিয়েছেন ফজলে হাসান আবেদ।

কর্মীদের উদ্দেশে লেখা আবেগঘন ওই চিঠিতে ফজলে হাসান আবেদ বলেন, ব্র্যাকে আমার পরবর্তী নেতৃত্ব কে দেবেন তা নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে ভেবেছি। সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিয়েছি আমি। আমি সবসময় ভেবে রেখেছি যে, ব্র্যাকের জন্য এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলব, যাতে আমার অবর্তমানেও ব্র্যাক তার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পারে। আমি একটি পেশাদার এবং সুশৃঙ্খল পালাবদল নিশ্চিত করতে চাই।

২০০১ সালে ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ করার পরই ব্র্যাকের ভবিষ্যত নেতৃত্ব নিয়ে ভাবনা শুরু করেন বলে চিঠিতে জানান ফজলে হাসান আবেদ।

চিঠিতে ব্র্যাকের চেয়ারপারসন হওয়ার বিষয়ে তিনি লিখেছেন, ব্র্যাকের নেতৃত্ব অন্যদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে একথা সবসবময়ই মাথায় থাকত আমার। আমি নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। ব্র্যাকের কাজ পরিচালনা করার জন্য তখন নতুন একজন নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ দেয়া হলো। আমি ব্র্যাকের বোর্ড সদস্য হলাম। সে সময় ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ছিলেন সৈয়দ হুমায়ুন কবীর। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতারই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারপারসন হওয়া উচিত বলে প্রস্তাব করলেন তিনি। তখন থেকেই আমি ব্র্যাকের চেয়ারপারসন হলাম।

বর্তমানে স্যার ফজলে হাসান আবেদের বয়স ৮৩ বছর। তাই এখনই চেয়ারপারসনের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময় বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, এ বয়সে এসে চেয়ারপারসন হিসেবে ব্র্যাক এবং ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের বোর্ডের সক্রিয় ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়াবার এটিই সঠিক সময়। তাই আমি ব্র্যাক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল সুপারভাইজরি বোর্ডের চেয়ারপারসনের পদ থেকে অবসর নিয়েছি।

অবসর নিলেও তিলে তিলে গড়ে তোলা নিজের এ প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করে যাবেন ফজলে হাসান আবেদ। সে কথাই কর্মীদের জানালেন তিনি।

এ বিষয়ে তিনি লিখেছেন, ব্র্যাকের পরিচালনা পর্ষদ আমাকে ব্র্যাকের চেয়ার ইমেরিটাস নির্বাচিত করেছেন। আমি এখনও নিয়মিত অফিসে আসব। তবে আগামী কয়েক মাস আমি ব্র্যাকের ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল এবং পরিচালনা কাঠামো নির্ধারণের বিষয়ে মনোযোগ দেব।

আগামী দিনের ব্র্যাক কেমন হবে তা নিয়ে ফজলে হাসান আবেদ বলেন,ব্ র্যাক তার যাত্রা শুরু করেছিল ‘বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি’ এই নাম নিয়ে। এখন কেউ আমাকে যখন জিজ্ঞাসা করেন ব্র্যাক মানে কী? আমি তাদের বলি, ব্র্যাক শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নাম নয়, ব্র্যাক একটি স্বপ্ন, একটি প্রচেষ্টা। এটি এমন একটি পৃথিবীর প্রচেষ্টা, যেখানে সব মানুষ তার সম্ভাবনা বিকাশের সমান সুযোগ লাভ করবেন।

ব্র্যাকের ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরে আমরা আমাদের কাজের প্রভাব পৃথিবীর আরও বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৫০ মিলিয়ন মানুষের কাছে ব্র্যাক যেন পৌঁছে যায়, সেটিই আমার প্রত্যাশা।

ব্র্যাকের সাবেক ও বতর্মান সব কর্মীদের প্রশংসা করেন তিনি চিঠিতে লেখেন, আমার একার পক্ষে কখনোই সম্ভব হতো না। জীবনভর যে আস্থা, বন্ধুত্ব, সহযোগিতা, সমর্থন এবং অঙ্গীকার তোমাদের কাছ থেকে আমি পেয়েছি, তার জন্য শুধু ধন্যবাদ দিয়ে তোমাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা আমি বোঝাতে পারব না। তোমরা তোমাদের সীমাহীন সাহস দিয়ে সবসময় আমার স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে এসেছো। আনুষ্ঠানিকভাবে ব্র্যাক বোর্ডের চেয়ারপারসন পদ থেকে অবসর নিলেও, আমি তোমাদের পাশেই আছি। আগামী দিনগুলোতে আমি ব্র্যাকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিশ্বব্যাপী আমাদের অবস্থান কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়ে কাজ করে যেতে চাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

শেষ চিঠিতে কর্মীদের উদ্দেশে যা বলেছিলেন ফজলে হাসান আবেদ

আপডেট সময় : ১০:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৯

অনলাইন রিপোর্ট;
চলতি বছরের গত ৭ আগস্টে হঠাৎ করেই ৪৭ বছরে নিজের হাতে তিলে তিলে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের চেয়ারপারসনের পদ থেকে সরে দাঁড়ান স্যার ফজলে হাসান আবেদ।

সেদিন গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দেয়। কেন তিনি হঠাৎ করেই এমন সিদ্ধান্ত নিলেন। এরপরই নিজের সরে যাওয়ার কারণ জানিয়েছিলেন ফজলে হাসান আবেদ। ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যেই ব্র্যাকের চেয়ারপারসন পদ ছাড়েন বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি।

ভবিষ্যতে ব্র্যাককে কোন অবস্থানে দেখার স্বপ্ন দেখেন, বিদায়ের মুহূর্তে একটি চিঠির মাধ্যমে কর্মীদের সে কথাও জানিয়েছেন ফজলে হাসান আবেদ।

কর্মীদের উদ্দেশে লেখা আবেগঘন ওই চিঠিতে ফজলে হাসান আবেদ বলেন, ব্র্যাকে আমার পরবর্তী নেতৃত্ব কে দেবেন তা নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে ভেবেছি। সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিয়েছি আমি। আমি সবসময় ভেবে রেখেছি যে, ব্র্যাকের জন্য এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলব, যাতে আমার অবর্তমানেও ব্র্যাক তার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পারে। আমি একটি পেশাদার এবং সুশৃঙ্খল পালাবদল নিশ্চিত করতে চাই।

২০০১ সালে ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ করার পরই ব্র্যাকের ভবিষ্যত নেতৃত্ব নিয়ে ভাবনা শুরু করেন বলে চিঠিতে জানান ফজলে হাসান আবেদ।

চিঠিতে ব্র্যাকের চেয়ারপারসন হওয়ার বিষয়ে তিনি লিখেছেন, ব্র্যাকের নেতৃত্ব অন্যদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে একথা সবসবময়ই মাথায় থাকত আমার। আমি নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। ব্র্যাকের কাজ পরিচালনা করার জন্য তখন নতুন একজন নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ দেয়া হলো। আমি ব্র্যাকের বোর্ড সদস্য হলাম। সে সময় ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ছিলেন সৈয়দ হুমায়ুন কবীর। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতারই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারপারসন হওয়া উচিত বলে প্রস্তাব করলেন তিনি। তখন থেকেই আমি ব্র্যাকের চেয়ারপারসন হলাম।

বর্তমানে স্যার ফজলে হাসান আবেদের বয়স ৮৩ বছর। তাই এখনই চেয়ারপারসনের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময় বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, এ বয়সে এসে চেয়ারপারসন হিসেবে ব্র্যাক এবং ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের বোর্ডের সক্রিয় ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়াবার এটিই সঠিক সময়। তাই আমি ব্র্যাক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল সুপারভাইজরি বোর্ডের চেয়ারপারসনের পদ থেকে অবসর নিয়েছি।

অবসর নিলেও তিলে তিলে গড়ে তোলা নিজের এ প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করে যাবেন ফজলে হাসান আবেদ। সে কথাই কর্মীদের জানালেন তিনি।

এ বিষয়ে তিনি লিখেছেন, ব্র্যাকের পরিচালনা পর্ষদ আমাকে ব্র্যাকের চেয়ার ইমেরিটাস নির্বাচিত করেছেন। আমি এখনও নিয়মিত অফিসে আসব। তবে আগামী কয়েক মাস আমি ব্র্যাকের ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল এবং পরিচালনা কাঠামো নির্ধারণের বিষয়ে মনোযোগ দেব।

আগামী দিনের ব্র্যাক কেমন হবে তা নিয়ে ফজলে হাসান আবেদ বলেন,ব্ র্যাক তার যাত্রা শুরু করেছিল ‘বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি’ এই নাম নিয়ে। এখন কেউ আমাকে যখন জিজ্ঞাসা করেন ব্র্যাক মানে কী? আমি তাদের বলি, ব্র্যাক শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নাম নয়, ব্র্যাক একটি স্বপ্ন, একটি প্রচেষ্টা। এটি এমন একটি পৃথিবীর প্রচেষ্টা, যেখানে সব মানুষ তার সম্ভাবনা বিকাশের সমান সুযোগ লাভ করবেন।

ব্র্যাকের ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরে আমরা আমাদের কাজের প্রভাব পৃথিবীর আরও বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৫০ মিলিয়ন মানুষের কাছে ব্র্যাক যেন পৌঁছে যায়, সেটিই আমার প্রত্যাশা।

ব্র্যাকের সাবেক ও বতর্মান সব কর্মীদের প্রশংসা করেন তিনি চিঠিতে লেখেন, আমার একার পক্ষে কখনোই সম্ভব হতো না। জীবনভর যে আস্থা, বন্ধুত্ব, সহযোগিতা, সমর্থন এবং অঙ্গীকার তোমাদের কাছ থেকে আমি পেয়েছি, তার জন্য শুধু ধন্যবাদ দিয়ে তোমাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা আমি বোঝাতে পারব না। তোমরা তোমাদের সীমাহীন সাহস দিয়ে সবসময় আমার স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে এসেছো। আনুষ্ঠানিকভাবে ব্র্যাক বোর্ডের চেয়ারপারসন পদ থেকে অবসর নিলেও, আমি তোমাদের পাশেই আছি। আগামী দিনগুলোতে আমি ব্র্যাকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিশ্বব্যাপী আমাদের অবস্থান কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়ে কাজ করে যেতে চাই।