ঢাকা ০৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

পেঁয়াজের দাম যেন পাগলা ঘোড়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০১৯ ২৭৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বাজারে দফায় দফায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। এর সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। আর শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমছে না। উল্টো সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, শান্তিনগর অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, নতুন করে কিছু সবজির দাম বাড়ায় চারটি সবজির কেজি বিক্রি হচ্ছে একশ টাকা বা তার বেশি দামে। দুয়েকটি বাদে বাকি সবগুলোর দামও একশ টাকার কাছাকাছি। সবজির এমন দাম শুনে বিরক্ত হচ্ছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এদিকে অনেকটা পাগলা ঘোড়ার মতোই যেন ছুটছে পেঁয়াজের দাম। কারণ গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম তিন দফা বেড়েছে। ফলে বেশিরভাগ বাজারেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি। সবজি ও পেঁয়াজের এমন দামে অনেকটাই দিশেহারা অবস্থা নিম্ন আয়ের মানুষদের।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহে যেসব বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা বিক্রি হয়, সেই বাজারগুলোতে এখন দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা কেজি। আর ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে তিন দফা। প্রথম দফায় কেজিতে ১০ টাকা এবং পরের দুই দফায় কেজিতে ২০ টাকা করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা।

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী জহির বলেন, পেঁয়াজের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে আমরাও বিস্মিত। বাণিজ্যমন্ত্রীর পর প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন- পেঁয়াজের দাম কমে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আমরা ধারণা করেছিলাম এবার হয়তো পেঁয়াজের দাম কমবে। কিন্তু বাস্তবে দেখছি উল্টো। দাম তো কমেইনি উল্টো আরও বেড়েছে।

এদিকে কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগমের পাশাপাশি সব ধরনের সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এরপরও কোনো সবজির দাম কমেনি। উল্টো কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

নতুন করে দাম বেড়ে বেগুনের কেজি কিছু কিছু বাজারে ১০০ টাকায় উঠেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬০-৭০ টাকা কেজি। তবে এখনও কিছু কিছু বাজারে বেগুনের কেজি ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের সঙ্গে নতুন করে দাম বেড়েছে গাজর ও পাকা টমেটোর। মানভেদে গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০-১২০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৮০ টাকা কেজি। আর গত সপ্তাহে ১২০-১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটোর দাম বেড়ে হয়েছে ১৪০-১৬০ টাকা।

নতুন করে দাম না বাড়লেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শীতের আগাম সবজি শিম, মুলা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি। শিমের দাম গত সপ্তাহের মতো ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকা পিস। ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে পাতাকপি। মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪০ টাকা।

শীতের আগাম সবজির সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লাউ, করলা, ঝিঙে, বরবটি, পটল, ঢেঁড়স, উসি, ধুন্দুলসহ সব ধরনের সবজি। গত সপ্তাহের মতো ছোট আকারের লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা পিস।

করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বরবটি। চিচিংগা, ঝিঙা, ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। এ সবজিগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটলের দাম বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে।

রামপুরার ব্যবসায়ী সবুর বলেন, বাজারে সবজির কোনো ঘাটতি নেই। আড়তে গেলে সব ধরনের সবজি চাহিদা অনুযায়ী কেনা যাচ্ছে। কিন্তু দাম বেশি। যে কারণে আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে যে হারে বাজারে সবজি আসছে তাতে দাম কমে যাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, সবজির দাম বাড়া-কমার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সবজির দাম অনেকটাই নির্ভর করে কারওয়ানবাজারের আড়তদারদের ওপর। আড়তে দাম কমলে খুচরা বাজারে দাম কমে যাবে।

কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী সিহাব বলেন, হঠাৎ করে দুদিন বৃষ্টি হয়েছে। এতে নষ্ট হয়েছে সবজির কিছু ক্ষেত। এ কারণে সবজির দাম এখনও কিছুটা চড়া। তবে আমাদের ধারণা শিগগিরই সবজির দাম কমে যাবে।

সবজির দাম বাড়ার পেছনে কোনো কারসাজি নেই এমন দাবি করে তিনি বলেন, কাঁচামাল মজুদ করে রাখা যায় না। একদিনের মাল আর একদিন নিয়ে গেলেই পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পেঁয়াজের মতো মজুদ করে রেখে সবজির দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। সবজির দাম স্বাভাবিক নিয়মেই বাড়ে-কমে।

রামপুরার বাসিন্দা মামুন বলেন, আমরা আসলে মগের মুল্লুকে আছি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন পেঁয়াজের বড় চালান দেশে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা দেখছি কী, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর উল্টো পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেল।

তিনি বলেন, বাজারে কার্যকরী মনিটরিং নেই। যে কারণে হুটহাট করে একটার পর একটা পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। দুম-দাম করে পণ্যের দাম বাড়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে কোনো বিশেষ চক্র এভাবে একটার পর একটা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে কি-না তা ক্ষতিয়ে দেখা উচিত।

হাজিপাড়ার বাসিন্দা আলেয়া বেগম বলেন, বাজারে গিয়ে পেঁয়াজ ও সবজির দাম শুনলেই মনটা খরাপ হয়ে যায়। একটা-দুইটার বেশি সবজি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে বেশিরভাগ সময় কোনো রকমে একটু সবজি নিয়ে ভাত খেতে হয়। আমাদের মতো গরিব মানুষের এ কষ্ট বোঝার কেউ নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

পেঁয়াজের দাম যেন পাগলা ঘোড়া

আপডেট সময় : ০২:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বাজারে দফায় দফায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। এর সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। আর শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমছে না। উল্টো সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, শান্তিনগর অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, নতুন করে কিছু সবজির দাম বাড়ায় চারটি সবজির কেজি বিক্রি হচ্ছে একশ টাকা বা তার বেশি দামে। দুয়েকটি বাদে বাকি সবগুলোর দামও একশ টাকার কাছাকাছি। সবজির এমন দাম শুনে বিরক্ত হচ্ছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এদিকে অনেকটা পাগলা ঘোড়ার মতোই যেন ছুটছে পেঁয়াজের দাম। কারণ গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম তিন দফা বেড়েছে। ফলে বেশিরভাগ বাজারেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি। সবজি ও পেঁয়াজের এমন দামে অনেকটাই দিশেহারা অবস্থা নিম্ন আয়ের মানুষদের।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহে যেসব বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা বিক্রি হয়, সেই বাজারগুলোতে এখন দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা কেজি। আর ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে তিন দফা। প্রথম দফায় কেজিতে ১০ টাকা এবং পরের দুই দফায় কেজিতে ২০ টাকা করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা।

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী জহির বলেন, পেঁয়াজের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে আমরাও বিস্মিত। বাণিজ্যমন্ত্রীর পর প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন- পেঁয়াজের দাম কমে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আমরা ধারণা করেছিলাম এবার হয়তো পেঁয়াজের দাম কমবে। কিন্তু বাস্তবে দেখছি উল্টো। দাম তো কমেইনি উল্টো আরও বেড়েছে।

এদিকে কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগমের পাশাপাশি সব ধরনের সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এরপরও কোনো সবজির দাম কমেনি। উল্টো কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

নতুন করে দাম বেড়ে বেগুনের কেজি কিছু কিছু বাজারে ১০০ টাকায় উঠেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬০-৭০ টাকা কেজি। তবে এখনও কিছু কিছু বাজারে বেগুনের কেজি ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের সঙ্গে নতুন করে দাম বেড়েছে গাজর ও পাকা টমেটোর। মানভেদে গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০-১২০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৮০ টাকা কেজি। আর গত সপ্তাহে ১২০-১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটোর দাম বেড়ে হয়েছে ১৪০-১৬০ টাকা।

নতুন করে দাম না বাড়লেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শীতের আগাম সবজি শিম, মুলা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি। শিমের দাম গত সপ্তাহের মতো ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকা পিস। ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে পাতাকপি। মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪০ টাকা।

শীতের আগাম সবজির সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লাউ, করলা, ঝিঙে, বরবটি, পটল, ঢেঁড়স, উসি, ধুন্দুলসহ সব ধরনের সবজি। গত সপ্তাহের মতো ছোট আকারের লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা পিস।

করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বরবটি। চিচিংগা, ঝিঙা, ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। এ সবজিগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটলের দাম বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে।

রামপুরার ব্যবসায়ী সবুর বলেন, বাজারে সবজির কোনো ঘাটতি নেই। আড়তে গেলে সব ধরনের সবজি চাহিদা অনুযায়ী কেনা যাচ্ছে। কিন্তু দাম বেশি। যে কারণে আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে যে হারে বাজারে সবজি আসছে তাতে দাম কমে যাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, সবজির দাম বাড়া-কমার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সবজির দাম অনেকটাই নির্ভর করে কারওয়ানবাজারের আড়তদারদের ওপর। আড়তে দাম কমলে খুচরা বাজারে দাম কমে যাবে।

কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী সিহাব বলেন, হঠাৎ করে দুদিন বৃষ্টি হয়েছে। এতে নষ্ট হয়েছে সবজির কিছু ক্ষেত। এ কারণে সবজির দাম এখনও কিছুটা চড়া। তবে আমাদের ধারণা শিগগিরই সবজির দাম কমে যাবে।

সবজির দাম বাড়ার পেছনে কোনো কারসাজি নেই এমন দাবি করে তিনি বলেন, কাঁচামাল মজুদ করে রাখা যায় না। একদিনের মাল আর একদিন নিয়ে গেলেই পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পেঁয়াজের মতো মজুদ করে রেখে সবজির দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। সবজির দাম স্বাভাবিক নিয়মেই বাড়ে-কমে।

রামপুরার বাসিন্দা মামুন বলেন, আমরা আসলে মগের মুল্লুকে আছি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন পেঁয়াজের বড় চালান দেশে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা দেখছি কী, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর উল্টো পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেল।

তিনি বলেন, বাজারে কার্যকরী মনিটরিং নেই। যে কারণে হুটহাট করে একটার পর একটা পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। দুম-দাম করে পণ্যের দাম বাড়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে কোনো বিশেষ চক্র এভাবে একটার পর একটা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে কি-না তা ক্ষতিয়ে দেখা উচিত।

হাজিপাড়ার বাসিন্দা আলেয়া বেগম বলেন, বাজারে গিয়ে পেঁয়াজ ও সবজির দাম শুনলেই মনটা খরাপ হয়ে যায়। একটা-দুইটার বেশি সবজি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে বেশিরভাগ সময় কোনো রকমে একটু সবজি নিয়ে ভাত খেতে হয়। আমাদের মতো গরিব মানুষের এ কষ্ট বোঝার কেউ নেই।