• ২৩শে এপ্রিল ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সকালের সংবাদ ডেস্ক;
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৯, ২৩:০৬ অপরাহ্ণ
সম্রাট-শাওনসহ ১২ জনের ব্যাংক হিসাব তলব, শামীম-খালেদ স্বজনদের হিসাব জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার ক্যাসিনোর প্রতিরাতের টাকা কোথায় যেত, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রভাবশালী কোন কোন নেতা এই টাকার ভাগ পেতেন তাদের নামের তালিকা পেয়েছে গোয়েন্দারা। নেপথ্য গডফাদার হিসেবে ক্যাসিনোকে যারা এগিয়ে নিয়েছেন, সেই সব প্রভাবশালীদের তালিকাও এখন তাদের হাতে। যাচাই-বাছাইয়ের পর শিগগিরই এই তালিকা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে শাসক দলের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ ১২ জনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। এ ছাড়া রিমান্ডে থাকা যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব স্থগিত (অবরুদ্ধ) করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শামীমের ব্যাংক হিসাবে ৩০০ কোটি টাকা আছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। গত রবিবার সকালে জি কে শামীমের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য বড় অঙ্কের কয়েকটি চেক ব্যাংকে জমা পড়ে। এরপর ব্যাংকগুলো থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগ করে পরামর্শ চাওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ওইদিন দুপুরের মধ্যেই নির্দেশনা জারি করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোয়েন্দাদের জেরার মুখে টেন্ডার কিং জি কে শামীম এবং ক্যাসিনো রাজা খালেদ টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। তারা বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিকের নাম বলেছেন। যাদের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের। এ ছাড়া কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ ওরফে কালা ফিরোজও মুখ খুলতে শুরু করেছে। আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন কালা ফিরোজের কাছ থেকে গোয়েন্দারা ক্যাসিনো চালানো এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। সূত্র জানায়, পুলিশের তদন্ত বাদেও এই তিন মাফিয়ার বিরুদ্ধে এনবিআর তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। ওই দুই যুবলীগ নেতা গ্রেফতারের পর তাদের সম্পদের তথ্য নিতে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত রবিবার এনবিআরের অনুরোধে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে যুবলীগ নেতা খালেদ ও জি কে শামীমসহ তাদের আত্মীয়স্বজনের নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ (স্থগিত) করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল জিকে শামীমের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য চেক জমা পড়ে। তবে এসব চেকে কোনো টাকা দেয়নি ব্যাংকগুলো। সূত্র জানায়, এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ ১২ জনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব তলবের তালিকায় অন্যরা হলেন- নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের স্ত্রী ফারজানা চৌধুরী, প্রশান্ত কুমার হালদার, আফসার উদ্দীন মাস্টার, আয়েশা আক্তার, শামীমা সুলতানা, শেখ মাহামুদ জোনাইদ, মো. জহুর আলম, এস এম আজমল হোসেন, ব্রজ গোপাল সরকার ও শরফুল আওয়াল। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের হিসাব স্থগিত করা হয়েছে। বাকিদের হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, গত রবিবার সকালে জি কে শামীমের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য বড় অঙ্কের কয়েকটি চেক ব্যাংকে জমা পড়ে। এরপর ব্যাংকগুলো থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগ করে পরামর্শ চাওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ওইদিন দুপুরের মধ্যেই নির্দেশনা জারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, জি কে শামীম, তার স্ত্রী ও মা-বাবার নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করতে হবে।

টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনোর টাকা বিদেশে : দেশে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির টাকা ছাড়াও ক্যাসিনোর টাকার ভাগ যেত বিদেশে পালিয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের কাছে। সে টাকা পাঠানো হতো ওমানের মাসকট ব্যাংকের মাধ্যমে। ওমানে থাকা আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী নাদিম সেখান থেকে টাকা তুলে জার্মানিতে থাকা জিসানের কাছে পৌঁছিয়ে দিত। ঢাকা থেকে এই আয়োজন করে দিতেন ইসমাইল হোসেন সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জি কে শামীম গং। সবসময় একই রুট অনুসরণ করা হতো না। কখনো কখনো সিঙ্গাপুর হয়েও টাকা যেত জিসানের কাছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, জি কে বিল্ডার্স নামের একটি কোম্পানি বর্তমানে শামীমের নামে থাকলেও তা একসময় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের অংশীদারিত্ব ছিল। জিসান দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর কোম্পানিটির হাল ধরেন অপর সন্ত্রাসী নাদিম ওরফে টিএনটি নাদিম। এরপর নাদিমও দেশ ছাড়া হলে তা জি কে শামীমের হাতে চলে আসে। এই জিসান, নাদিম ও শামীম তিনজনই বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় যুবদলের রাজনীতি করতেন। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু বড় বড় টেন্ডারে কাজ পেয়েছে জি কে বিল্ডার্স। আর সেখানে সহায়তা করছেন যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। সূত্র জানায়, অন্য কেউ টেন্ডার জমা দিলেও সম্রাট ও খালেদের হস্তক্ষেপে তা বাতিল হয়ে যেত। কাজ যেত জি কে বিল্ডার্সের হাতে। এর থেকে আয় করা টাকার একটা মোটা অঙ্ক সম্রাট ও খালেদ পেতেন। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নির্ভরযোগ্য সূত্রটি আরও জানায়, এই জি কে বিল্ডার্সের একটি শাখা রয়েছে সিঙ্গাপুরে। যেখানে টিএনটি নাদিম বসেন। শামীম, সম্রাট, খালেদও মাঝে মধ্যে সেখানে যান। আর ওদিকে জার্মানি থেকে উড়ে আসেন শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানও। ওই অফিসে বসেই টেন্ডার বাগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাগুলো হয়। তবে কেবল সিঙ্গাপুরই নয়, ওমানের রাজধানী মাসকটও এই সন্ত্রাসী চক্রের আরেকটি হাব বলেও জিজ্ঞাসাবাদে বের হয়ে এসেছে বলে জানায় গোয়েন্দা সূত্র। সূত্রমতে, সন্ত্রাসী টিএনটি নাদিম মাঝে মধ্যে ওমান ও দুবাইতে গিয়েও থাকেন। সেখান থেকে ঢাকায় তার লোকজন দিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। জিসান ও নাদিমের হয়ে যারা কাজ করছেন মগবাজার টিএনটি কলোনির জাকির, নয়াটোলার সেন্টু ও শোভন, বাড্ডার নাসির ও খোকন। এখনো তারা জিসান ও নাদিমের হয়ে চাঁদাবাজি করছেন বলেও গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। আর টেন্ডারবাজিতে সম্রাট, খালেদের সহায়তায় কাজ না হলে, সন্ত্রাসী এই চক্রটিকে কাজে লাগিয়ে হত্যা, অপহরণের হুমকি দিয়ে টেন্ডার বাগিয়ে নেওয়া হতো। অধিকাংশ সময়ে সহায়তায় কাজ হতো। ফলে টেন্ডার বাগানোর পর নাদিম ও জিসান সিঙ্গাপুরে চলে যেত আর শামীম, সম্রাট ও খালেদ উড়াল দিতেন ঢাকা থেকে। এই টেন্ডার ও ক্যাসিনোর টাকার ভাগ সিঙ্গাপুর থেকে ওমানের মাসকট ব্যাংকে পাঠানো হতো। আর সেখান থেকে ঢাকা যেত জামার্নিতে। ওমানের মাসকট ব্যাংকে যে অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হতো সেই অ্যাকাউন্টের নম্বর গোয়েন্দাদের কাছে রয়েছে এমনটা জানিয়ে সূত্রটি ৪৮৩৭৯১৩১৯৪৭৯৭৯৭৮ নম্বরটিকে ওই অ্যাকাউন্ট নম্বর বলে এই প্রতিবেদককে জানায়। সূত্র জানায়, এই টাকা সরাসরি কখনো সম্রাট আবার কখনো খালেদ নিজেই পাঠাতেন। আবার মাঝে মধ্যে জাকির ও আরমানের মাধ্যমে টাকা মাসকট ব্যাংকে পাঠানো হতো। সূত্র আরও জানায়, কিছু দিন হলো শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে যুবলীগের খালেদের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:১৭
  • ১২:০১
  • ৪:৩০
  • ৬:২৬
  • ৭:৪৩
  • ৫:৩৩